Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

‘ক্যারি ব্যাগ না দিলে জিনিসপত্রই নেন না’ , ‘পরিবেশ বাঁচাতে পারছি না আমরা’, আক্ষেপ দোকানিদের

রিপন স্ট্রিটে পেয়ারা বিক্রি করেন আনোয়ার। তিনি জানেনই না, যে পাতলা প্লাস্টিকের ব্যাগে ভরে ক্রেতাদের পেয়ারা দিচ্ছেন সেটি বেআইনি। তাঁকে জানানোর পর চটজলদি লুকিয়ে ফেললেন ঝুড়ির নীচে।

‘ক্যারি ব্যাগ না দিলে জিনিসপত্রই নেন না’ , ‘পরিবেশ বাঁচাতে পারছি না আমরা’, আক্ষেপ দোকানিদের
  • ৪ জুলাই, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: রিপন স্ট্রিটে পেয়ারা বিক্রি করেন আনোয়ার। তিনি জানেনই না, যে পাতলা প্লাস্টিকের ব্যাগে ভরে ক্রেতাদের পেয়ারা দিচ্ছেন সেটি বেআইনি। তাঁকে জানানোর পর চটজলদি লুকিয়ে ফেললেন ঝুড়ির নীচে। গড়িয়াহাট থেকে বেলঘরিয়া। সল্টলেক থেকে শ্যামবাজার। নিউটাউন থেকে বারাসত। শহর-শহরতলির সর্বত্র বৃহস্পতিবার একই ছবি দেখা গেল।

Advertisement

‘এই পদার্থটি পরিবেশ তথা মানব সভ্যতার পর্যন্ত সর্বনাশ করে দিচ্ছে। সরকার একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক ব্যবহার নিষিদ্ধও করেছে। কিন্তু বাজারে গেলেই কিনতে পাওয়া যায় নিষিদ্ধ প্লাস্টিক’-বক্তব্য পরিবেশবিদদের। বৃহস্পতিবার ছিল ‘বিশ্ব প্লাস্টিক ব্যাগ মুক্ত দিবস’। তবে এদিনটিতে অন্যান্য দিনের মতোই সব জায়গায় দেদার ব্যবহার হতে দেখা গিয়েছে নিষিদ্ধ প্লাস্টিকের ক্যারিব্যাগ।
বিক্রেতাদের বক্তব্য, ‘ছোট প্লাস্টিক দেড়শ থেকে দু’শো টাকা কিলো। একটি প্লাস্টিকের ক্যারিব্যাগের দাম এক টাকারও কম। ফলে তা দিলেই সাশ্রয় হয়।’ ক্রেতাদের বক্তব্য, ‘কাপড়ের ব্যাগ নিয়েই তো বের হই কিন্তু মাঝেমধ্যেই যাই ভুলে। তখন প্লাস্টিক নিতেই হয়। কি আর করব?’ বিক্রেতারা বলেন, ‘মাছ-সব্জি দিতে ঠোঙা দেওয়া যায় না। মোটা প্লাস্টিকের দাম বেশি। ফলে পাতলা প্লাস্টিকের ব্যাগই দিতে হয়।’ আর পশ্চিমবঙ্গ দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদের চেয়ারম্যান কল্যাণ রুদ্র বলেন, ‘মানুষের অভ্যাসের পরিবর্তন জরুরি। আমরা পড়ুয়াদের পর্যন্ত সচেতন করার চেষ্টা চালাচ্ছি।’ 
পাশাপাশি তিনি জানান, রাজ্যে ৩০টি প্লাস্টিক বর্জ্য রিসাইকল সংস্থা আছে। প্লাস্টিক বর্জ্য থেকে জ্বালানি, বোতল, আসবাব তৈরি হয়। একাধিক বাজারে কাপড়ের ব্যাগের ভেন্ডিং মেশিন বসানো হয়েছে। ১০ টাকা দিয়ে কিনতে পাওয়া যায়। ১৩ টাকা ভর্তুকি দেওয়া হয়। ১২০ মাইক্রনের নীচে প্লাস্টিক নিষিদ্ধ। কিন্তু প্যাকেজিং নিষিদ্ধ নয়। সেখান থেকে পুনর্ব্যবহার করাই চ্যালেঞ্জ। এটায় বিপুল বাণিজ্যিক সম্ভাবনা আছে। 
জানা গিয়েছে, কলকাতায় প্রতিদিন প্রায় সাড়ে চার হাজার টন বর্জ্য উত্পাদিত হয়। তার প্রায় ১০ শতাংশ প্লাস্টিক। পশ্চিমবঙ্গ বিজ্ঞান মঞ্চর রাজ্য সম্পাদক সৌরভ চক্রবর্তী বলেন, ‘একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক উত্পাদন অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে। মানুষ বাজারে গেলেই ওই প্লাস্টিক পাচ্ছেন। আর প্যাকেজিংয়ের কারণে পাহাড়-সমুদ্র সর্বত্র ছেয়ে যাচ্ছে। সরকারকে বিষয়গুলি দেখতে হবে।’

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ