নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: অবশেষে তীব্র জল কষ্টের কিছুটা নিরাময় হওয়ায় স্বস্তি পেলেন বাসিন্দারা। স্বস্তি হাওড়া পুরসভার আধিকারিক ও ইঞ্জিনিয়ারদেরও। উত্তর হাওড়া ও শিবপুরের বিস্তীর্ণ এলাকায় জল সরবরাহ স্বাভাবিক করতে বিকল্প পাইপলাইন প্রস্তুত করার কাজ লাগাতার চালাচ্ছিল পুরসভা ও কেএমডিএ। সে কাজ সম্পূর্ণ। রবিবার রাতের মধ্যে নির্জলা উত্তর হাওড়ার ১৪টি ওয়ার্ডে সরবরাহ সচল করা গিয়েছে বলে দাবি পুরসভা কর্তৃপক্ষের। যদিও বাসিন্দাদের অভিযোগ, ওই জল পান করা তো দূর ব্যবহারেরও অযোগ্য।
গত বৃহস্পতিবার হাওড়ার বেলগাছিয়ায় ভাগাড়ে ভূমিধস নামে। ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয় জল সরবরাহকারী মূল পাইপলাইনটি। ধস বাড়তে থাকায় পাইপ মেরামতের কাজ বাধ্য করে বন্ধ করে দিতে হয়। তারপর বেলগাছিয়া মোড়ে শুরু হয় বিকল্প পাইপলাইন জয়েনিংয়ের কাজ। সেই কাজ শেষ করতে সাধারণত এগারো দিন লাগার কথা। তবে পরিস্থিতি অস্বাভাবিক বলে কার্যত যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে কাজ করেন পুরসভা ও কেএমডিএ’র ইঞ্জিনিয়াররা। এবং তিনদিনের মধ্যে কাজ শেষ করার লক্ষ্যমাত্রা নেন। সে কাজ শেষ হল রবিবার। এদিকে তীব্র জলকষ্টে ভুগতে থাকা উত্তর হাওড়ার ১৬টি ও শিবপুরের চারটি ওয়ার্ডে হাওড়া, কলকাতা এবং আরও দুই পুরসভা নিয়মিত জলের ট্যাংক পাঠিয়েছিল। কিন্তু এই গরমে তা পর্যাপ্ত ছিল না। বাসিন্দাদের ভোগান্তি এতটুকুও কমেনি বলে অভিযোগ। জলের জন্য হাতাহাতি পর্যন্ত বেধেছে। রবিবার বিকেল পর্যন্ত প্রায় গোটা উত্তর হাওড়া কার্যত ছিল নির্জলা। বিকল্প পাইপলাইনে জয়েনিংয়ের কাজ শেষ হওয়ার পর এদিন দুপুরে জলের গতি পরীক্ষা করা হয়। তারপর হয় পাইপলাইনের ভিতরের অংশ পরিষ্কারের কাজ। সন্ধ্যা সাতটা নাগাদ এক এক করে উত্তর হাওড়ার ওয়ার্ডগুলিতে জল সরবরাহ হতে থাকে। হাওড়া পুরসভার মুখ্য প্রশাসক ডাঃ সুজয় চক্রবর্তী বলেন, ‘যে কোনও উপায়ে জল সরবরাহ চালু করাই আমাদের লক্ষ্য ছিল। মানুষ এই তিনদিন ভোগান্তি সহ্য করেছেন। তবে তাঁরা সবসময় আমাদের পাশে ছিলেন।’
এদিন সন্ধ্যায় উত্তর হাওড়ার এক থেকে চার নম্বর ওয়ার্ডে জল পৌঁছতেই বাসিন্দাদের মুখে খুশির হাসি। তাঁরা বলেন, ‘গরমে জল না পেয়ে ভোগান্তি চরমে উঠেছিল। অবশেষে রেহাই মিলল। এমন পরিস্থিতি যেন আর কখনও না হয়।’ উত্তর হাওড়ার প্রবীণ তৃণমূল নেতা বিমল দত্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয় উল্লেখ করে বলেন, ‘একসময় প্রতিটি ওয়ার্ডে একটি বা দু’টি করে টিউবওয়েল থাকত। বাড়ি বাড়ি জলের সংযোগ হওয়ার পর সেগুলি তুলে নেওয়া হয়। প্রতি এলাকায় অন্তত একটি করে টিউবওয়েল থাকলে জল নিয়ে এত কষ্ট হতো না।’ পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রাথমিকভাবে জলের গতি কম থাকলেও সোমবার সকাল থেকে ৫০টি ওয়ার্ডেই তা স্বাভাবিক হয়ে পড়বে। নিজস্ব চিত্র