Bartaman Logo
২৪ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

‘আমরা কথা দিলে কথা রাখি’, ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান নিয়ে বিজেপিকে নিশানা মমতার

আপনাদের দীর্ঘদিনের দাবি, কেলেঘাই-কপালেশ্বরী খাল আমরা সংস্কার করে দিয়েছি। ঘাটাল মাস্টার প্ল্যানের কাজ শুরু করে দিয়েছি

‘আমরা কথা দিলে কথা রাখি’, ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান নিয়ে বিজেপিকে নিশানা মমতার
  • ১৫ এপ্রিল, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, খড়্গপুর: আপনাদের দীর্ঘদিনের দাবি, কেলেঘাই-কপালেশ্বরী খাল আমরা সংস্কার করে দিয়েছি। ঘাটাল মাস্টার প্ল্যানের কাজ শুরু করে দিয়েছি। আমরা কথা দিলে কথা রাখি। আর বিজেপি মিথ্যা কথা বলে, ইলেকশনের পরে বুলডোজার চালিয়ে দেয়। মঙ্গলবার দুপুরে পিংলার সভা থেকে বিজেপিকে কড়া ভাষায় নিশানা করেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। দু’দিন আগেই ডেবরার সভা থেকে ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বলেছিলেন, ‘কেন্দ্র সরকার ঘাটাল মাস্টার প্ল্যানের ৬০ শতাংশ টাকা দিতে চেয়েছিল। বিজেপি এলে মাস্টার প্ল্যান হবে।’ তার জবাবে এদিন মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ১০ বছর ধরে আবেদন জানানোর পরেও ওরা টাকা দেয়নি। ঘাটাল মাস্টার প্ল্যানের জন্য আমরা বাজেটে ১৫০০ কোটি টাকা অনুমোদন করেছি। ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দের পর কাজ শুরু হয়ে গিয়েছে। সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে একই কথা জানিয়েছেন বিদায়ী সেচমন্ত্রী মানসরঞ্জন ভুঁইয়া।

Advertisement

এদিন মেদিনীপুরের মানুষকে ‘সতর্ক’ করে দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, বন্যায় এক পয়সা দেয় না। ঝড়ে ক্ষতি হলেও এক পয়সা দেয় না। কেলেঘাই-কপালেশ্বরী সংস্কারে এক পয়সা দেয়নি। ঘাটাল মাস্টার প্ল্যানে একটা টাকাও দেয়নি। আর এখন চুরির টাকা, কালো টাকা দিয়ে বেড়াচ্ছে। ওই টাকা নিলে চরিত্র নষ্ট হবে। এদিন পশ্চিম মেদিনীপুরের পিংলা বিধানসভার অধীন কৃষ্ণনগরের কাঁচডিহা স্ট্যাক ইয়ার্ড মাঠে সভা করেন মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল নেত্রী। পিংলার দলীয় প্রার্থী অজিত মাইতি এবং সবংয়ের প্রার্থী মানসরঞ্জন ভুঁইয়ার সমর্থনে এই সভা হয়। গত কয়েকমাসে পশ্চিম মেদিনীপুর সহ বাংলার পরিযায়ী শ্রমিকরা যেভাবে ভিনরাজ্যে অত্যাচারিত হয়েছেন, তা নিয়েও এদিন মুখ খোলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। 
ঘাটাল-দাসপুরের স্বর্ণশিল্পী, পিংলার পটশিল্পী, সবংয়ের মাদুর শিল্পীদের প্রতি সম্মান জানিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, আপনাদের এখানে কত শিল্পী আছে। তাঁদের ডেকে নিয়ে যাওয়া হয় সোনার, পটের, মাদুরের কাজ করার জন্য। তাঁরা যখন বিজেপি শাসিত রাজ্যে যান, তখনই তাঁদের খুন করা হয়। বাংলা ভাষায় কথা বললে সবাইকে অনুপ্রবেশকারী বলা হয়। বাংলাতেও তো দেড় কোটি পরিযায়ী শ্রমিক কাজ করেন। আমরা তাদের আশ্রয় দিয়েছি। তাদের উপর কোনো অত্যাচার তো হয় না। সভাস্থলের অদূরেই খড়্গপুরের বিদ্যাসাগর শিল্পতালুকের কথাও মনে করিয়ে দেন মুখ্যমন্ত্রী। সেখানে ভিনরাজ্যের হাজার হাজার শ্রমিক কাজ করেন।
পিংলার পটশিল্পী, সবংয়ের মাদুর শিল্পী সহ স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মহিলাদের আশ্বস্ত করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, আমরা আপনাদের জন্য শপিংমল করব। যেখানে দু’টো তলা থাকবে স্বনির্ভর গোষ্ঠীর জন্য। মানুষ আপনার হাতের তৈরি পটের চিত্র কিনবে, এখানকার তৈরি মাদুর কিনবে। এদিন মেদিনীপুরের মাটিকে শ্রদ্ধা জানিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, অবিভক্ত মেদিনীপুর ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের জেলা। ক্ষুদিরামের জেলা। সতীশ সামন্তের জেলা। মাতঙ্গিনী হাজরার জেলা। তোমরা কি ভাবছ এখানে হবে নোংরা খেলা? না, এখানে হবে দুরন্ত খেলা। এদিনের সভা থেকে পয়লা বৈশাখ ও চড়ক উপলক্ষ্যে মেদিনীপুরবাসীকে শুভেচ্ছা জানান মুখ্যমন্ত্রী। সেইসঙ্গেই তীব্র দাবদাহের মধ্যেও উপস্থিত কর্মী-সমর্থকদের, বিশেষত মহিলাদের প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, আপনারা আমাদের অহঙ্কার। আমি কথা দিচ্ছি, লক্ষ্মীর ভাণ্ডার আজীবন চলবে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ