সংবাদদাতা, কৃষ্ণনগর: ভাতজাংলা গ্রাম পঞ্চায়েতের বসাকপাড়া, বকুলতলা পাড়া, কালিপুর ইত্যাদি এলাকায় দীর্ঘ পাঁচ বছর আগে সরকারি প্রকল্পের আওতায় পানীয় জলের পাইপলাইন বসানো হয়েছিল। কিন্তু এত বছর কেটে গেলেও আজও কল থেকে জল পেল না এলাকাবাসী। উপরন্তু, বাইরে কলের লাইন হওয়ায়, একাধিক বাড়ি থেকে কলের মুখ, পাইপ চুরি হয়ে যাচ্ছে। পাইপ লাইনের কাজ এত বছর আগে সম্পূর্ন হয়ে যাবার পরেও এত দিনে জল না পাওয়ায় ক্ষোভ উগরে দিচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, আজ থেকে প্রায় ৫-৬ বছর আগে টাইম কলের জলের জন্য পাইপ বসানো হয়। বলেছিল দু মাসের মধ্যেই জল পরিষেবা চালু হয়ে যাবে। এত দিনেও চালু হল না। প্রায় এক বছর আগে একজন এসে আবার কলের ছবি তুলে নিয়ে যায়, সেও এসে বলে গিয়েছিল খুব দ্রুত জল পরিষেবা চালু হবে। গ্রামের কিছুটা দূরে দূরে সরকারি টিউবয়েল বসানো আছে। অত দূর থেকে সকলের পক্ষে জল আনা সম্ভব হয় না। বাধ্য হয়েই আমাদের কেনা জল এবং বাড়ির টিউবয়েলের জলের উপরই নির্ভর করতে হয়। যারা জল নিতে যায়, সেখানে ভিড়ের কারণে মাঝেমধ্যে ঝামেলা অশান্তি হতেও দেখা যায়। এরই মধ্যে কিছু সময় ধরে দেখা যাচ্ছে পাড়ার বিভিন্ন বাড়ি এবং রাস্তা থেকে টাইমকলের মুখ চুরি হয়ে যাচ্ছে। জল না মেলায় পানীয় জলের সমস্যায় পড়তে হচ্ছে পঞ্চায়েতের বহু পরিবারকে। জল পরিষেবা চালু হলে পাড়ার সকলের সুবিধা হতো।
এ বিষয়ে ভাতজাংলা পঞ্চায়েতের প্রধান বাবলু মন্ডল বলেন, জলের পাইপ লাইনের কাজ দেখাশুনা করে পিএইচই দপ্তর। আগে কাজ হলেও, পরে বন্ধ হয়েছিল। দপ্তরের সঙ্গে কথা বলে, যত দ্রুত সম্ভব সর্বত্র জল যাতে পৌঁছানো যায়, সে দিকটা দেখা হবে।
স্থানীয় বাসিন্দা দেবাশিস দত্ত বলেন, জল মানুষের সবথেকে প্রয়োজনীয় জিনিস, কিন্তু সেটা নিয়ে কারোর কোনো ভ্রুক্ষেপ নেই। না হলে এত বছর পাইপ লাইন বসানো হয়ে গেলেও জল পাওয়া যায় না। দ্রুত জল সরবরাহ চালু করা দরকার। তার উপর এলাকায় কলের মুখ চুরির হচ্ছে। এটা একটা ছোট ব্যাপার হলেও, এর পরে যে বড় চুরির ঘটনা ঘটবে না। সেটা কেউ বলতে পারে। প্রশাসনের এদিকেও নজর দেওয়া উচিত।