Bartaman Logo
২৪ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

ভয় দেখানোর অভিযোগ পেয়ে কী পদক্ষেপ থানার? প্রমাণ চাইছেন পুলিশ পর্যবেক্ষকরা, সামান্য গাফিলতিতে জুটছে ভর্ৎসনাও

ভোটারদের ভয় দেখানো হচ্ছে—এমন ফোন পাওয়ার পর ক’বার অভিযোগকারীর বাড়িতে গিয়ে যোগাযোগ করেছেন থানার অফিসাররা?

ভয় দেখানোর অভিযোগ পেয়ে কী পদক্ষেপ  থানার? প্রমাণ চাইছেন পুলিশ পর্যবেক্ষকরা, সামান্য গাফিলতিতে জুটছে ভর্ৎসনাও
  • ৭ এপ্রিল, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ভোটারদের ভয় দেখানো হচ্ছে—এমন ফোন পাওয়ার পর ক’বার অভিযোগকারীর বাড়িতে গিয়ে যোগাযোগ করেছেন থানার অফিসাররা? এবার পুলিশ পর্যবেক্ষকরা তার প্রামাণ্য নথি দেখতে চাইছেন। এমনকি, অনেক ক্ষেত্রে কথা বলার ভিডিও পর্যন্ত চাওয়া হচ্ছে বলে খবর। ভোটাররা নির্দিষ্ট কারও বিরুদ্ধে আঙুল তুললে তার বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নিয়েছে থানা, জানতে চাইছেন পর্যবেক্ষকরা। সঠিক উত্তর দিতে না পারলে জুটছে ভর্ৎসনা। সেই সঙ্গে নির্বিঘ্নে ভোট করাতে কমিশন নির্বাচন সংক্রান্ত অপরাধের তদন্ত, অপরাধীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ, ভোটারদের সুরক্ষা সহ একাধিক বিষয়ে নির্দেশিকা জারি করেছে। তা পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে রাজ্য ও কলকাতা পুলিশের শীর্ষকর্তাদের। 

Advertisement

ভোট এলেই ভোটারদের ভয় দেখানোর অভিযোগ ওঠে বিভিন্ন শিবির থেকে। ভোটের দিন এমন অভিযোগ বেড়ে যায় কয়েক গুন। এসব ক্ষেত্রে অনেক সময় থানায় ফোন করেও পর্যাপ্ত সহযোগিতা পাওয়া যায়নি বলে অভিযোগ করেন ভোটাররা। থানার অফিসাররা অভিযোগকারীর বাড়িতে না গিয়ে, সরাসরি কথা না বলে স্রেফ ফোন করেই দায়িত্ব সারেন বলেও অভিযোগ পাওয়া যায়। এবার তাই আগে থেকেই এ বিষয়ে কড়া পদক্ষেপ করতে শুরু করেছেন পুলিশ পর্যবেক্ষকরা। 
ইতিমধ্যে তাঁদের কাছে অভিযোগ এসেছে, কলকাতা ও রাজ্য পুলিশের সিংহভাগ থানাই ভীত ভোটারদের ফোন পেয়ে বাড়িতে যাচ্ছেন না। ততটা পাত্তাও দিচ্ছেন না বিষয়গুলি। উলটে যাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ, কৌশলে তাঁর কাছেই খবর পৌঁছে দিচ্ছেন। তাই পুলিশ পর্যবেক্ষকরা কোনো ফাঁক রাখতে রাজি নন। তাই অভিযোগ আসার পর থানার অফিসাররা ক’বার ওই ভোটারের বাড়িতে গিয়েছেন, তার তথ্যপ্রমাণ চাইছেন তাঁরা। এক্ষেত্রে জিডি এন্ট্রি বুকের কপির সঙ্গে ভিডিয়ো চাওয়া হচ্ছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট অফিসারের মোবাইলের অবস্থানের অক্ষাংশ-দ্রাঘিমাংশ দেখে জানার চেষ্টা হচ্ছে, ওই সময় তিনি কোথায় ছিলেন। অন্তত তিন থেকে চারবার সেখানে গিয়েছেন কি না, খতিয়ে দেখছেন পুলিশ পর্যবেক্ষকরা। অভিযুক্তের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হল, অর্থাৎ কোনো কেস করা হয়েছে কি না, সেই নথিও দেখতে চাইছেন তাঁরা। সূত্রের খবর, কারও কাজে সামান্যতম ভুল থাকলেই তাঁকে ভর্ৎসনা করা হচ্ছে। এর সঙ্গেই নির্বাচন কমিশন ১৫ দফা নির্দেশিকা জারি করে পাঠিয়ে দিয়েছে রাজ্য পুলিশের ডিজি, কলকাতার নগরপাল সহ বিভিন্ন কমিশনারেটে। তাতে বলা হয়েছে, ভোটারদের উপযুক্ত নিরাপত্তা দিতে হবে। একই সঙ্গে প্রার্থী ও নির্বাচনি আধিকারিকদের নিরাপত্তার ব্যবস্থা করবে পুলিশ। ভোটারদের ভয় দেখানো এবং হিংসা আটকাতে হবে। ভোটগ্রহণ কেন্দ্রে ও প্রচারের সময় আইনশৃঙ্খলার বিষয়টি মাথায় রাখতে হবে পুলিশ আধিকারিকদের। ভোটারদের আস্থা বৃদ্ধির জন্য পদক্ষেপে বিশেষ জোর দিয়েছে কমিশন।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ