Bartaman Logo
৬ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

মুঙ্গের থেকে আসছে অস্ত্র, পুলিশের চোখে ধুলো দিতে বারবার রুট বদল

মুঙ্গের থেকেই চোরাপথে বেআইনি অস্ত্র আসছে মালদহে। বিশেষ করে সেমি অটোমেটিক পিস্তল সাপ্লাই হচ্ছে ভিনরাজ্য থেকেই।

মুঙ্গের থেকে আসছে অস্ত্র, পুলিশের চোখে ধুলো দিতে বারবার রুট বদল
  • ২২ জানুয়ারি, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, মালদহ: মুঙ্গের থেকেই চোরাপথে বেআইনি অস্ত্র আসছে মালদহে। বিশেষ করে সেমি অটোমেটিক পিস্তল সাপ্লাই হচ্ছে ভিনরাজ্য থেকেই। পাইপগান অবশ্য তৈরি হচ্ছে স্থানীয়ভাবে। পুলিশের চোখে ধুলো দিতে বারবার রুট বদল করছে অস্ত্র কারবারিরা। মঙ্গলবার পাইপগান ও পিস্তল সহ দু’জন ধরা পড়ার পর অস্ত্র কারবার সম্পর্কে এমনই সব তথ্য উঠে আসছে। মালদহের পুলিশ সুপার অভিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়ও বলেছেন, সেভেন এমএম পিস্তল মূলত বিহার থেকেই আসছে।

Advertisement

একমাসের মধ্যেই ঘোষণা হতে পারে রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচন। ঠিক তার আগেই মালদহে অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনায় হইচই পড়ে গিয়েছে। শাসক ও  বিরোধী দল একে অপরকে দোষারোপ করতে ব্যস্ত। কিন্তু সাধারণ মানুষের প্রশ্ন, এত অস্ত্র আসছে কোথা থেকে? একই দিনে অভিযান চালিয়ে মালদহ পুলিশ ১০টি দেশি পাইপগান, পাঁচটি সেভেন এমএম সেমি অটোমেটিক পিস্তল উদ্ধার করে। একেকটি পিস্তলের মূল্য কয়েক লক্ষ টাকা। এত দামি পিস্তল আসছে কোথা থেকে? পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, সেভেন এমএম সেমি অটোমেটিক পিস্তল  আসছে বিহারের মুঙ্গের থেকে। কালিয়াচক ও তার আশপাশের বেশকিছু এলাকায় বেআইনি অস্ত্র কারবারের কিছু ডিলার আছে। যারা মোটা টাকার বিনিময়ে কিছু ক্যারিয়ার রেখেছে। অন্ধকার জগতে অস্ত্রের প্রয়োজন হলে এদের মাধ্যমেই অর্ডার পায় আর্মস ডিলাররা। অগ্রিম দেওয়ার পর অস্ত্র আসে মুঙ্গের থেকে। মালদহ পুলিশ বেআইনি অস্ত্রের কারবার রুখতে লাগাতার অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে। ফলে সড়ক পথে অস্ত্র আনতে গিয়ে প্রতিবার পুলিশের জালে আটকে যাচ্ছে কারবারিরা। তাই পুলিশের চোখে ধুলো দিতে বারবার রুট বদলাচ্ছে তারা। কিন্তু পুলিশি তৎপরতায় তাতেও খুব একটা লাভ হচ্ছে না। জানা গিয়েছে, সড়কের পাশাপাশি জলপথেও এরাজ্যে অস্ত্র ঢোকাচ্ছে দুষ্কৃতীরা। পুলিশ সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, একটি ওয়ান শটারের দাম ১০ থেকে ২০ হাজার টাকার মধ্যে। সেভেন এমএম সেমি অটোমেটিক পিস্তল বিকোয় ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকায়। নাইন এমএম পিস্তলের ক্ষেত্রে সেটা ৩৫ থেকে ৪০ হাজার টাকা। তদন্তকারীদের সূত্রে খবর, সোমবার যে দুই অস্ত্র কারবারিকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে, তাদের মধ্যে লালগোলার মইনুল হাসান আর্মস ডেলিভারির উদ্দেশ্যেই এখানে এসেছিল। কিন্তু তার আগেই পুলিশ ধরে ফেলে। একইভাবে কালিয়াচকের বাসিন্দা আনারুল হক ডেলিভারির জন্য তার দোকানে চারটি সেভেন এমএম পিস্তল মজুত করেছিল। তারা কাদের, কোন উদ্দেশ্যে অস্ত্র সরবরাহ করতে যাচ্ছিল, তা এখনও স্পষ্ট নয়।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ