


উজ্জ্বল পাল, বিষ্ণুপুর: প্রচণ্ড গরমে তৃষ্ণায় ধুঁকছে পাঁচশোরও বেশি হরিণ। স্বস্তি দিতে জয়পুরের জঙ্গলে জলসত্র খুলল বনদপ্তর। জঙ্গলের মাঝে একাধিক জায়গায় পাত্রের মধ্যে ভিজে ছোলা ও চৌবাচ্চায় জল রাখা হচ্ছে। তা তৃপ্তির সঙ্গে খাচ্ছে হরিণের দল।
বনদপ্তরের জয়পুরের রেঞ্জার দুর্গাশঙ্কর দাস বলেন, আগে গ্রীষ্মকালে অনেক বন্য জন্তুর মৃতদেহ জঙ্গল থেকে উদ্ধার হয়েছে। তবে মৃত্যুর কারণ বোঝা যায়নি। পরবর্তীকালে বিশেষজ্ঞদের একাংশ দাবি করেন, গরমে জল না পেয়েই পশুগুলির মৃত্যু হয়েছে। তারপর থেকে প্রতিবছর গ্রীষ্মকালে জঙ্গলে জলভর্তি পাত্র রাখার ব্যবস্থা করা হয়। সেইসঙ্গে ভিজে ছোলা ও গম রাখা হয়। এবারেও তার ব্যতিক্রম হয়নি।
বনদপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, জয়পুরে বর্তমানে পাঁচশোর বেশি হরিণ রয়েছে। গত কয়েক বছর ধরে গ্রীষ্মে জঙ্গলের চৌবাচ্চায় জল ধরে রাখা হয়। ডিহাইড্রেশনের কারণে বন্য জন্তুরা যাতে মারা না যায়, সেজন্য জলের মধ্যে বিট লবণও দেওয়া হয়। এছাড়াও, পাত্রে ভিজে ছোলা ও গম রাখা হয়। এবারেও মঙ্গলবার থেকে বনাধিকারিকরা জঙ্গলের বিভিন্ন জায়গায় সিমেন্টের জল ভরা চৌবাচ্চা রেখে আসেন। সঙ্গে রয়েছে ভিজে ছোলা ও গম।
প্রসঙ্গত, আজ থেকে প্রায় ২৫বছর আগে জয়পুরের জঙ্গলে পরীক্ষামূলকভাবে কয়েকটি হরিণ ছাড়া হয়। ক্রমশ বংশবিস্তার করায় বর্তমানে বনদপ্তরের হিসেব অনুযায়ী জয়পুরের জঙ্গলে হরিণের সংখ্যা ৫০০ ছাড়িয়েছে। তাই হরিণের দল প্রায়ই খাবারের সন্ধানে জঙ্গল ছেড়ে লোকালয়ে চলে আসে। বিশেষত কচি ধানের শিস ও ফসল খেতে তারা বেশ পছন্দ করে। কিন্তু গ্রীষ্মকাল এলেই হরিণের দল বেজায় মুশকিলে পড়ে। এত বড় জঙ্গলে মাত্র কয়েকটি ছোট জলাশয় রয়েছে। গরম পড়লেই সেগুলি শুকিয়ে যায়। তখন হরিণের দল জলকষ্টে ভোগে। সন্ধ্যা নামলেই তারা লোকালয়ে বিভিন্ন জলাশয়ে জল খেতে আসে। কয়েক বছর আগেও স্থানীয় বাসিন্দাদের অনেকে ফাঁদ পেতে হরিণ ধরার চেষ্টা করতো। কিন্তু বনদপ্তরের তরফে কড়া হুঁশিয়ারির পর থেকে তা রোখা গিয়েছে। এরপরই বনদপ্তর হরিণের তৃষ্ণা মেটাতে জঙ্গলে জলছত্র খুলতে উদ্যোগী হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা ভৈরব লোহার বলেন, জয়পুরে ঘুরতে আসা পর্যটকদের হরিণের প্রতি আলাদাই আকর্ষণ থাকে। তাই আমরা চাই, হরিণরা যেন অবাধে জঙ্গলে বিচরণ করতে পারে। তাদের প্রতি বনদপ্তর যথেষ্ট যত্ন নিচ্ছে। জয়পুরের জঙ্গলে হরিণদের তৃষ্ণা মেটাতে বিশেষ ব্যবস্থা নিচ্ছে বনকর্মীরা। মঙ্গলবার তোলা নিজস্ব চিত্র