Bartaman Logo
৮ আগস্ট, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

কলকাতার কোন ওয়ার্ড বদলে কী হল? ভোটার কত? খসড়া পুনর্বিন্যাস তালিকা নিয়ে ধোঁয়াশা

কলকাতা পুরসভার ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাসের প্রস্তুতিমূলক খসড়া (প্রিপারেটরি ড্রাফট) ইতিমধ্যেই প্রকাশ করেছে পুর ও নগরোন্নয়ন দপ্তর।

কলকাতার কোন ওয়ার্ড বদলে কী হল? ভোটার কত? খসড়া পুনর্বিন্যাস তালিকা নিয়ে ধোঁয়াশা
  • ৮ আগস্ট, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: কলকাতা পুরসভার ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাসের প্রস্তুতিমূলক খসড়া (প্রিপারেটরি ড্রাফট) ইতিমধ্যেই প্রকাশ করেছে পুর ও নগরোন্নয়ন দপ্তর। কিন্তু কোন ওয়ার্ড বদলে কী হল, কোন ওয়ার্ডে কত ভোটার থাকছে—এসব প্রশ্নের জবাব মিলছে না খসড়া পুনর্বিন্যাস তালিকায়। প্রকাশিত খসড়ায় এত অস্পষ্টতা থাকলে আম নাগরিক থেকে রাজনৈতিক দলগুলি কীভাবে মতামত জানাবে? উঠছে প্রশ্ন। 

Advertisement

প্রশাসন সূত্রে খবর, আপাতত ১৩ আগস্ট পর্যন্ত এই তালিকা জনসমক্ষে রাখা থাকছে। এই সময়ের মধ্যে শহরবাসী ও রাজনৈতিক দলগুলি ওয়ার্ড ডিলিমিটেশন সংক্রান্ত নিজেদের বক্তব্য বা প্রস্তাব জানাতে পারবে। বৃহস্পতিবার রাতে এই তালিকা প্রকাশ্যে আসতেই হইচই শুরু হয়ে যায় বিভিন্ন মহলে। শুক্রবার সকাল থেকে বিভিন্ন দলের প্রাক্তন কাউন্সিলাররা ফোন ঘোরাতে শুরু করেন পুরসভার আধিকারিকদের। কয়েকজন প্রাক্তন কাউন্সিলার পুরসভাতে চলেও আসেন। তাঁদের সবারই প্রায় এক বক্তব্য, ডিলিমিটেশন তালিকা দেখে কিছুই বোঝা যাচ্ছে না! কোন ওয়ার্ড বদলে কত নম্বর ওয়ার্ড হল, কোন ওয়ার্ড কোন বিধানসভায় পড়ছে, কোন ওয়ার্ডে ক’টি বুথ, কত সংখ্যক ভোটার—প্রস্তাবিত খসড়ায় সবটাই অস্পষ্ট বলে অভিযোগ তাঁদের। মধ্য কলকাতার এক প্রাক্তন কাউন্সিলারের কথায়, ‘পুনর্বিন্যাসের তালিকা দেখে কিছুই বোঝা যাচ্ছে না। শুধুমাত্র কোন ওয়ার্ডের সীমানা কতটা, সেটা বলে দেওয়া হয়েছে। তা দেখে কোনো মতামত দেওয়া সম্ভব নয়।’
প্রথমে ঠিক ছিল, শহরের ১৪৪টি ওয়ার্ড ভেঙে ২০০টি করা হবে। পরে ২০৯টি ওয়ার্ড তৈরির সিদ্ধান্ত হয়। প্রতিটি ওয়ার্ডে ১৫-১৬ হাজার ভোটার রাখার কথা ছিল। কিন্তু প্রকাশিত খসড়ায় ২০৯টি ওয়ার্ডের মধ্যে অন্তত ২০ শতাংশ ক্ষেত্রে ভোটার সংখ্যায় সামঞ্জস্য রাখা হয়নি বলে খবর। এমনকি, ওয়ার্ডভিত্তিক ভোটার সংখ্যা সর্বোচ্চ ২৫ হাজার গিয়ে ঠেকেছে। অনেকে মনে করছেন, রাজনৈতিক বাধ্যবাধকতার কারণেই ভোটার সংখ্যায় সমতা রাখা যাচ্ছে না। 
বর্তমানে কলকাতা পুরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ড হল কাশীপুর এলাকা। আর একদম শেষের ১৪২, ১৪৩, ১৪৪ নম্বর ওয়ার্ডগুলি রয়েছে জোকা, ঠাকুরপুকুরে। প্রস্তাবিত খসড়ায় ১ নম্বর ওয়ার্ডের এলাকা মোটের উপর অপরিবর্তিত থাকলেও বেহালা, জোকা এলাকা ওয়ার্ড তালিকায় উপরের দিকে উঠে এসেছে। খসড়া অনুযায়ী শেষের দিকের (২০৮, ২০৯) ওয়ার্ডগুলি পড়ছে গড়িয়া, কামডহরি, ব্রহ্মপুর এলাকায়।
সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের একাংশের বক্তব্য, পুর-আইনে ‘শিডিউল ২’ যেভাবে সাজানো রয়েছে, ঠিক সেভাবে এই প্রস্তুতিমূলক খসড়া প্রকাশ করা হয়েছে। নাগরিক বা রাজনৈতিক দল চাইলে প্রশ্ন তুলতেই পারে। প্রয়োজনে পুর কমিশনার সর্বদল বৈঠকও ডাকতে পারেন।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ