Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

এতদিন কোথায় ছিলেন? প্রচারে গিয়ে মুখ পুড়ল বিজেপি সাংসদ খগেনের

প্রচারে গিয়ে অপদস্থ হলেন উত্তর মালদহের বিজেপি সাংসদ খগেন মুর্মু। এতদিন কোথায় ছিলেন? সরাসরি প্রশ্ন ছুড়লেন মহিলা ভোটাররা। একজন খগেনকে দেখিয়ে বললেন, লোকসভার ভোট চাইতে এসেছিলেন, তারপর এই দাদার আর দেখা মেলেনি।

এতদিন কোথায় ছিলেন? প্রচারে গিয়ে মুখ পুড়ল বিজেপি সাংসদ খগেনের
  • ১২ এপ্রিল, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

উজির আলি, চাঁচল: প্রচারে গিয়ে অপদস্থ হলেন উত্তর মালদহের বিজেপি সাংসদ খগেন মুর্মু। এতদিন কোথায় ছিলেন? সরাসরি প্রশ্ন ছুড়লেন মহিলা ভোটাররা। একজন খগেনকে দেখিয়ে বললেন, লোকসভার ভোট চাইতে এসেছিলেন, তারপর এই দাদার আর দেখা মেলেনি। এখন আবার বিধানসভার প্রার্থীকে নিয়ে ভোট চাইতে এসেছেন। ওই মহিলার সঙ্গে সুর মিলিয়ে অন্যরাও বলে উঠেন, এতদিন আপনারা কোথায় ছিলেন? আমাদের দুঃখ দুর্দশার কথা কাকে জানাব? মালদহের চাঁচল গ্রাম পঞ্চায়েতের ঘোষপাড়ায় ভোট প্রচারে গিয়ে এমনই বিক্ষোভের মুখে পড়লেন সাংসদ ও চাঁচল বিধানসভার বিজেপি প্রার্থী রতন দাস। মহিলাদের ক্ষোভের মুখে পড়ে সদুত্তর দিতে না পেরে অনুন্নয়নের প্রসঙ্গ তুলতে শুরু করেন সাংসদ। তৃণমূল কোনো উন্নয়ন করেনি বলে মহিলাদের বোঝানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু তাতেও লাভ হয়নি। শেষ পর্যন্ত এলাকা থেকে প্রচার বেরিয়ে যান সাংসদ ও প্রার্থী। 

Advertisement

শনিবার সকালে প্রার্থীর সমর্থনে ঢাক ঢোল পিটিয়ে গেরুয়া পদ্ম পতাকা নিয়ে ওই এলাকায় প্রচারে যান বিজেপি সাংসদ ও কর্মী-সমর্থকরা। বাড়ি বাড়ি ভোট প্রার্থনা করেন তাঁরা। ঘোষপাড়ায় পৌঁছতেই পদ্ম নেতাদের বিরুদ্ধে ক্ষোভে ফেটে পড়েন মহিলারা। চাঁচল গ্রাম পঞ্চায়েত তৃণমূল কংগ্রেসের দখলে। ওই এলাকায় তৃণমূলের পঞ্চায়েত সদস্য রয়েছেন। তৃণমূল নেতৃত্বের দাবি, এলাকায় পরিস্রুত পানীয় জল ও আলোর ব্যবস্থা হয়েছে। রাস্তাঘাট সবই পাকা করা হয়েছে। একাধিক দুঃস্থ পরিবার বাংলার বাড়ি প্রকল্পে ঘর পেয়েছেন। লক্ষ্ণীর ভাণ্ডার প্রকল্পের সুবিধা পেয়ে খুশিতে কাটাচ্ছেন মহিলারা। 
বিক্ষোভকারী মহিলা কৃষ্ণা সাহা সাংসদকে দেখিয়ে বলেন, দেখুন এই দাদা লোকসভার সময় ভোট চাইতে এসেছিলেন। এবার বিধানসভাতেও এসেছেন। এঁদের শুধু ভোটের সময় এলাকায় দেখা যায়। আমরা আমাদের সমস্যার কথা কাকে শোনাব? আরেক মহিলা দীপ্তি দাস বলেন, এসআইআরের ফর্ম ফিলআপ করা নিয়ে হয়রানির শিকার হয়েছিলাম। সেসময় বিজেপির কোনো টিকি খুঁজে পাওয়া যায়নি। 
যদিও এদিনের ঘটনাকে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করে বিজেপি। খগেন বলেন, এলাকায় তৃণমূল ক্ষমতায় আছে। তারা কোনো উন্নয়ন করেনি। কেন্দ্রীয় বরাদ্দে কাজ করতে দেওয়া হয়নি। এর খেসারত আমাদের দিতে হচ্ছে। ভোটবাক্সে পদ্মফুলের শক্তি বৃদ্ধি হবে।
স্থানীয় তৃণমূলের পঞ্চায়েত সদস্য গৌতম ঘোষের দাবি, আমার বুথের মতো কোনো এলাকাতে উন্নয়ন হয়নি। অনেক দুঃস্থ পরিবারকে বাংলার বাড়ি প্রকল্পের সুবিধা পাইয়ে দিয়েছি। এসআইআরে আমাদের কর্মীরা বাসিন্দাদের সাহায্য করেছেন। দু’শো জনের মতো শুনানির নোটিস পেয়েছিলেন। তাঁদেরও সহযোগিতা করেছি। এখন বিজেপি ভোট চাইতে আসছে! এলাকার মানুষ যোগ্য জবাব দিয়ে দিয়েছে।

সম্পর্কিত সংবাদ