সংবাদদাতা, তারকেশ্বর: টানা বৃষ্টিতে জলমগ্ন হয়ে পড়েছে হরিপালের বিডিও অফিস থেকে ঢিল ছোড়া দূরত্বে থাকা লোকমঞ্চ পাড়া। তৃণমূলের আমলে হরিপালজুড়ে নয়নজলি বুঝিয়ে কোথাও দোকানপাট, কোথাও বা বহুতলে যাতায়াতের রাস্তা তৈরি হয়েছে। যার ফলে নিকাশি জল বেরনোর পথ অবরুদ্ধ হয়ে গিয়েছে। এভাবে অবৈধভাবে নয়নজুলি দখলের নেপথ্যে রয়েছেন তৎকালীন শাসকদলের নেতা-নেত্রী ও প্রশাসনের পদাধিকারীরা। তাঁরা বিনিময়ে আর্থিক মুনাফা লুটেছেন বলে অভিযোগ সিপিএম ও বিজেপির। কয়েক বছর আগে ‘বর্তমান’-এ প্রকাশিত খবরে হরিপালের বিস্তীর্ণ এলাকা জলমগ্ন হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছিল। এখন সেই চিত্রই দেখা গেল হরিপালের লোকমঞ্চ পাড়ায়।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, রাস্তা হওয়ার আগে এখানে জল জমত। রাস্তা তৈরি হওয়ার পর থেকে কখনও এভাবে জল জমেনি। হরিপালে নিকাশির একমাত্র ভরসা হল নয়নজলি। সেসব বুজিয়ে কোথাও পেট্রল পাম্প ও অন্যান্য ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান তৈরি হয়েছে। বিনিময়ে টাকা পেয়েছেন তৃণমূলের নেতা থেকে প্রশাসনের আধিকারিকরা। রাস্তায় জল জমে থাকায় এলাকায় সাপের উপদ্রব বেড়েছে। স্কুল যেতে পারছে না ছাত্রছাত্রীরা। তাঁরা বলেন, এই বিষয়ে স্থানীয় বিধায়কের কাছে অভিযোগ জানানো হয়েছে। বিধায়ক মধুমিতা ঘোষ বলেন, অভিযোগ পেয়েছি। যে সমস্যা রয়েছে, তার স্থায়ী সমাধানের চেষ্টা করব।
অন্যদিকে, ডিভিসি নতুন করে প্রতিদিন জল ছাড়ায় দামোদরে জলস্তর বিপদসীমায় পৌঁছেছে। একদিকে বৃষ্টি অন্যদিকে ডিভিসি ফের জল ছাড়লে দামোদর উপচে ধনেখালি, তারকেশ্বর এবং জাঙ্গিপাড়া ব্লকের বিস্তীর্ণ অংশ প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। বৃহস্পতিবার সকালে গিয়ে দেখা গেল, গত ১২ ঘণ্টায় সাড়ে সাত ফুট জল বেড়েছে দামোদরে। নিম্ন দামোদর এলাকায় বেশ কিছু ফসলের জমিতে জল ঢুকেছে। নদীবাঁধে থাকা বসবাসকারীদের প্রশাসনের পক্ষ থেকে সতর্ক করা হয়েছে। নিজস্ব চিত্র