Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

অর্থ কমিশনের টাকা ছাড়তে সামান্য দেরি, ১ কোটির ‘জরিমানা’ মেটাল রাজ্য

১০০ দিনের কাজ, আবাস যোজনা এবং প্রধানমন্ত্রী সড়ক যোজনা খাতে বাংলার ন্যায্য প্রাপ্য দিচ্ছে না কেন্দ্রীয় সরকার। এরপর বাংলার পঞ্চদশ অর্থ কমিশনের টাকাও আটকে দেওয়ায় শুরু হয়েছে শোরগোল।

অর্থ কমিশনের টাকা ছাড়তে সামান্য দেরি, ১ কোটির ‘জরিমানা’ মেটাল রাজ্য
  • ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

প্রীতেশ বসু, কলকাতা: ১০০ দিনের কাজ, আবাস যোজনা এবং প্রধানমন্ত্রী সড়ক যোজনা খাতে বাংলার ন্যায্য প্রাপ্য দিচ্ছে না কেন্দ্রীয় সরকার। এরপর বাংলার পঞ্চদশ অর্থ কমিশনের টাকাও আটকে দেওয়ায় শুরু হয়েছে শোরগোল। রাজ্য যোগ্যতা অর্জন করতে পারেনি বলেই টাকা আটকানো হয়েছে বলে জানানো হয় পঞ্চায়েতিরাজ মন্ত্রী রাজীবরঞ্জন সিংয়ের তরফে। যোগ্যতা অর্জন করতে না পারার প্রধান কারণ হিসেবে বলা হয়েছিল ষষ্ঠ রাজ্য অর্থ কমিশনের রিপোর্ট বিধানসভায় জমা না দেওয়া। পরবর্তীতে এই রিপোর্ট বিধানসভায় জমা দিয়েছে রাজ্য। তবে সম্প্রতি বাংলার এই বরাদ্দ আটকানো নিয়ে আরও একটি চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। সূত্রের খবর, অর্থ কমিশনের টাকা পাওয়ার ১০ দিনের মধ্যে ত্রিস্তরীয় পঞ্চায়েতে তা পাঠিয়ে দেওয়াটা বাধ্যতামূলক। তা না হলে রিজার্ভ ব্যাঙ্কের নির্ধারিত হারে দিন পিছু পেনাল্টি বা জরিমানা দিতে হয় রাজ্যকে। এক্ষেত্রে কেন্দ্রের দাবি, গত বার এই খাতে দেওয়া টাকা ত্রিস্তরীয় পঞ্চায়েতে পাঠাতে চার থেকে ছ’দিন বেশি সময় লাগিয়েছিল রাজ্য। অর্থ কমিশনের টাকা আটকানোর এটিও একটি বড় কারণ বলে দাবি কেন্দ্রের। তবে এই ঘটনাকে পশ্চিমবঙ্গের ক্ষেত্রে মোদি সরকারের ‘অতিসক্রিয়তা’ বলেই মনে করছেন রাজ্যের পঞ্চায়েতমন্ত্রী প্রদীপ মজুমদার। কারণ, তাঁর দাবি, এমন একাধিক রাজ্য রয়েছে, যেখানে কোনও ব্যবস্থাই নেওয়া হয়নি। এ প্রসঙ্গে রাজ্যের ব্যাখ্যা, ১০ দিনের মধ্যেই টাকা ছেড়ে দেওয়া হয়েছিল। তবে ট্রেজারি থেকে তা বেরতে কিছুটা সময় লাগার কারণেই চার থেকে ছ’দিন বেশি লেগে যায়। কেন্দ্রীয় পোর্টালেই এই তথ্য দেখা যাচ্ছে। 

Advertisement

এই কারণে কত টাকা পেনাল্টি হল রাজ্যের? জরিমানার এই টাকা কোন কাজে ব্যবহার হবে? বিশেষ সূত্রে খবর, প্রায় এক কোটি টাকা জরিমানা গুনতে হয়েছে রাজ্যকে। সম্পূর্ণ টাকাটাই দিতে হয়েছে রাজ্যের কোষাগার থেকে। যদিও জরিমানার ওই টাকা সমানভাবে ভাগ করে দেওয়া হয়েছে রাজ্যের প্রতিটি জেলা পরিষদ, পঞ্চায়েত সমিতি এবং গ্রাম পঞ্চায়েতের মধ্যে। এক আধিকারিকের কথায়, ‘কেন্দ্র যাতে রাজ্যের ন্যায্য প্রাপ্য আটকে দিতে নতুন কোনও অজুহাত না পায়, তার জন্যই পেনাল্টির টাকা তড়িঘড়ি ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। বিধানসভায় 
ষষ্ঠ রাজ্য অর্থ কমিশনের রিপোর্ট জমা দেওয়ার পরেই তা দেওয়া হয়েছে রাজ্যের তরফে। সম্প্রতি, রাজ্যের আধিকারিকরা দিল্লি গিয়ে বিষয়টি নিয়ে 
বিস্তারিত আলোচনা করে এসেছেন। এবার পেনাল্টি মিটিয়ে দেওয়ার কথা জানিয়ে কেন্দ্রকে রাজ্যের তরফে চিঠি লেখা হচ্ছে বলে খবর। সেই চিঠিতে দ্রুত বাংলার পঞ্চদশ অর্থ কমিশনের টাকা ছাড়ার কথাও বলা হচ্ছে। 
২০২৫-২৬ অর্থবর্ষের প্রথম কিস্তির টাকা আটকে দিয়েছে কেন্দ্র। কারণ, ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষের টাকা কোনও কোনও ক্ষেত্রে চার দিন থেকে ছ’দিন পরে গিয়েছে বলে নিজস্ব পোর্টাল থেকে খুঁজে বের করেছেন কেন্দ্রীয় আধিকারিকরা। তারপরেই চলতি আর্থিক বছরের প্রথম কিস্তির টাকা দিতে অস্বীকার করে কেন্দ্র। রাজ্যের এক আধিকারিক বলেন, ‘দিল্লির শর্ত অনুযায়ী প্রতিটি কাজ করা হয়েছে। এর পরেও যদি এই খাতের টাকা না দেওয়া হয়, তাহলে বুঝতে হবে, কারণটা সম্পূর্ণ রাজনৈতিক।’ 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ