


সংবাদদাতা, ঘাটাল: ২৫ মার্চ দাসপুর বিধানসভার জগন্নাথপুরে তৃণমূলের সেকেন্ড-ইন্ড-কমান্ড অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সভা ঘিরে দু’দিন আগে থেকেই ব্যাপক উদ্দীপনা দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে নতুন প্রজন্মের ভোটার সহ কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়াদের মধ্যে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদককে দেখার আগ্রহ তুঙ্গে রয়েছে।
আগামী বুধবার দাসপুর বিধানসভার জগন্নাথপুরে অভিষেকের হাই ভোল্টেজ জনসভা। দলের এই ‘সেকেন্ড-ইন-কমান্ড’ আসছেন ঘরের দুয়ারে। এই খবরেই এখন উত্তাল তামাম দাসপুর এলাকা। মাঝে মাত্র দু’টো দিন, কিন্তু অপেক্ষার প্রহর যেন কাটতেই চাইছে না।
এদিকে হাই ভোল্টেজ এই সভা ঘিরে তৃণমূল শিবিরের অন্দরেও এখন চূড়ান্ত ব্যস্ততা। রবিবার দলীয় প্রতিনিধি সহ পুলিশ আধিকারিকরা এলাকা পরির্দশন করে সভার জায়গা নির্দিষ্ট করার পরই জগন্নাথপুরের সভাস্থলে বিশাল মঞ্চ বাঁধার কাজ শুরু হয়। কিন্তু অভিষেকের সভা ঘিরে দিনভর চলা মাইকের আওয়াজের চেয়েও বেশি গর্জন শোনা যাচ্ছে তরুণ প্রজন্মের আলোচনায়। গত কয়েক বছর ধরেই অভিষেকের রাজনৈতিক লড়াই, তাঁর ক্ষুরধার যুক্তি ও জনমোহিনী চরিত্রটি বিশেষ করে তরুণদের হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছে। দাসপুরের অলিতে-গলিতে, চায়ের দোকানে বা কলেজের কমনরুমে এখন একটাই আলোচনা ‘দাদা’কে সামনে থেকে এক বার দেখা। তাঁর চলন-বলন আর লড়াকু মেজাজকে চাক্ষুষ করতে মুখিয়ে রয়েছে ছাত্রছাত্রীরা।দাসপুরের তৃণমূলের প্রার্থী আশিস হুদাইত বলেন, এই সভায় কেবল দলীয় কর্মসূচির প্রচার নয়, বরং মিশে রয়েছে গভীর আবেগ। দাসপুর ও ঘাটাল এলাকার বহু শিক্ষিত বেকার যুবক ও কলেজ পড়ুয়ারা মনে করেন, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁদের মনের ভাষা বোঝেন। এলাকার শিল্পোন্নয়ন ও কর্মসংস্থান এসব নিয়ে তিনি দিশা দেখাতে পারেন। নাড়াজোল রাজ কলেজের চতুর্থ সেমেস্টারের ছাত্র অর্ণব দাস, চাঁইপাট শহিদ প্রদ্যোৎ ভট্টাচার্য মহাবিদ্যালয়ের প্রথম বর্ষের দুই ছাত্রী মিলি সামন্ত ও বিদিশা মাইতিরা বলেন, আমরা এবার প্রথম ভোট দেব। আর ভোট দেওয়ার আগে যদি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতো এক যুক্তিবাদী নেতাকে চাক্ষুষ করতে পারি তার চেয়ে ভালো ঘটনা কী আর হতে পারে? বর্তমান সময়ে অভিষেক এমন এক জন নেতা, যিনি তরুণদের অভাব-অভিযোগ সরাসরি শোনেন, তরুণদের কথা ভাবেন। নতুন প্রজন্মের ভোটারদের কথায়, দাদার লড়াই আমাদের অনুপ্রেরণা জোগায়। ২৫ মার্চের দুপুরে জগন্নাথপুরের মাটি এক ঐতিহাসিক জনসমুদ্রের সাক্ষী হতে চলেছে, তা এখন কার্যত নিশ্চিত।
রবিবার সভাস্থল ঘুরে দেখছেন প্রশাসনিক আধিকারিকরা।-নিজস্ব চিত্র