Bartaman Logo
২৮ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

ভ্রামরীদেবীর মন্দিরের সোনা কোথায়? পুলিশের দ্বারস্থ হচ্ছে পরিচালন কমিটি

জলপাইগুড়ির ভ্রামরীদেবীর মন্দিরের সোনা ও টাকার হিসাব না মেলায় পুলিশে অভিযোগ। পুরনো ক্যাশিয়ার বাবলু রায় বেপাত্তা। বিস্তারিত পড়ুন।

ভ্রামরীদেবীর মন্দিরের সোনা কোথায়? পুলিশের দ্বারস্থ হচ্ছে পরিচালন কমিটি
  • ২৮ জুন, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, জলপাইগুড়ি: সতীপীঠ ভ্রামরীদেবীর মন্দিরের সোনা ও টাকা আদায়ে এবার পুলিশের দ্বারস্থ হচ্ছে বর্তমান পরিচালন কমিটি। পুরনো কমিটির ক্যাশিয়ার বাবলু রায়ের বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। গত ১৪ বছর ধরে মন্দিরে ক্যাশিয়ার হিসাবে ছিলেন তিনি। রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর মন্দিরে জমা পড়া প্রণামীর হিসাব চাইতেই বাবলু বেপাত্তা হয়ে যান বলে অভিযোগ। তিনি তৃণমূল নেতা কৃষ্ণ দাসের ঘনিষ্ঠ বলে দাবি বর্তমান মন্দির কমিটির। ফলে হিসাব না পাওয়া সোনা ও টাকা মন্দিরের পুরনো কমিটির সভাপতি কৃষ্ণ দাসের কাছেও থাকতে পারে বলে তাদের আশঙ্কা। বিজেপি কর্মীদের উপর সশস্ত্র হামলার ঘটনায় বিধানসভা ভোটের ফল বেরোনোর পরদিন থেকে সপরিবারে বেপাত্তা কৃষ্ণ দাস। এই পরিস্থিতিতে বৈকুণ্ঠপুর জঙ্গল লাগোয়া বোদাগঞ্জ ভ্রামরীদেবীর মন্দিরের সোনা ও টাকার হিসাব না মেলায় ক্ষুব্ধ ভক্তরাও। 

Advertisement

মন্দিরের প্রণামী হিসাবে জমা পড়া সোনা ও টাকা হাতিয়ে কেউ পার পাবেন না বলে শনিবার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন রাজগঞ্জের বিধায়ক তথা বর্তমান মন্দির কমিটির সভাপতি দীনেশ সরকার। তিনি বলেন, বোদাগঞ্জ ভ্রামরীদেবীর মন্দির ৫১ পীঠের অন্যতম সতীপীঠ। এখানে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত এমনকী ভিনরাজ্য থেকেও অনেক ভক্ত আসেন। তাঁরা সোনা, রুপো ও টাকাপয়সা দান করেন। গত ১৪ বছর ধরে যাঁরা মন্দির পরিচালনা করেছেন, তাঁরা প্রণামীর হিসাব দেননি। সেকারণে আমাদের আশঙ্কা, মন্দিরের সোনা ও টাকাপয়সা নয়ছয় হয়েছে। এব্যাপারে আমার স্পষ্ট বক্তব্য, যদি কেউ মন্দিরের সোনা কিংবা প্রণামীর টাকা হাতিয়ে নিয়ে থাকেন, তাহলে ফেরত দিতে হবে। পুরনো কমিটির ক্যাশিয়ারকে আমরা কয়েকদিন সুযোগ দেব। এরমধ্যে যদি তিনি সম্পূর্ণ হিসাব বুঝিয়ে দিতে না পারেন, সেক্ষেত্রে আইনের দ্বারস্থ হব। 
মন্দিরের বর্তমান কমিটির সম্পাদক বিপুল রায় বলেন, গত ১৪ বছরে মন্দিরে প্রণামী বাবদ কত টাকা বা সোনা জমা পড়েছে, তার থেকে কী খরচ হয়েছে, সেটা কীভাবে বলব। আমরা তো হিসাবই পাইনি। 
বর্তমান মন্দির কমিটির ক্যাশিয়ার চঞ্চল ছেত্রী বলেন, অনেক চাপ দেওয়ার পর পুরনো কমিটির ক্যাশিয়ার বাবলু রায় গত পয়লা জুন মন্দিরের মিটিংয়ে এসেছিলেন। সেখানে তিনি মন্দিরের সোনা ও টাকার পূর্ণাঙ্গ হিসাব দিতে পারেননি। বাবলু বেপাত্তা থাকায় তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করা যায়নি।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ