Bartaman Logo
২৪ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

দুবরাজপুর গ্রামীণ হাসপাতালে তীব্র জল সঙ্কট, ভোগান্তি চিকিৎসক ও রোগীদের

জল সঙ্কটে ধুঁকছে দুবরাজপুর গ্রামীণ হাসপাতাল। অভিযোগ, স্বাস্থ্য পরিষেবায় প্রয়োজনীয় জলের জোগান অমিল।

দুবরাজপুর গ্রামীণ হাসপাতালে তীব্র জল সঙ্কট, ভোগান্তি চিকিৎসক ও রোগীদের
  • ৯ জুন, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, সিউড়ি: জল সঙ্কটে ধুঁকছে দুবরাজপুর গ্রামীণ হাসপাতাল। অভিযোগ, স্বাস্থ্য পরিষেবায় প্রয়োজনীয় জলের জোগান অমিল। ফলত হাসপাতালের অন্দরমহলে রোগী পরিষেবার একাধিক কাজে সমস্যা দেখা দিচ্ছে। এছাড়াও চিকিৎসক সহ হাসপাতাল কর্মীদের কোয়ার্টার চত্বরেও জল সঙ্কট চরমে। বাধ্য হয়ে অনেকেই চাহিদা মেটাতে খোলা বাজার থেকে পরিস্রুত পানীয় জল কিনতে বাধ্য হচ্ছেন। ঘটনায় কর্তৃপক্ষের ভূমিকায় প্রশ্ন উঠছে। এবিষয়ে জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক শুভব্রত ঘোষ বলেন, জলের সঙ্কটের বিষয়টি আমাদের নজরে রয়েছে। এনিয়ে জেলা প্রশাসনের কর্তাদের বিস্তারিত জানানোও হয়েছে। পাশাপাশি স্বাস্থ্য ভবনেও লিখিত আকারে বিষয়টি জানানো হয়েছে। অর্থ বরাদ্দ হলেই জলের সমস্যা সমাধানে কাজ শুরু করা হবে। 

Advertisement

দুবরাজপুর গ্রামীণ হাসপাতালে দিনভর রোগীদের আনাগোনা হয়। দুবরাজপুরের পাশাপাশি সংলগ্ন ব্লকের একাধিক গ্রামের বাসিন্দারা ওই হাসপাতালের উপর নির্ভরশীল। ফলত জরুরি বিভাগ থেকে শুরু করে একাধিক আউটডোরে নিত্যদিনই রোগীদের ভিড় নজরে আসে। এছাড়াও ওই গ্রামীণ হাসপাতালে রয়েছে প্রসূতি বিভাগ সহ ডায়ারিয়া ও সাধারণ ওয়ার্ড। প্রতিটি ওয়ার্ডেই কমবেশি রোগী চিকিৎসাধীন থাকেন। হাসপাতাল সূত্রে খবর, আউটডোর সহ ইন্ডোর পরিষেবা স্বাভাবিক রাখতে প্রতিদিন প্রায় ৪০ হাজার লিটার জলের চাহিদা রয়েছে। যদিও বর্তমান সময়ে আনুমানিক ১২ হাজার লিটার জল মিলছে। অভিযোগ, উপযুক্ত জলের বন্দোবস্ত না থাকায় এই সমস্যা দেখা দিয়েছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বর্তমান সময়ে বহু পুরনো একটি কুয়ো থেকে পাম্পের সাহায্যে জল তোলা হয়। সংস্কারের অভাবে সেই কুয়োর অবস্থাও তথৈবচ।ফলত, চাহিদা অনুসারে জল মিলছে না। স্বাভাবিকভাবেই রোগীদের স্নান, হাত ধোয়া সহ একাধিক কাজেজলের সমস্যা দেখা দিচ্ছে। এছাড়াও হাসপাতালের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ কাজ সামাল দিতে গিয়ে চিকিৎসক সহ নার্সদেরও যথেষ্ট বিপাকে পড়তে হয়। 
তবে সমস্যা এখানেই শেষ নয়, হাসপাতালের কোয়ার্টার চত্বরে জলেসঙ্কটআরও তীব্র। সেখানে পরিস্রুত জলের সমস্যা চরমে। অভিযোগ, একটি মাত্র ট্যাপ কলের মাধ্যমের ১১টি পরিবারের জন্য দিনের মাত্র ২ ঘণ্টা পানীয় জল সরবরাহ করা হয়। ফলত পর্যাপ্ত পানীয় জল অমিল। সমস্যা সমাধানে ব্লক প্রশাসনের তরফে কোয়ার্টার চত্বরে বসেছিল নতুন নলকূপ। যদিও ওই নলকূপের জল ব্যবহার যোগ্য নয়। এছাড়াও নিত্য প্রয়োজনীয় কাজের জন্য জলের অভাবও বর্তমান। ঘটনায় তীব্র জলকষ্টের সম্মুখীন কোয়ার্টারের আবাসিকরা। নাম না প্রকাশের শর্তে আবাসিকদের একাংশ জানিয়েছেন, হাসপাতাল চত্বরে একটি কুয়ো রয়েছে। যদিও তা সংস্কারের কোনও উদ্যোগ নজরে আসছে না। ফলত জলের সমস্যা চরমে। কটাক্ষের সুরে এক চিকিৎসক জানান, মাঝেমধ্যে মনে হয় আমরা মরুদেশের বাসিন্দা।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ