ইস্ট বেঙ্গল দুর্গ বিজয়গড়। লাল-হলুদে ছয়লাপ। আমার বাড়িরও সবাই ইস্ট বেঙ্গল সমর্থক। ছোটবেলায় কাকার কোলে চেপেই হাজির হতাম ময়দানে। র্যাম্পার্টে দাঁড়িয়ে ম্যাচ দেখার অভিজ্ঞতাও রয়েছে। অথচ বাঙাল বাড়ির সেই ছেলের প্রথম বড় ক্লাব মোহন বাগান! নয়ের দশকের গোড়ার কথা। ঘরোয়া লিগে আমি তখন ইস্টার্ন রেলে। লিগ শেষ হতেই প্রস্তাব দেয় মোহন বাগান। সেটাই টার্নিং পয়েন্ট। আসলে বড় দলের জার্সি যে কোনও ফুটবলারের স্বপ্ন। কালবিলম্ব না করে ১৯৯০ সালে সই করি মোহন বাগানে। এক মরশুম কাটানোর পর আমায় রিক্রুট করে ইস্ট বেঙ্গল। সেদিন পাড়ায় জোরদার উৎসব। কাকা বলেছিলেন, ‘এইড্যা আমাগো ক্লাব। জার্সির মান রাখিস।’ তারপর ইস্ট বেঙ্গলই হয়ে ওঠে আমার অভ্রান্ত ঠিকানা। টানা ১৪ বছর লাল-হলুদ জার্সি গায়ে চাপানোর সৌভাগ্য খুব কম ফুটবলারের জীবনে আসে। অবসরের পরেও ক্লাবের সঙ্গে মধুর সম্পর্ক অটুট।
ময়দানের সঙ্গে দীর্ঘদিনের মেলবন্ধন। ফুটবল মরশুম এলেই পুরনো কথা মনে পড়ে। আসলে ঘরোয়া লিগ বাংলা ফুটবলের প্রাণ! কত উন্মাদনার সাক্ষী ঘেরা মাঠের গ্যালারি। অথচ সেই লিগই এখন রক্তাল্পতায় ভুগছে। কেন এই হাল? ব্যক্তিগত মত, বাংলার জেলায় প্রতিভাবান ফুটবলারের অভাব নেই। শুধু প্রমাণের মঞ্চ চাই। সে জন্য ময়দানে ফুটবল ফেরাতেই হবে। গড়ের মাঠের মাদকতাই আলাদা। ফুটবলার স্পট করতেও সুবিধা হয় কর্তাদের। অন্য কারণও রয়েছে। যেমন বিদেশিহীন ঘরোয়া লিগ আয়োজনের সিদ্ধান্ত বোঝা দায়। অতীতে চিমা, ব্যারেটো, মুসা, ডগলাসদের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে লড়াই করেছে ভারতীয়রা। আরে বাবা কড়া চালেঞ্জের মুখে না পড়লে আত্মবিশ্বাস বাড়বে কীভাবে?
ঘরোয়া লিগ মানেই ঘাড়ের কাছে দর্শক। দ্রুত গোল না পেলেই সমস্যা। যত সময় গড়াবে চাপও বাড়বে। প্রতিপক্ষের পায়ের জঙ্গল ভেদ করে গোল তুলে নেওয়াও চ্যালেঞ্জ। ঘরোয়া লিগ যে কোনও ফুটবলারের অ্যাসিড টেস্ট। বড় দলের জার্সির ওজন সামলানোর প্রথম পরীক্ষা। তাই লিগকে গুরুত্বহীন ভাবা অর্থহীন। খিদিরপুর, রেল, টালিগঞ্জ, পিয়ারলেস, এরিয়ানকে হারাতে বড় দলও হিমশিম খেত। ফুটবলের স্বার্থে লিগের নবজাগরণ চাই। পরিকল্পনা ও সদিচ্ছা থাকলেই সেটা সম্ভব।