


নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: বাংলাদেশি মডেলের আধার কার্ডের ঠিকানায় উল্লেখ রয়েছে বর্ধমানের বড়শুল এলাকার নাম। অর্থাৎ, ওই এলাকারই তিনি বাসিন্দা। অথচ, বড়শুলের রজডাঙার বাসিন্দারা তাঁকে চেনেন না। তাঁকে কেউ কোনও দিন আসতেও দেখেননি। তাঁর পূর্ব পুরুষদেরও কেউ চেনেন না। তারপরও ওই অভিনেত্রী বা মডেলের কিভাবে ওই ঠিকানায় আধারকার্ড তৈরি হল, তা নিয়েই পুলিস ধোঁয়াশায়। শুরু হয়েছে তদন্ত। ওই এলাকার বাসিন্দাদের সঙ্গে আধিকারিকরা কথা বলেছেন। রজডাঙার পঞ্চায়েত সদস্য অরুণ গোলদার বলেন, ‘শান্তা পাল নামে কেউ আমাদের এলাকায় কোনও দিনই ছিলেন না। তাঁর বাবা হিসেবে যাঁর নাম আধার কার্ডে উল্লেখ রয়েছে, তাঁরও কোনও অস্তিত্ব নেই। এদিন বিষয়টি জানার পর আমরা ওই গ্রামের বাড়ি বাড়ি গিয়ে খোঁজ নিয়েছি। ভোটার তালিকায়ও ওই অভিনেত্রীর নাম নেই। তবে তাঁর ভুয়ো ভোটার কার্ড থাকতে পারে। পুলিস বিষয়টি তদন্ত করে দেখছে।’
ভুয়ো আধারকার্ড তৈরি করার পিছনে একটি চক্র কাজ করেছে বলে প্রাথমিকভাবে তদন্তকারীদের অনুমান। এর আগেও জেলায় একাধিক ভুয়ো আধারকার্ড, জন্ম সার্টিফিকেট তৈরি চক্রের হদিশ পুলিস পেয়েছিল। ওই চক্রে শক্তিগড়েরও কয়েকজনের নাম উঠে এসেছিল। এক পুলিস আধিকারিক বলেন, বিষয়টি জানার পরই থানাকে খোঁজ নেওয়ার জন্য বলা হয়েছে।
পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, শান্তা পাল নামে বাংলাদেশি ওই মডেলকে লালবাজারের গুণ্ডাদমন শাখা গ্রেপ্তার করেছে। তাঁর কাছে থেকে বাংলাদেশের কয়েকটি নথি উদ্ধারের পাশাপাশি এ রাজ্যের আধারকার্ড পাওয়া গিয়েছে। ওই অভিনেত্রী কলকাতার বিক্রমগড়ের একটি ফ্ল্যাটে থাকতেন। একটি বেসরকারি সংস্থার পক্ষ থেকে এশিয়া সুন্দরী পুরষ্কারও দেওয়া হয়েছে তাঁকে। তিনি এক সময় কেবিন ক্রু হিসেবে কাজ করতেন। বহুদিন ধরেই এ রাজ্যে রয়েছেন। তবে তাঁর সঙ্গে পূর্ব বর্ধমানের শক্তিগড় থানার বড়শুল এলাকার যোগাযোগ কীভাবে গড়ে উঠল, তা নিয়ে আধিকারিকরা ধন্দে। তাঁর নিয়মিত বাংলাদেশেও যাতায়ত ছিল।
পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, জাল জন্মসার্টিফিকেট এবং ভুয়ো আধার কার্ড তৈরি করার একটি চক্র মুনাফা তুলছে। চক্রটি এলাকার কাউকে ভুয়ো ‘বাবা’ সাজিয়ে আধার কার্ড বানিয়ে দিচ্ছে। প্রতিটি কার্ড পিছু তাঁরা তিন থেকে চার হাজার টাকা নেয়। পূর্ব বর্ধমান জেলা পুলিস এই চক্রের কয়েকজনকে আগে আউশগ্রাম, নাদনঘাট সহ কয়েকটি থানা এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করেছে। চক্রটি নদীয়া, মুর্শিদাবাদের মতো জেলাগুলিতে সক্রিয়। পুলিস সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, বাংলাদেশি ওই মডেল বিভিন্ন রাজ্যে গিয়েছে। তাঁর সঙ্গেই অনেকেরই যোগাযোগ রয়েছে। কোন যোগাযোগ মাধ্যমকে কাজে লাগিয়ে তিনি আধারকার্ড তৈরি করেছিলেন, তা তদন্তকারীরা খতিয়ে দেখছেন। লালবাজারের গুণ্ডাদমন শাখার আধিকারিকরাও এই বিষয়টি নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে। ওই অভিনেত্রীকেও জেরা করে চক্রের পাণ্ডাদের হদিশ পাওয়ার চেষ্টা করছে পুলিসের সব মহল।