নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: বৃহস্পতিবারের পর শুক্রবারও কার্যত নির্জলা রইল হাওড়ার ২০টি ওয়ার্ড। জলের জন্য দীর্ঘ লাইন। জল পেতে হাতাহাতির ঘটনাও। হাওড়ার বেলগাছিয়ায় পাইপে ফাটল ধরায় যে ভূমিধস শুরু হয়েছিল তা আরও বাড়ছে। মূল পাইপলাইন মেরামতির কাজ এক কদমও এগয়নি। গোটা এলাকায় ফাটল ক্রমেই দীর্ঘ হচ্ছে। বড়সড় ভূমিকম্পের পর যে পরিস্থিতি হয় অনেকটা তেমন অবস্থা বেলগাছিয়া ভাগাড়ের প্রায় দেড় বর্গ কিলোমিটার পরিধিজুড়ে। ফাটলের কবলে পড়ে ভেঙে হেলে গিয়েছে পাম্প হাউস। কর্মীদের প্রাণের ঝুঁকি থাকায় পাইপলাইন মেরামত বন্ধ। পাশের বস্তি এলাকার বাসিন্দাদের অন্যত্র সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি শুরু করেছে প্রশাসন। সবমিলিয়ে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ বিপর্যস্ত।
অন্যদিকে জলসঙ্কট মেটাতে বেলগাছিয়া মোড়ে বিকল্প পাইপলাইনের মূল পর্যায়ের কাজ দ্রুত শেষ করার চেষ্টা করছে হাওড়া পুরসভা ও কেএমডিএ। পাশাপাশি কলকাতা ও অন্যান্য জায়গা থেকে জলের ট্যাঙ্ক এনে পাঠানো হচ্ছে ওয়ার্ডগুলিতে। হাওড়া পুরসভার মুখ্য প্রশাসক ডাঃ সুজয় চক্রবর্তী বলেন, ‘বিকল্প পাইপলাইনের কাজ চারদিনের মধ্যে শেষ করার টার্গেট। শুক্রবার রাতের মধ্যে দশটিরও বেশি ওয়ার্ডে জল সরবরাহ শুরু হয়ে যাবে বলে আশা।’ উত্তর হাওড়ার বিধায়ক গৌতম চৌধুরী বলেন, ‘রাজ্যের পুরমন্ত্রী সাহায্য করছেন। পরিস্থিতি মোকাবিলায় বেশ কয়েকটি জলের ট্যাঙ্কার গিয়েছে। গঙ্গা থেকে দ্রুত জল রিফিলিং করার জন্য পিএইচই কাজ করছে।’ রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম বলেন, ‘বিপর্যয় মোকাবিলার কাজ দ্রুত চলছে। হাওড়া কর্পোরেশনের কাছে রিপোর্ট চেয়ে পাঠিয়েছি। কলকাতা পুরসভা ১৮টি জলের গাড়ি পাঠিয়েছে। পরিস্থিতি ঠিক না হওয়া পর্যন্ত পাঠানো হবে।’ জানা গিয়েছে, হাওড়া পুরসভার ২৮টি জলের ট্যাঙ্ক ছাড়াও কলকাতা পুরসভার ১৮, উত্তরপাড়া পুরসভার ১৪ ও কোন্নগর পুরসভার চারটি ট্যাঙ্কার ওয়ার্ডগুলিতে পাঠানো হয় জলের চাহিদা মেটাতে। অন্যদিকে জল বন্ধ থাকায় সাত, আট, নয় ও ২২ নম্বর ওয়ার্ডের অবস্থা সবথেকে ভয়াবহ। জলের ট্যাঙ্কারের সামনে দিনভর ভুক্তভোগী বাসিন্দাদের দীর্ঘ লাইন। সবার বক্তব্য, জল বন্ধ থাকায় চূড়ান্ত ভোগান্তি। লাইনে দাঁড়িয়ে রীতিমত মারামারি বেধে গিয়েছে।’ এর পাশাপাশি জানা গিয়েছে, বেলগাছিয়া মোড়ে রাস্তা ড্রিল করে বিকল্প পাইপলাইনে জয়েনিংয়ের কাজ জোরকদমে করছেন কেএমডিএ’র ইঞ্জিনিয়াররা।
বৃহস্পতিবার ভোররাতে বেলগাছিয়ার এফ রোডে ভাগাড় এলাকায় ভূমিধস তৈরি হয়। মাটি ফুঁড়ে বেরিয়ে আসে উত্তর হাওড়া ও শিবপুর বিধানসভা এলাকার জল সরবরাহকারী মূল পাইপলাইন। তার পরই তীব্র জল সঙ্কট দেখা দেয় কুড়িটি ওয়ার্ডে। মেরামতের কাজ শুরু করে কেএমডিএ। কিন্তু প্রবল বিপদের ঝুঁকি থাকায় মূল পাইপলাইনে কাজ করতে পারেননি ইঞ্জিনিয়াররা। গোটা এলাকায় ফাটল ক্রমে বড় আকার নিচ্ছে। পুলিস ও পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই এলাকার ২৮টি পরিবারের প্রায় ৩৬০ জন বাসিন্দাকে নিকটবর্তী দু’টি স্কুলে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হবে। যে কোনও মুহূর্তে গোটা এলাকা ধসে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। সাধারণ মানুষের প্রবেশ পুরোপুরি বন্ধ।