


সুকান্ত গঙ্গোপাধ্যায় (কোচবিহার) ও নির্মাল্য সেনগুপ্ত (রায়গঞ্জ): মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর বার্তার পরই উত্তরবঙ্গের কোন জেলায় এইমস হবে, তা নিয়ে চর্চা তুঙ্গে। ইতিমধ্যেই রাজ্যের ক্রীড়া ও যুবকল্যাণমন্ত্রী তথা উত্তরবঙ্গ উন্নয়নমন্ত্রী নিশীথ প্রামাণিক জানিয়েছেন, কোচবিহারের মাথাভাঙায় যাতে এইমস তৈরি হয়, সেব্যাপারে আপ্রাণ চেষ্টা করবেন তিনি। এরই পাশাপাশি জলপাইগুড়ির দোমোহনিতে রেলের জমিতে এইমস গড়ার জোরালো দাবি উঠেছে। এদিকে, উত্তরবঙ্গে এইমস হলে তা রায়গঞ্জে হতে হবে, এমনই দাবিকে সামনে রেখে সরব সেখানকার বাসিন্দারা। তাঁদের ওই দাবিকে সমর্থন জানিয়েছেন রায়গঞ্জের বর্তমান বিধায়ক কৌশিক চৌধুরী ও প্রাক্তন কংগ্রেস বিধায়ক মোহিত সেনগুপ্ত।
রায়গঞ্জে এইমস না হলে এলাকার লোকদের সঙ্গে নিয়ে আমরণ অনশনে বসার হুমকি দিয়েছেন তিনি।
প্রয়াত কংগ্রেস নেতা প্রিয়রঞ্জন দাশমুন্সির হাত ধরে উত্তরবঙ্গে এইমসের দাবি উঠে আসে। ২০০৮ সালে তৎকালীন কেন্দ্রীয় সরকার উত্তরে এইমসের অনুমোদন দেয়। রায়গঞ্জের পানিশালার শিবগ্রামে এইমসের জন্য চিহ্নিত হয় জমি। খরচ ধরা হয় ৮২৩ কোটি টাকা। কিন্তু শেষমেশ জমিজটের কারণে রায়গঞ্জে এইমস হয়নি। ২০১৫ সালে তা চলে যায় নদীয়ার কল্যাণীতে। যা নিয়ে এতদিন ক্ষোভ ছিল উত্তরবঙ্গবাসীর। এখন ফের রাজ্যের বিজেপি সরকার এইমস নিয়ে তৎপর হতেই এব্যাপারে শুরু হয়েছে জোর চর্চা।
এইমস তৈরির ব্যাপারে উত্তরবঙ্গের বিধায়ক ও সাংসদদের সঙ্গে কথা বলে শীঘ্রই কেন্দ্রকে প্রস্তাব পাঠানো হবে, শনিবার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর বার্তার পরই আশায় বুক বেঁধেছেন উত্তরবঙ্গবাসী। এইমস নিয়ে উত্তরের বাসিন্দাদের একটা আবেগ জড়িয়ে রয়েছে। এনিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ার পাশাপাশি পথে নেমেও নিজেদের এলাকায় এইমস তৈরির ব্যাপারে সরব হচ্ছেন বাসিন্দারা।
রবিবার এ প্রসঙ্গে জানতে চাওয়া হলে জলপাইগুড়ির বিজেপি সাংসদ ডাঃ জয়ন্তকুমার রায় বলেন, বিষয়টি আলোচনা সাপেক্ষ। ফলে উত্তরের কোন জেলায় এইমস হবে, তা এখনই বলা সম্ভব নয়।
স্বাস্থ্য প্রশাসন সূত্রে খবর, এইমসের জন্য বিমান ও রেল যোগাযোগ, অধিকাংশ মানুষের যাতায়াতের ক্ষেত্রে সুবিধা, পরিকাঠামো তৈরির প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ সহ একাধিক বিষয় রয়েছে।
সেদিক থেকে রায়গঞ্জের পানিশালা, জলপাইগুড়ির দোমোহনি ও মাথাভাঙায় জাতীয় সড়ক কাছাকাছি রয়েছে। আছে রেল যোগাযোগও। বাগডোগরা বিমানবন্দর থেকে এই জায়গাগুলির দূরত্ব হিসাব করলে সবথেকে কাছে দোমোহনি।
কংগ্রেসের উত্তর দিনাজপুর জেলা সভাপতি মোহিতবাবু বলেন, উত্তরের প্রতিটি জেলার বাসিন্দারাই চাইবেন, তাঁদের এলাকায় এইমস হোক। কিন্তু রায়গঞ্জে এইমস স্থাপনের বিষয়টি ক্যাবিনেটে পাশ করা ছিল।
৮২২ কোটি টাকা বরাদ্দও হয়েছিল। তৃণমূল চক্রান্ত করে কল্যাণীতে নিয়ে যায়। উত্তরবঙ্গে এইমস হলে তা যাতে রায়গঞ্জেই হয়, মুখ্যমন্ত্রীকে চিঠি দেব। তাঁর দাবি, পানিশালায় এইমসের জন্য প্রয়োজনীয় ৬০ শতাংশ খাসজমি রয়েছে। বাকি ৪০ শতাংশ রায়তি জমির মালিকরাও জায়গা দিতে রাজি ছিলেন।
উত্তরে এইমস নিয়ে চর্চা শুরু হতেই নতুন করে আশায় বুক বেঁধেছেন পানিশালার বাসিন্দা আবু সালেক সরকার, তৈমুল হোসেন। তাঁরা চান, রায়গঞ্জেই এইমস হোক। এ ব্যাপারে রায়গঞ্জের নবনির্বাচিত বিজেপি বিধায়ক কৌশিক চৌধুরীরও সায় রয়েছে। তিনি বলেন, ২০০৮ সালে রায়গঞ্জে এইমস অনুমোদন হয়েছিল। তৃণমূল সরকারের জন্য তা কল্যাণীতে চলে যায়। তাঁর যুক্তি, শিলিগুড়ি, পাহাড় সংলগ্ন এলাকা ও উত্তরের অন্য জেলাগুলিতে তুলনামূলকভাবে স্বাস্থ্য পরিকাঠামো ভালো। কিন্তু উত্তর দিনাজপুর তথা রায়গঞ্জ অনেকটাই পিছিয়ে।