


নিজস্ব প্রতিনিধি, ঝাড়গ্ৰাম: বেলপাহাড়ী শুখা প্রবণ এলাকা। গরম পড়লেই পানীয় জলের সঙ্কট দেখা দেয়। বিষ্ণুপুর মুকুটমণিপুর জলাধার থেকে আনা জল বেলপাহাড়ী এলাকায় সরবরাহ করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছিল। প্রকল্পের কাজ ২০২২-’২৩ সালে শুরু হয়। দু’বছর ধরে প্রকল্পের কাজ শামুকের গতিতে চলছে। বিনপুর বিধানসভার জয়ী বিজেপি প্রার্থী প্রণত টুডু এই প্রকল্পের কাজে গতি আনার উদ্যোগ নেবেন বলে জানিয়েছেন। বেলপাহাড়ী এলাকায় গ্রীষ্মকালে পানীয় জলের তীব্র সঙ্কট দেখা দেয়। তাপমাত্রা বাড়তেই বিভিন্ন এলাকার জলের সঙ্কট দেখা দিচ্ছে। মাটির নীচের জলস্তর নেমে গিয়েছে। টিউবওয়েল থেকে পর্যাপ্ত পরিমাণে জল বেরচ্ছে না। ঝড়বৃষ্টির জেরে মাঝে মধ্যেই বিদ্যুৎ চলে যাচ্ছে। বিদ্যুৎ না থাকার জেরে ট্যাপকলেও জলের অভাব দেখা দিচ্ছে। মহিলারা হাঁড়ি কলসি নিয়ে পথে নেমে বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন। বেলপাহাড়ী জল প্রকল্পের কাজের ধীর গতি নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।
ছ’বছর আগে প্রকল্পের কাজ শুরু হয়েছে। মুকুটমণিপুর জলাধারের জল ক্যানেলের মাধ্যমে নিয়ে এসে পরিস্রুত করে বেলপাহাড়ীর গ্ৰামে গ্ৰামে পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছিল। ২০২৪ সালের পর থেকে কাজের গতি হঠাৎই স্লথ হয়ে যায়। বেলপাহাড়ির নারাণপুর, কুড়চিবনি, শিলদা, পড়াশিডাঙা, কুচলাপাহাড়ী, সিঙ্গাডোবা গণ্ডাপাল ,ছোটো জামশোল, সাহাড়ির মতো বিভিন্ন এলাকায় পানীয় জলের সঙ্কট রয়েছে। বিনপুর-২ ব্লকের ৩৩ হাজার ১৬২টি বাড়িতে জলের সংযোগ দেওয়ার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। প্রকল্পের কাজ কবে শেষ হবে সেটাই এখন বড় প্রশ্ন।
বেলপাহাড়ীর কুড়চিবনি এলাকার বাসিন্দা ফুলমণি মুর্মু বলেন, এবার গরম পড়তেই টিউবওয়েল থেকে জল বার হচ্ছে না। পাতকুয়োর জল ছোটো বাচ্চাদের খাওয়াতে ভয় লাগে। পানীয় জলের সমস্যা কবে মিটবে জানা নেই। ভুলাভেদা এলাকার এক বাসিন্দা বলেন, এলাকার মানুষ জানেন প্রকল্পের কাজ বন্ধই হয়ে গিয়েছিল। জন প্রতিনিধিরা কেউ খোঁজখবর নিতে আসত না। আশা করছি এবার কাজ হবে।
জেলার জনস্বাস্থ্য কারিগরি দপ্তরের আধিকারিক রাহুল মণ্ডল বলেন, চব্বিশ সাল থেকে কাজের গতি কিছুটা স্লথ হয়েছে। তবে প্রকল্পের কাজ যাতে শেষ করা যায় তার চেষ্টা চলছে। বিনপুর বিধানসভার বিজেপির জয়ী প্রার্থী প্রণত টুডু বলেন, এই এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে পানীয় জলের সঙ্কট রয়েছে। প্রকল্পের কাজ যাতে দ্রুত শেষ করা যায় সে জন্য ব্লক ও অন্যান্য দপ্তরের আধিকারিকদের সঙ্গে বসব।-নিজস্ব চিত্র