


শ্রীকান্ত পড়্যা, হলদিয়া: মেদিনীপুরের মাটি থেকে গদ্দারদের রাজনৈতিকভাবে উৎখাত করার ডাক দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মঙ্গলবার হলদিয়া বিধানসভার সুতাহাটার সুবর্ণজয়ন্তী মাঠে নির্বাচনি সভায় হাত মুষ্টিবদ্ধ করে এই চ্যালেঞ্জ জানালেন মুখ্যমন্ত্রী। সেইসঙ্গে এও ঘোষণা করলেন, ‘আগামীদিন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় মেদিনীপুরের দায়িত্ব নিয়ে কাজ করবেন। আমি একথা বলে গেলাম।’ মুখ্যমন্ত্রীর এই ঘোষণায় গোটা সভাস্থল থেকে হাততালির ঝড় ওঠে। মুখ্যমন্ত্রীর এই ঘোষণাকে স্বাগত জানিয়ে চাঙ্গা হলদিয়ার আপামর তৃণমূল কর্মীরা।
এদিন প্রথম দফার নির্বাচনের ভোট প্রচারের শেষদিন। হলদিয়ার তৃণমূল প্রার্থী তাপসী মণ্ডলের সমর্থনে ওই নির্বাচনি সভায় আসেন মমতা। সেখানে আগাগোড়াই নাম না করে দলবদলু ‘গদ্দারদের’কেই নিশানা করেন তিনি। বলেন, ‘দিল্লিতে তোমরা ক্ষমতায় আছ। ২০টা গাড়ি নিয়ে তোমরা ঘুরে বেড়াও। গাড়িতে নীলবাতি, লালবাতি লাগিয়ে সবাই ঘুরছ। তোমাদের এত অহংকার! এক ভাই এমপি। তুমি বিধায়ক। আরেক ভাই বিধানসভার প্রার্থী। পুরো পরিবারটাকেই ঢেলে দিয়েছ। আমাদের পরিবারে বিধানসভা ভোটে আমি ছাড়া কেউ দাঁড়াইনি। অভিষেককে রোজ গালিগালাজ করো। আসলে তুমি অভিষেকের সঙ্গে লড়তে পারো না। আর আমার সঙ্গে লড়বে? আগামী দিনে অভিষেক মেদিনীপুরের দায়িত্ব নিয়ে কাজ করবে। আমি তো থাকবই। আর এই গদ্দারদের রাজনৈতিকভাবে উৎখাত করবই।’
এদিন হলদিয়া শিল্পাঞ্চলে বিজেপির প্রভাব নিয়েও মুখ খোলেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘হলদিয়ার ইন্ডাস্ট্রিতে কেউ যাতে অন্যায় না করে আমি নজর রাখি। এরা কেন্দ্রে ক্ষমতায় আছে বলে হলদিয়া থেকে টাকা তোলে। একদিন এদের টাকা তোলাও বন্ধ করব। শ্রমিকদের টাকা তুমি নেবে কেন? কেন কারখান থেকে টাকা নেবে? কেন ট্রাকপিছু টাকা আদায় করবে? সেই টাকার অর্ধেক নিজে নেয়। বাদবাকি বাইরের নেতাদের দেয়। আমার কাছে এসব অজানা নয়। বিজেপি আমাদের বিরুদ্ধে চার্জশিট দিচ্ছে। আমি ওদের বিরুদ্ধে চার্জশিট দিলাম। প্রতিদিন হলদিয়া থেকে কত টাকা আদায় হয়, এর একটা তদন্ত হোক।’
নন্দীগ্রামে ‘লোড শেডিং’ বিতর্কেও এদিন সরব হন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘আগেরবার নন্দীগ্রামে রাতের বেলায় লোডশেডিং করে ইভিএম লুট করেছিল। কাউন্টিং লুট করেছিল। এবারও সেই ঘটনার পুনরাবৃত্তি হতে পারে। সবাই সতর্ক থাকবেন।’ মমতার কথায়, ‘এমনিতে বিজেপি জিততে পারবে না। নন্দীগ্রামের মানুষ তোমাদের আগেরবার ভোট দেননি। এখনও কোর্টে মামলা বিচারাধীন। এবারেও লোডশেডিং করে দেবে। ব্যাপক ছাপ্পা ভোট দেবে। সবাই সজাগ থাকবেন।’
এদিন মমতার বক্তব্যে নন্দীগ্রাম কাণ্ডের প্রসঙ্গ উঠে আসে। তিনি বলেন, ‘নন্দীগ্রামের ঘটনা সম্পর্কে এরা সব জানত। বাপ-ব্যাটা কেউ সাত-দশ দিন বেরোয়নি। আমি একা রাস্তায় ছিলাম। সেসব কথা নিশ্চয়ই হলদিয়া, নন্দীগ্রামের মানুষের মনে আছে। কেউ আসতে সাহস পায়নি। আমি জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ঢুকেছিলাম। আমি এদের আজ নয়, দীর্ঘদিন ধরে চিনি। আমি অনেক দিয়েছি এই পরিবারকে। এখন বিজেপির সাহায্যে দুধে-ভাতে আছে। হাজার হাজার কোটি টাকা নিয়ে বিভিন্ন জায়গায় বিনিয়োগ করে রেখেছে।’ একই সঙ্গে মমতার অভিযোগ, ‘ভোটের সময় কাকে গ্রেপ্তার করতে হবে, সেই লিস্ট বানিয়ে দিয়েছে গদ্দার। যারা নিজের সিকিউরিটি গার্ডকে হত্যা করেছে, তাদের আগে গ্রেপ্তার করা হোক।’ এদিন হলদিয়ার ওই সভা থেকে ভার্চুয়াল মাধ্যমে পটাশপুর, কাঁথি উত্তর ও দক্ষিণ, নন্দীগ্রাম, এগরা বিধানসভার প্রার্থী সহ নেতা-কর্মীরাও জনসভায় যোগ দিয়েছিলেন।’ সুতাহাটার জনসভায় তৃণমূল সুপ্রিমো।-নিজস্ব চিত্র