Bartaman Logo
২৪ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

বিশ্বভারতীতে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা অথৈ জলে, প্রধানমন্ত্রীকে চিঠি সুভাষ দত্তের

বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়কে ঘিরে জাতীয় পরিবেশ আদালতের সাম্প্রতিক কিছু মন্তব্য নিয়ে বিতর্ক দানা বাঁধছে।

বিশ্বভারতীতে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা অথৈ জলে, প্রধানমন্ত্রীকে চিঠি সুভাষ দত্তের
  • ২৮ জানুয়ারি, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, বোলপুর: বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়কে ঘিরে জাতীয় পরিবেশ আদালতের সাম্প্রতিক কিছু মন্তব্য নিয়ে বিতর্ক দানা বাঁধছে। এই প্রেক্ষিতে মঙ্গলবার পরিবেশবিদ সুভাষ দত্ত প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কাছে চিঠি পাঠিয়েছেন। কঠিন ও তরল বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিয়ে কেন কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না, এ বিষয়ে প্রধীনমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণের জন্যই তিনি চিঠি পাঠিয়েছেন বলে জানা যায়। পরিবেশবিদ সুভাষ দত্ত চিঠিতে উল্লেখ করেছেন, কঠিন ও তরল বর্জ্য ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত পরিবেশগত বিষয় নিয়ে বিশ্বভারতীর বিরুদ্ধে একাধিক মামলা দীর্ঘদিন ধরে আদালতে বিচারাধীন। ২০১৭ সাল থেকে এই বিষয়ে পরিবেশ আদালত একাধিক নির্দেশ দিয়েছেন। এইসব মামলাগুলিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো গড়ে তুলতে দেরি হওয়ায় বিষয়টি বারবার আদালতের নজরে এসেছে। এমনকি ২১ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে এই মামলার শুনানি চলাকালীন আদালত বিশ্বভারতী সম্পর্কে কিছু কড়া ও সমালোচনামূলক মন্তব্য করেন বলে অভিযোগ। এইসব মন্তব্যগুলি দেশের এক ঐতিহ্যবাহী ও সম্মানজনক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মর্যাদার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হয়েছে। এই ধরনের মন্তব্যে তিনি যথেষ্ট মর্মাহত বলেও উল্লেখ করেছেন। তারপরেও বিশ্ববিদ্যালয় কোনও ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি, এমনই জানান তিনি। চিঠিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, বীরভূমের জেলাশাসক ১৬ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে জাতীয় পরিবেশ আদালতে একটি হলফনামা জমা দিয়েছেন। সেখানে বলা হয়েছে, বিশ্বভারতীর এক্সিকিউটিভ কাউন্সিল ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৩-এর বৈঠকে সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য ইউজিসি ও কেন্দ্রের শিক্ষা মন্ত্রকের কাছে আর্থিক সহায়তার আবেদন করা হবে। এছাড়াও বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালিত নিজস্ব হাসপাতালের জৈব-চিকিৎসা বর্জ্যের বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ম মেনে চলছে না এটাও উল্লেখ করেছেন। মঙ্গলবার শান্তিনিকেতনে পরিবেশবিদ সুভাষ দত্ত সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বলেন, ২০১৭ সাল থেকে জাতীয় পরিবেশ আদালতের নির্দেশ মানছে না বিশ্বভারতী। এর ফলে একাধিক মামলা হয়েছে। সেই মামলা অনুযায়ী আদালত তাঁদের তিরস্কৃত করে। যেটা দেশের অন্যতম বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে লজ্জার। কঠিন ও তরল বর্জ্য নিষ্কাশন বিষয়ে আমি  এই বিশ্ববিদ্যালয় আচার্য তথা প্রধানমন্ত্রীকে চিঠি দিয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করেছি। যাতে তার নির্দেশে এই ব্যবস্থাপনা ঠিকমতো গড়ে ওঠে।  ২০১৬ সালে বিশ্বভারতী সংলগ্ন এলাকায় কঠিন ও তরল বর্জ্য নিষ্কাশন সংক্রান্ত মামলার শুনানি ছিল গত বুধবার। এদিন এই শুনানিতে ভার্চুয়ালি উপস্থিত ছিলেন বিশ্বভারতীর কর্ম সচিব বিকাশ মুখোপাধ্যায় এবং জেলাশাসক ধবল জৈন। আদালত সূত্রে জানা যায়, এই পরিকাঠামো গড়ে তুলতে কেন এত দেরি তা নিয়েই দু’পক্ষকে চরম ভর্ৎসনা করেন জাতীয় পরিবেশ আদালত। এরপরেই বর্জ্য নিষ্কাশন নিয়ে তৎপরতা শুরু করে বিশ্বভারতী। আরও জানা যায় , পরিবেশ আদালতে দেওয়া প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী বীরভূম জেলা প্রশাসন ইতিমধ্যেই রাজ্য নগরোন্নয়ন ও পুর বিষয়ক দপ্তরের কাছে বিস্তারিত রিপোর্ট পাঠিয়েছে। একই সঙ্গে অভ্যন্তরীণ বৈঠকে বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষ ক্যাম্পাসের বর্জ্য নিষ্কাশনের সম্ভাব্য রূপরেখা নিয়ে আলোচনাও শুরু করেছে। এই মামলার পরবর্তী শুনানি চলতি বছরের ২ এপ্রিল তারিখে। এই বিষয়ে বিশ্বভারতীর ভারপ্রাপ্ত জনসংযোগ আধিকারিক অতিগ ঘোষ বলেন, বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষ বিষয়টি খতিয়ে দেখছে।

Advertisement
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ