সংবাদদাতা, কাঁথি: ৮০তম স্বাধীনতা দিবসের আগে কাঁথি শহরজুড়ে সমস্ত মনীষী ও স্বাধীনতা সংগ্রামীর আবক্ষ মূর্তির বেদির কাঠামো সংস্কার করে তাতে গেরুয়া-সাদা রং করার কাজ শুরু করেছে পুরসভা। তবে গেরুয়া রং করা নিয়ে সমালোচনায় মুখর হয়েছে জাতীয় কংগ্রেস। যা একটি বিশেষ রাজনৈতিক দলের (বিজেপি) বার্তা বহন করছে বলে অভিযোগ কংগ্রেসের। এব্যাপারে প্রতিবাদ জানিয়ে এবং বেদিগুলিকে তিরঙ্গা করার দাবিতে বুধবার মহকুমা শাসক তথা পুরসভার প্রশাসকের কাছে ডেপুটেশন দেয় কংগ্রেস। উল্লেখ্য, স্বাধীনতা আন্দোলনে অবিভক্ত মেদিনীপুরের গুরুত্বপূর্ণ অবদান ছিল। কাঁথি তাতে অগ্রণী ভূমিকা নিয়েছিল। স্বাধীনতার পর্বে নানা মনীষী এবং স্বাধীনতা সংগ্রামীদের শুভাগমনে ধন্য হয়েছে কাঁথি। পরবর্তীকালে তাঁদের স্মৃতিতে শহরের বিভিন্ন জায়গায় মূর্তি স্থাপন করা হয়। দীর্ঘ কয়েকদশক ধরে সেই মূর্তিগুলি এবং সংলগ্ন স্থান সংস্কারের কাজ হয়নি। রাজ্যে পালাবদলের পর এবিষয়ে উদ্যোগ শুরু করেছে পুরসভা। মহকুমা শাসক তথা পুরসভার প্রশাসক প্রতীক অশোক ধুমল বলেন, আমরা বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করব। জানা গিয়েছে, শহরে ২১টি ওয়ার্ডে পূর্ণাবয়ব ও আবক্ষ মিলিয়ে বেশ কয়েকটি মূর্তি রয়েছে। মূর্তিগুলির পাদদেশ ভেঙে নতুন করে টাইলস বসানো হচ্ছে। তারপর তাতে গেরুয়া-সাদা রঙের প্রলেপ পড়েছে। এর আগে পুরসভার পক্ষ থেকে টেন্ডার ডেকে ঠিকাদার নিয়োগ করা হয়েছিল। স্বাধীনতা দিবসের আগেই কাজ শেষ করার লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে সেন্ট্রাল বাসস্ট্যান্ড এলাকায় ইন্দিরা গান্ধীর মূর্তির পাদদেশ সংস্কারের কাজ শেষ হয়েছে। এছাড়া ক্যানেলপাড়ে দেশপ্রাণ বীরেন্দ্রনাথ শাসমল সহ অন্যান্য স্বাধীনতা সংগ্রামী মনীষীর মূর্তির পাদদেশ সংস্কারের কাজ চলছে জোরকদমে। পাদদেশগুলি এমনভাবে তৈরি হয়েছে, যাতে সাধারণ মানুষ সহজে মহামানবদের মূর্তিতে মাল্যদান করে শ্রদ্ধা নিবেদন করতে পারেন। দক্ষিণ কাঁথির বিধায়ক তথা সেচমন্ত্রী অরূপকুমার দাস বলেন, দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে শহরে মনীষীদের মূর্তি অবহেলার মধ্যে ছিল। তাই নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর আমরা সিদ্ধান্ত নিই, স্বাধীনতা দিবসের আগে সেসব মূর্তির পাদদেশ সংস্কার করা হবে। সেইমতো কাজ শুরু হয়েছে।



