নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: শহরের দোকান, অফিস, মার্কেট কমপ্লেক্স, কমার্শিয়াল বিল্ডিং সহ বিভিন্ন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সাইনবোর্ডে বাংলা রাখতেই হবে। সম্প্রতি কলকাতা পুরসভার সচিবের তরফে এমনই নির্দেশিকা জারি হয়েছে। আগামী ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে এই নির্দেশ কার্যকর করতে ‘অনুরোধ’ জানানো হয়েছে। কিন্তু এই নির্দেশ না মানলে কী পদক্ষেপ করা হবে, তা বলা হয়নি। তবে মেয়র ফিরহাদ হাকিম জানিয়েছিলেন, ট্রেড লাইসেন্স বাতিল করা হবে বা রিনিউ করা হবে না। কিন্তু, এ সংক্রান্ত কোনও নির্দিষ্ট পুর আইন না থাকায় কীসের ভিত্তিতে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে, তা নিয়ে ধন্দে পুরকর্তারা। ফলে নিয়মভঙ্গকারীদের কোন পথে শাস্তির বিধান দেওয়া হবে, তা ঠিক করতে আপাতত আইনের বিভিন্ন দিক খতিয়ে দেখছেন পুরসভার সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা। পুর-সচিবের সার্কুলারে বলা হয়েছে, সাইনবোর্ডের একদম উপরে বড় বড় অক্ষরে বাংলা হরফে নাম লিখতে হবে। তারপর প্রয়োজনীয়তা অনুযায়ী অন্য কিছু লেখা যেতে পারে। আইন বিভাগের সঙ্গে পরামর্শ করেই এই নির্দেশ বলে জানানো হয়েছে। পুরসভার অফিসারদের একাংশের বক্তব্য, যদি কেরালা বা তামিলনাড়ুর মতো রাজ্যে সেখানকার ভাষা অগ্রাধিকার পেতে পারে, তাহলে কলকাতা শহরেও এমন উদ্যোগ কার্যকর হওয়া প্রয়োজন। কিন্তু ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে কোনও ব্যবসায়ী নিয়ম না মানলে তাঁদের লাইসেন্স বাতিলের বিষয়টি নিয়ে আইনি জটিলতা দেখা দিতে পারে। কারণ, এই ধরনের কোনও নির্দিষ্ট আইনি এক্তিয়ার পুরসভার নেই। তাহলে নিয়ম মানতে কীভাবে বাধ্য করা হবে? আধিকারিকদের দাবি, পুর আইন ঘেঁটে দেখা গিয়েছে, বিজ্ঞাপন-বিধির ভিত্তিতে কিছু ব্যবস্থা করা যেতে পারে। এক অফিসারের কথায়, ‘কোনও দোকান বা প্রতিষ্ঠানের সামনে থাকা সাইনবোর্ডও এক ধরনের বিজ্ঞাপন। বিজ্ঞাপন সংক্রান্ত পুর-বিধিতে বলা রয়েছে, বিনামূল্যে একটি বিজ্ঞাপন দেওয়া যায়। কিন্তু তার জন্য কিছু শর্ত মানতে হয়। নাহলে কমিশনার তাঁর প্রশাসনিক ক্ষমতাবলে ওই সুবিধা বাতিল করতে পারেন। অর্থাৎ, ওই একটি বিজ্ঞাপনের জন্যও পুরসভা ফি নিতে পারে। সাইনবোর্ডে বাংলা রাখার নিয়ম না মানলে এই বিধির বেড়াজালে নিয়মভঙ্গকারীদের বাঁধা যায় কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুর কর্তৃপক্ষ।



