Bartaman Logo
৩০ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

‘আমরা একসঙ্গে এবার অনেক কাজ করব’ ইসকন পরিদর্শনে গিয়ে বার্তা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর

‘আমরা একসঙ্গে এবার অনেক কাজ করব।’ পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথমবার মায়াপুরের ইসকন পরিদর্শন করে এমনই বার্তা দিলেন শুভেন্দু অধিকারী

‘আমরা একসঙ্গে এবার অনেক কাজ করব’ ইসকন পরিদর্শনে গিয়ে বার্তা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর
  • ২৯ মে, ২০২৬ ০৪:০০

নিজস্ব প্রতিনিধি, নবদ্বীপ: ‘আমরা একসঙ্গে এবার অনেক কাজ করব।’ পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথমবার মায়াপুরের ইসকন পরিদর্শন করে এমনই বার্তা দিলেন শুভেন্দু অধিকারী। বৃহস্পতিবার তাঁর সফর ঘিরে সকাল থেকেই মায়াপুরে ছিল উৎসবের আবহ। তাঁকে দেখতে মায়াপুরজুড়ে বহু ভক্ত ও সাধারণ মানুষ ভিড় জমান। ইসকন চত্বরজুড়ে ছিল কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা। মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে এদিন উপস্থিত ছিলেন নদীয়ার দুই সাংগঠনিক জেলার বিজেপির সভাপতিরাও। ‘জয় শ্রী রাম’ ধ্বনিতে মুখরিত হয় বিভিন্ন জায়গা।

Advertisement

বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টা নাগাদ মুখ্যমন্ত্রী প্রথম ইসকনের গোশালায় পৌঁছান। সেখানে বিশেষ পুজায় অংশ নেওয়ার পাশাপাশি গোমাতার সেবা করেন। ইসকন সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রায় ৪০০-রও বেশি গোরুর সেবায় মুখ্যমন্ত্রী অংশ নিয়েছেন। প্রায় ৪০ মিনিট গোশালায় কাটিয়ে গোশালার বিভিন্ন পরিকাঠামো ও পরিষেবা তিনি খতিয়ে দেখেন। কুরবানির দিন মুখ্যমন্ত্রীর এই গোসেবা ও গোশালা পরিদর্শন রাজনৈতিক মহলে যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
গোশালা পরিদর্শনের পর মুখ্যমন্ত্রী যান মায়াপুরের চন্দ্রোদয় মন্দিরে। সেখানে তিনি রাধামাধবের দর্শন করেন এবং বিশেষ পুজো ও যজ্ঞে অংশগ্রহণ করেন। পরে ভক্তিবেদান্দ প্রভুপাদের-র চরণে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন এবং চৈতন্য মহাপ্রভু-কে স্মরণ করে পশ্চিমবঙ্গের সর্বাঙ্গীণ কল্যাণ কামনা করেন। সফরের শেষে ইসকন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বৈঠক করে আগামী দিনে একসঙ্গে সামাজিক ও মানবিক কাজ করার বার্তাও দেন মুখ্যমন্ত্রী।
সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে শুভেন্দুবাবু বলেন, দায়িত্ব নেওয়ার পর আমি কালীঘাটে গিয়েছি। বেলুড় মঠে গিয়ে স্বামী বিবেকানন্দ ও রামকৃষ্ণদেবের চরণে শ্রদ্ধা জানিয়েছি। লক্ষ্মীনারায়ণ মন্দির ও জৈন মন্দিরেও গিয়েছি। ইসকনে আসা অনেকদিনের ইচ্ছা ছিল। রাধামাধবের দর্শন, গোমাতার সেবা করা, শ্রীলা প্রভুপাদের চরণে শ্রদ্ধা নিবেদন এবং শ্রীচৈতন্যদেবকে স্মরণ করে মানুষের জন্য কাজ করার শক্তি প্রার্থনা করতেই এসেছি। মায়াপুরের সঙ্গে তাঁর দীর্ঘদিনের সম্পর্কের কথাও তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘আমি এখানে হৃদয়ের টানে এসেছি। আমি একজন সনাতনী এবং ইসকনের পরম ভক্ত। শ্রীলা প্রভুপাদ গোটা পৃথিবীতে হরেকৃষ্ণ মহামন্ত্র ও জগন্নাথদেবের রথযাত্রাকে ছড়িয়ে দিয়েছেন। ইসকন যেভাবে নিঃস্বার্থভাবে গীতার বাণী প্রচার ও প্রসার করে চলেছে, তা সত্যিই অতুলনীয়।’
মায়াপুরের সঙ্গে তাঁর বহু স্মৃতি জড়িয়ে রয়েছে বলে জানান শুভেন্দুবাবু। তিনি বলেন, দোলপূর্ণিমা, জন্মাষ্টমী ও রথযাত্রার সময় আমি নিয়মিত রাধামাধবের অভিষেকে অংশ নিই। ভক্তিচারু মহারাজের সঙ্গে আমার বিশেষ সম্পর্ক ছিল। তিনি যখনই মেদিনীপুরে যেতেন, আমাকে ডেকে পাঠাতেন। আগামী দিনে আমরা একসঙ্গে বহু কাজ করব। ধর্মীয় আবহ, রাজনৈতিক বার্তা এবং সনাতনী ভাবধারার প্রকাশ, সব মিলিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর এদিন মায়াপুর সফর ছিল ব্যাপক উৎসাহ ও কৌতূহল।  ইসকন মন্দিরে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। 

সম্পর্কিত সংবাদ