নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ট্রাফিক গার্ডের হয়ে টাকা তুলে অপারেটরা শুধু সার্জেন্টদের কাছে পাঠিয়েছে, নাকি উপরওয়ালাদের কাছেও পৌঁছে দিয়েছে, তার প্রমাণ খুঁজছেন দুর্নীতি দমন শাখার অফিসাররা। সেই কারণেই সার্জেন্টদের জেরা করে উত্তর জানার চেষ্টা চলছে। মাথাদের বাদ দিয়ে সার্জেন্টের একার পক্ষে দীর্ঘদিন এই কাজ চালিয়ে যাওয়া কার্যত অসম্ভব বলে মনে করছেন তদন্তকারীরা।
নো এন্ট্রি এবং একমুখী রাস্তায় ট্রাক চলাচলের সুযোগ করে দিয়ে ট্রাফিক গার্ডের হয়ে টাকা তোলার ঘটনায় ইতিমধ্যেই গ্রেপ্তার হয়েছে অপারেটর সঞ্জীব নন্দী। ডাক পড়েছে তিন অফিসারের। এরমাঝে বেশ কয়েকজন পুলিশ কর্মীর সঙ্গে কথা বলেছেন তদন্তকারীরা। তাঁরা বুঝতে পারছেন, কলকাতা ও জেলায় ট্রাফিক গার্ডের সার্জেন্ট ছাড়াও তাঁর উপরের তলার পুলিশ কর্মীরা রাস্তায় থাকেন। তাই এই বেনিয়ম কোনও না কোনও সময় চোখে পড়ত। যেহেতু তা ধরা পড়েনি, তাই উপরের তলায় থাকা পুলিশ কর্মীদের ক্লিনচিট দেওয়া যায় না বলে মনে করছেন তদন্তকারীরা। প্রাথমিকভাবে দুটি স্তরে টাকা যাওয়ার তথ্য সামনে আসছে। তদন্তে উঠে আসছে, বিভিন্ন ট্রাফিক গার্ডে পুলিশ অফিসারদের একাংশ রীতিমতো মৌরসি পাট্টা গড়ে তুলেছেন। নিজেদের মতো করে বদলির সিন্ডিকেট চালাচ্ছেন। এক গার্ড থেকে বদলি হওয়া অফিসার আগের জায়গা থেকে মাসোহারা তুলে যাচ্ছেন। সেখানকার অফিসারদের ফোন করে বলে দিচ্ছেন, এই গাড়ির মাসোহারা তাঁর কাছে আসে। তাই যেন গাড়ি ছেড়ে দেওয়া হয়। সঞ্জীব জেরায় জানিয়েছে, তার ধরা পড়া গাড়ি এভাবেই অন্য গার্ডে বদলি হওয়া সার্জেন্ট ছাড়িয়ে দিয়েছেন। তবে সঞ্জীব ছাড়াও আরও যে সমস্ত অপারেটরদের নাম উঠে আসছে, তাদের সঙ্গে কাদের যোগ রয়েছে সেটাই জানার চেষ্টা চলছে।