


হায়দরাবাদ, ২৯ মার্চ: তেলেঙ্গানার এক ছোট্ট গ্রাম। এই গ্রামেই জন্ম নিয়েছে এক ব্যাতিক্রমী প্রথা। যা আজ ২৩ বছর ধরে মানুষের আবেগ, বিশ্বাস আর স্মৃতির এক অনন্য প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে। তেলেঙ্গানার মাহবুবাবাদ জেলার লালু ও সুক্কাম্মা এই দম্পতি প্রতি বছর এক বিশেষ দিনে আয়োজন করেন এক অনন্য বিয়ের অনুষ্ঠান। কিন্তু এই বিয়ে কোনো সাধারণ বিয়ে নয়। এটি তাদের প্রয়াত ছেলের বিয়ে।
২০০৩ সালে প্রেমের সম্পর্ক পরিবার মেনে না নেওয়ায় আত্মহত্যা করেন ছেলে রাম কোটি। কয়েক দিনের মধ্যেই প্রাণ হারান সেই তরুণীও, যাকে তিনি ভালোবাসতেন। পরপর দুই মৃত্যুর এই মর্মান্তিক ঘটনায় ভেঙে পড়ে দুই পরিবার, বিশেষ করে রাম কোটির বাবা-মা। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই শোককে অন্য রূপ দেন লালু ও সুক্কাম্মা। তারা সিদ্ধান্ত নেন ছেলের স্মৃতিকে কখনও মুছে যেতে দেবেন না তাঁদের জীবন থেকে। তার পরেই এক বিশেষ সিদ্ধান্ত। সুক্কাম্মা জানায়, ছেলের মৃত্যুর পর এক রাতে স্বপ্নে এসে রাম কোটি নাকি বলেছিল, তার জন্য একটি মন্দির তৈরি করতে এবং তার বিয়ের আয়োজন করতে। সেই বিশ্বাস থেকেই নিজেদের বাড়ির ভেতর ছোট্ট একটি মন্দির তৈরি করেন তারা। সেখানে পাশাপাশি স্থাপন করা হয় রাম কোটি এবং তার প্রয়াত প্রেমিকার মূর্তি। এরপর থেকেই প্রতি বছর রাম নবমীর দিন তারা আয়োজন করেন এই প্রতীকী বিবাহ অনুষ্ঠান। পূজা, মন্ত্র, সব কিছুই হয় একেবারে নিয়ম মেনে, যেন সত্যিই দুজনের বিয়ে হচ্ছে।
তেলেঙ্গানায় রাম নবমী মানেই ভগবান রাম ও সীতার ঐশ্বরিক বিবাহের উদযাপন। সেই ঐতিহ্য থেকেই অনুপ্রাণিত হয়ে লালু ও সুক্কাম্মা তাদের ছেলের মূর্তিকে দেবতার মতোই সম্মান দিয়ে এই রীতি পালন করেন। বছরের পর বছর ধরে এই ব্যক্তিগত শোকের অনুষ্ঠান আজ পরিণত হয়েছে এক সামাজিক প্রথায়। প্রতিবছর এই দিনে গ্রামবাসী, আত্মীয়স্বজন এবং আশপাশের এলাকার মানুষ জড়ো হন এই অদ্ভুত অথচ আবেগঘন বিয়ের সাক্ষী হতে।