ব্রতীন দাস, জলপাইগুড়ি: জলপাইগুড়ির বোদাগঞ্জে সতীপীঠ ভ্রামরীদেবীর মন্দিরে চলত তৃণমূলের সিন্ডিকেট। প্রণামী হিসাবে জমা পড়া সোনা ও রুপোর গয়না এবং নগদের বেশিরভাগটাই ভাগবাটোয়ারা হত সেই সিন্ডিকেটের মধ্যে। অভিযোগ, মন্দির কমিটির সভাপতি হিসাবে সিন্ডিকেটের মাথায় ছিলেন তৃণমূল নেতা কৃষ্ণ দাস। এ ঘটনা সামনে আসতেই ব্যাপক আলোড়ন ছড়িয়েছে।
গত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে মন্দিরে জমা পড়া বিপুল সোনা ও নগদ অর্থ কোথায় গেল, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলে সরব হয়েছেন ভক্তদের পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁদের অভিযোগ, হিসাব চাইতেই বেপাত্তা কৃষ্ণ দাস ঘনিষ্ঠ ক্যাশিয়ার বাবলু রায়। সোনা ও প্রণামীর টাকা আদায়ে শুক্রবার তাঁর বাড়িতে যান বর্তমান মন্দির কমিটির সদস্যরা। কিন্তু বাবলুকে বাড়িতে পাওয়া যায়নি বলে তাঁদের দাবি। পরে সাহেবপাড়ায় বাবলুর খোঁজে তাঁর বাড়িতে গেলে জানানো হয়, তিনি নেই।
বর্তমান মন্দির কমিটির ক্যাশিয়ার চঞ্চল ছেত্রী বলেন, ২০১৪ সাল থেকে মন্দিরের ক্যাশিয়ার ছিলেন বাবলু। তিনি কৃষ্ণ দাসের লোক। গত ১২ বছরে মন্দিরে প্রণামী ও দান হিসাবে কত সোনা, রুপো এবং নগদ জমা পড়েছে, আমরা বুঝতে পারছি না। কারণ, অনেক চাপাচাপির পর পুরনো কমিটির ক্যাশিয়ার যে হিসাব দিয়েছেন, তাতে আমাদের সন্দেহ, প্রচুর সোনা ও টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে। সেই সোনার ভাগ তৃণমূল নেতা কৃষ্ণ দাসের কাছেও গিয়েছে বলে আমাদের সন্দেহ। তাছাড়া ২০১৪ সালের আগে মন্দিরে যে কমিটি ছিল, তারাও নিশ্চয়ই তাদের সময়কালের সোনা ও নগদের হিসাব বুঝিয়ে দিয়েছিল। সেসবই বা কোথায় গেল?
মন্দির সূত্রে খবর, ২০১৪ সাল থেকে বোদাগঞ্জ মন্দিরের সর্বময় কর্তা ছিলেন কৃষ্ণ দাস। মন্দির দেখভালের জন্য নিজের লোকজন নিয়োগ করেছিলেন ওই তৃণমূল নেতা। দান হিসাবে মন্দিরে জমা পড়া নগদ রাখতে ব্যাংকে অ্যাকাউন্ট ছিল ঠিকই। কিন্তু তাতে টাকা জমা পড়ত না। ভক্তরা মা কালীকে যে সোনা ও রুপোর গয়না দিতেন, সেসবও ব্যাংকে লকারে থাকার কথা। কিন্তু তা হয়নি। সবটাই ক্যাশিয়ারের কাছে থাকত।
বর্তমান মন্দির কমিটির ক্যাশিয়ারের দাবি, রাজ্যে পালাবদলের পর আমরা মন্দিরের প্রণামীর হিসাব চাই। ১২ বছর ধরে ক্যাশিয়ারের দায়িত্বে থাকা বাবলু রায় আমাদের কাছে কিছুদিন সময় চান। গত পয়লা জুন তিনি হিসাব দেওয়ার জন্য মন্দিরে আসেন। কিছুটা হিসাব দেওয়ার পরই তাঁর কাছে একটি ফোন আসে। এরপর স্ত্রী অসুস্থ বলে তিনি তড়িঘড়ি চলে যান। পরে জানতে পারি, পুলিশ আসছে শুনে পালিয়ে গিয়েছেন বাবলু।