


নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: ২০২৬ সালে বাড়তে চলেছে সম্পত্তি কর, স্ট্যাম্প ডিউটি এবং জমি, বাড়ির বিক্রির রেজিস্ট্রেশন মাশুল। আয় বাড়াতে রাজ্যগুলিকে ষোড়শ অর্থ কমিশন এই মর্মে সুপারিশ করতে পারে বলে সরকারি সূত্রে খবর। ক্যাগ এবং ষোড়শ অর্থ কমিশনের বৈঠকে এই মর্মে আলোচনা হয়েছে। সেখানেই বিষয়টি স্থির হয়েছে। অর্থ কমিশনের সুপারিশ সচরাচর রাজ্যগুলিকে মানতেই হয়। এর ফলে সাধারণ মানুষের ঘাড়ে আরও একদফা আর্থিক বোঝা চাপতে পারে বলে আশঙ্কা।
একদিকে করের চাপ। অন্যদিকে, চরম মূল্যবৃদ্ধি। এর যাঁতাকলে আম আদমি। কেন্দ্র অথবা রাজ্য সরকারের আয়ের অন্যতম উৎস নানাবিধ ট্যাক্স।। করোনাকালের আর্থিক বিপর্যয়। বিভিন্ন কেন্দ্রীয় প্রকল্পের টাকা আটকে থাকা। ট্যাক্সের টাকা কেন্দ্র ও রাজ্যের মধ্যে বিভাজিত হওয়ার ফরমুলা নিয়ে বিবাদ, ইত্যাদি নানাবিধ কারণে রাজ্যগুলির অর্থসঙ্কট চরমে। আবার পাশাপাশি কমবেশি প্রতিটি রাজ্যই একাধিক জনস্বার্থবাহী অনুদান প্রকল্প চালায়। ফলে রাজকোষে চাপ আরও বেশি। এমতাবস্থায় রাজ্যগুলির আর্থিক স্বাস্থ্যোন্নতির লক্ষ্যে অর্থ কমিশন ও কেন্দ্রীয় কম্পট্রোলার অ্যান্ড অডিটর জেনারেলের (ক্যাগ) বৈঠকে যে দাওয়াই উঠে আসছে, তা কার্যকর হলে স্বাভাবিকভাবে সাধারণ মানুষের ঘাড়েই কোপ পড়বে। অর্থ কমিশন কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের আর্থিক পরিস্থিতির উন্নতির উপায় খুঁজতে আলোচনায় বসেছিল। সেখানে রাজ্যগুলিকে আয় বাড়ানোর পন্থা খুঁজে দেখতে বলার বিষয়ে সহমত উঠে এসেছে। এই লক্ষ্যেই সম্পত্তি কর, জমি ও বাড়ি বিক্রির রেজিস্ট্রেশন চার্জ, স্ট্যাম্প উিউটি বৃদ্ধির দাওয়াই দেওয়া হতে পারে। অর্থ কমিশনের সঙ্গে বৈঠকে ক্যাগ এমনই সুপারিশ করেছে। এক্ষেত্রে যুক্তি হল, অনেক রাজ্যেই বহু বছর ধরে এই মাশুলগুলি বাড়ানো হয়নি। সুতরাং এখন বাড়ানো যেতেই পারে। আর তাছাড়া বিভিন্ন এলাকায় সরকার নির্ধারিত সার্কল রেটের তুলনায় অনেক বেশি দামেই জমি বাড়ি কেনাকাটা হয়ে থাকে। সুতরাং উচ্চ হারে যারা জমি বাড়ি কিনবে, তাদের জন্য মাশুল হার বেশি করা যেতে পারে। দেখা যায়, বাড়ি-জমি ক্রয়বিক্রয়ে সবথেকে কম মাশুল আসে সরকারের ঘরে। তা বাড়াতে হবে বলে মনে করছে ক্যাগ ও অর্থ কমিশন।
ষোড়শ অর্থ কমিশন ২০২৫ সালের অক্টোবর মাসেই তাদের সুপারিশ রিপোর্ট পেশ করবে। নতুন অর্থ কমিশনের রিপোর্টে থাকবে প্রধানত দুই সুপারিশ। ১) গোটা দেশ থেকে সংগৃহীত ট্যাক্সের কত শতাংশ কেন্দ্রীয় সরকার রাজ্যগুলিকে দেবে সেই নয়া ফরমুলা ২) ২০২৬ সালের এপ্রিল থেকে পরবর্তী পাঁচ বছরের জন্য কেন্দ্র থেকে রাজ্য সরকারগুলি কত টাকা অনুদান রাশি পাবে (গ্র্যান্ট ইন এইড)। এই দুই সুপারিশই প্রধানত যে কোনও অর্থ কমিশনের রিপোর্টের সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ অংশ। কয়েকদিন আগেই জানা গিয়েছে, রাজ্যগুলিকে প্রাপ্ত ট্যাক্সের কম ভাগ দিতে চাইছে কেন্দ্র। তেমন হলে রাজ্যগুলির অর্থসঙ্কট বাড়বে। ফলে সম্পত্তি কর, জমি-বাড়ির রেজিস্ট্রেশন মাশুল ও স্ট্যাম্প ডিউটি বৃদ্ধি ছাড়া উপায় থাকবে না রাজ্যগুলির।