সংবাদদাতা, ডোমকল: কারও বাড়ির উঠোনে হাঁটু জল তো আবার কারও শোবার ঘরে খাটের পায়ার নীচে জল। সপ্তাহ কয়েক ধরে এভাবেই বাড়িতে জমছে বৃষ্টির জল। সাগরপাড়ার কাটাবাড়িতে খোদ বিধায়কের পাড়াতেই জলবন্দি হয়ে দিন কাটছে ২৫ থেকে ৩০ টি পরিবারের। জলঙ্গির বিধায়ক আব্দুর রাজ্জাকের বাড়ি থেকে কিছু দূরে এভাবেই জমা জলে চরম দূর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে স্থানীয়দের। একপ্রকার বাধ্য হয়েই জীবন, জীবিকার প্রয়োজনে জল ঠেঙিয়ে যাতায়াত করতে হচ্ছে স্থানীয়দের। এই পরিস্থিতিতে জলবন্দি মানুষগুলি ক্ষোভে ফুঁসছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, সাগরপাড়া থানার কাটাবাড়ি-হাটপাড়ায় বেশ কয়েক সপ্তাহ ধরে এভাবেই জল জমে রয়েছে। রাস্তা থেকে বাড়ি সর্বত্রই জল থই-থই। অভিযোগ, এলাকার নিকাশি ব্যবস্থা বেহাল হওয়ার কারণেই এই দুর্ভোগ। বৃষ্টির জল ঠিকমতো বেরতে না পারার জন্য এই পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। এদিকে জল জমে থাকায় একদিকে যেমন রোগের আশঙ্কা রয়েছে তেমনই সাপ ও বিষাক্ত পোকামাকড়ের উপদ্রব বাড়ছে। কচিকাঁচাদের পড়াশোনা কার্যত লাটে উঠেছে। স্থানীয়দের ক্ষোভ, দীর্ঘদিন এই পরিস্থিতি হয়ে থাকায় প্রশাসন থেকে জনপ্রতিনিধি কারও কোনও সদর্থক ভূমিকা নেই।
স্থানীয় বাসিন্দা আঞ্জেরা বিবি বলেন, আমাদের বুথেই বিধায়কের বাড়ি। অথচ এরপরেও আমরা জলবন্দি হয়ে আছি। জমা জলের কারণে ব্যাপক দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। দ্রুত জল নিষ্কাশন করে নিকাশির ব্যবস্থা করা হোক। এদিন কাটাবাড়িতে জলমগ্ন বাড়িগুলি পরির্দশনে যায় সিপিএমের এক প্রতিনিধি দল। সিপিএম জেলা সম্পাদক মণ্ডলীর সদস্য জামাল হোসেন বলেন, এই পাড়াতেই শাসকদলের বিধায়কের বাড়ি। অথচ এই মানুষগুলিকে এভাবে মাসের পর মাস জলবন্দি হয়ে থাকতে হচ্ছে। বিধায়ক একবার এখানে এসে সমাধানের চেষ্টা পর্যন্ত করেননি। এটা লজ্জার। আমরা আজ পরিবারগুলির সঙ্গে দেখা করলাম। তাঁদের ত্রাণ ও কিছু রিলিফ সামগ্রী দেওয়া হয়েছে।
যদিও বিধায়ক আব্দুর রাজ্জাক বলেন, দিন কয়েক আগে ওই এলাকায় গিয়েছি। স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে একপ্রস্থ আলোচনাও হয়েছে। আসলে ওই এলাকায় নিকাশির যে ব্যবস্থা ছিল, সেটা ওই এলাকার কয়েকজনের কারণেই বেহাল হয়ে পড়েছে। আমি ফের রবিবার যাব। যাতে দ্রুত ওই জল নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করা যায় তা দেখা হবে। জলবন্দি সাগরপাড়া-নিজস্ব চিত্র