কোন খাবারের পর কোন খাবার খাওয়া চলবে না, কিংবা কোন খাবারের পর কোন খাবার খেলে সমস্যা নেই। জানাচ্ছেন মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডাঃ অংশুমান রায়।
কোন খাবারের পর কোন খাবার খাওয়া চলবে না, কিংবা কোন খাবারের পর কোন খাবার খেলে সমস্যা নেই। জানাচ্ছেন মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডাঃ অংশুমান রায়।
১. গরমে খুব ঠান্ডা জল খাওয়া ঠিক?
প্রচণ্ড গরমে বাইরে থেকে ফিরে বরফ-ঠান্ডা জল খেতে অনেকেরই ভালো লাগে। তবে হঠাৎ খুব ঠান্ডা জল পান করলে কারও কারও গলায় অস্বস্তি, খুসখুসে কাশি বা গলাব্যথা হতে পারে। তাই স্বাভাবিক তাপমাত্রার জল বা সামান্য ঠান্ডা জল ধীরে ধীরে পান করাই ভালো। যদি গলায় অস্বস্তি হয়, তাহলে হালকা গরম জলে গার্গল করলে আরাম মিলতে পারে। যদি রাস্তায় তেষ্টা পায়, তাহলেও একই নিয়ম মেনে ধীরে ধীরে স্বাভাবিক তাপমাত্রার জল পান করতে হবে। কোল্ডড্রিংক্স বা নরম পানীয় একেবারেই চলবে না।
২. প্রচণ্ড গরম কিছু খেয়ে ফেললে?
কেউ যদি জল ভেবে গরম চা গলায় ঢালে তাহলে বিপদ। এক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া একান্ত জরুরি। তবে সহ্য করা যায় এমন তাপমাত্রার পানীয় ধীরে ধীরে পান করলে সমস্যা নেই।
৩. মাংস খেলে কী দুগ্ধজাত খাবার খাওয়া যায়?
অতিরিক্ত মাংস এবং তেল-মশলাযুক্ত খাবার খাওয়ার পরে দুগ্ধজাত খাবার এড়ানোই ভালো। অতিরিক্ত তেল-মশলাযুক্ত খাবারের পর সঙ্গে সঙ্গে মিষ্টি, আইসক্রিম খাওয়ার বদলে কিছুক্ষণ অপেক্ষা করে সাধারণ জল পান করাই শ্রেয়।
৪. কোল্ডড্রিংক্স হজমে সুবিধা করে?
একেবারেই না। বরং এতে পেটের সমস্যা আরও বাড়তে পারে। অনেকেই বিরিয়ানি, চিকেন চাপ জাতীয় খাবারের সঙ্গে কোল্ড ড্রিংক্স খান। মনে হয় এতে হজম হচ্ছে। আদতে তা হয় না। বরং কার্বোনেটেড ওয়াটার হজমের সমস্যা আরও বাড়ায়।
৫. ফল খেয়ে জল খাওয়া যায়?
যদি আপেল, নাসপাতির মতো ফল হয় তাহলে তা খাওয়ার পর সামান্য জল খেলে সমস্যা নেই। কিন্তু কলা, তরমুজ, কাঁঠালের মতো ফলের সঙ্গে জল এড়ানোই ভালো। এক্ষেত্রে বেশি জল খেলে পেতে অস্বস্তি হতে পারে।
৬. বর্ষাকালে দই খেলে ঠান্ডা লাগে?
এমন কোনো বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই। তবে দই খেতে হলে তা নিয়ম মেনে রেফ্রিজারেট করা হয়েছে কি না দেখতে হবে। অর্থাৎ যে তাপমাত্রা দইয়ের সংরক্ষণের জন্য প্রয়োজন সেটা রয়েছে কি না দেখতে হবে। না হলে দইয়ের মধ্যে বিভিন্ন জীবাণু বাসা বাঁধতে পারে। এক্ষেত্রে রাস্তার ধারে যে দইয়ের শরবত বা দই দিয়ে বানানো চাট পাওয়া যায়, তা এড়ানোই ভালো। বাড়িতে পাতা দই, ঠিকমতো ফ্রিজে রেখে খেলে সমস্যা নেই।
সামগ্রিকভাবে বলতে গেলে বাড়ির খাবার পরিমাণ বুঝে খেলে সমস্যা নেই। তবে কোনো খাবারে অ্যালার্জি বা বিশেষ শারীরিক সমস্যা থাকে, তাহলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চলতে হবে। যা এড়িয়ে চলবেন, তারমধ্যে অবশ্যই থাকবে অতিরিক্ত নরম পানীয়, ফাস্ট ফুড, চিপস, রাস্তার ধারে বিক্রি হওয়া খোলা খাবার বা কাটা ফল এবং অতিরিক্ত মিষ্টি।
লিখেছেন শুভদীপ রায়