সুব্রত ধর, শিলিগুড়ি: উন্নয়ন নিয়ে বিজেপিকে চ্যালেঞ্জ জানালেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। ১২ বছরে দেশের জন্য প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি কী করেছেন, তা প্রকাশ করার দাবি তুলেছেন। সোমবার সন্ধ্যায় শিলিগুড়িতে নির্বাচনি জনসভায় এমন চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছেন অভিষেক। একই সঙ্গে তিনি শিলিগুড়ির রাশ নিজের হাতে রাখার কথা জানিয়েছেন। তৃণমূলের সরকার গঠনের পর এখানকার উন্নয়নের স্বাদ আরও পালটে দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।
শিলিগুড়ি শহরের তরাই তারাপদ আদর্শ বিদ্যালয়ের মাঠে ওই নির্বাচনি সভা হয়। সভায় অভিষেক বলেন, উন্নয়ন নিয়ে বিজেপিকে চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছি। মাঠ ও দিন ঠিক করবেন বিজেপি নেতারা। ১২ বছরে দেশের জন্য প্রধানমন্ত্রী কী করেছেন, তা জানান। ক্ষমতা থাকলে শ্বেতপত্র প্রকাশ করুন। আর ১৫ বছরে আমাদের মা-মাটি-মানুষের সরকার কী করেছে, সেই খতিয়ান তুলে ধরব। এক্ষেত্রে ১০-০ গোলে ল্যাজেগোবরে করব।
এখানেই সমস্বরে জনতার স্লোগান ‘জয় বাংলা’। এরপরই অভিষেক বিজেপির ‘ডবল ইঞ্জিনের’ সরকারের সমালোচনা করেন। বলেন, ‘ডবল ইঞ্জিনের’ স্বাদ শিলিগুড়ি উপভোগ করছে। দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে এখানকার এমপি বিজেপির। পাঁচবছর ধরে বিধায়ক বিজেপির। তাঁরা কী করেছেন? এমপি দিল্লিতে, আর বিধায়ক কলকাতায় থাকেন। গতবছর বন্যার সময় ত্রাণ নিয়ে জলপাইগুড়ি ও আলিপুরদুয়ারে গিয়ে মানুষের ক্ষোভের মুখে পড়েন বিধায়ক। কিন্তু এখানে এমপি ও বিধায়ক আমাদের নেই। তবু শিলিগুড়ির ৩৩টি ওয়ার্ডের ৬১ হাজার মহিলা লক্ষ্মীর ভাণ্ডার পাচ্ছেন। বছরে ১২০ এবং পাঁচ বছরে ৬০০ কোটি টাকা খরচ হচ্ছে। এখানকার ১৫ হাজার যুবক-যুবতী পাচ্ছেন যুবসাথী। এটাই তৃণমূলের সংস্কৃতি।
এখানেই খান্ত হননি তৃণমূলের সেকেন্ড ইন কমান্ড। তাঁর বক্তব্য, বিজেপিকে জিতেয়েও আপনাদের লাভ হয়নি। এখানকার বিধায়ক সর্বক্ষণ মানুষের পাশে থাকবেন। এটা আমরা চাই। তাই ডাবগ্রাম-ফুলবাড়ির পরিবর্তে গৌতম দেবকে এখানে প্রার্থী করা হয়েছে। এই শহর তাঁর হাতেরতালুর মধ্যে। সর্বদা তাঁকে কাছে পাবেন।
এখানেই তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদকের সংযোজন, এবার শিলিগুড়ির রাশ থাকবে আমার হাতে। যানজট ও পানীয় জলের সমস্যা মেটাব। এখানে ৫১১ কোটি টাকায় জল প্রকল্প গড়া হচ্ছে। সবার জন্য বাড়ি প্রকল্পে ৮০ কোটি টাকায় ২০০ জনের মধ্যে ঘর বিলি করা হয়েছে। এখানে জেতার পর পাঁচ বছরে এমন উন্নয়ন করব, যারজন্য আপনারা ২০ বছর আমাদের সঙ্গে থাকবেন, এটাই প্রত্যাশা। আগামী ছ’মাস পর পুরনির্বাচনে এমন একজনকে মেয়র করব, যে আপনাদের কাছের মানুষ হবেন। সবশেষে অভিষেক বলেন, আমাদের জব্দ করতে গিয়ে সিপিএম নিজের ভোট বিজেপিতে দিয়েছিল। এতদিনে সিপিএম নেতা অশোক ভট্টাচার্য তা মেনে নিয়েছেন। কারণ ওরাই এখন জব্দ হয়ে গিয়েছে।
সভায় শিলিগুড়ির প্রার্থী ছাড়াও মাটিগাড়া-নকশালবাড়ির প্রার্থী শংকর মালাকার, ফাঁসিদেওয়ার প্রার্থী রীনা টোপ্পো এক্কা সহ দলের নেতা-নেত্রীরা উপস্থিত ছিলেন।