Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

মিয়াজাকি, ব্রুনেই কিং সহ ১৮ জাতের আম ফলিয়ে তাক লাগালেন ওয়াসিম

ভগবানগোলার ওয়াসিম রাজা বিদেশি ১৮ প্রজাতির আম ফলিয়ে তাক লাগিয়েছেন। বাগানে প্রচুর ফলন, দর্শনার্থীদের ভিড়। বিস্তারিত পড়ুন।

মিয়াজাকি, ব্রুনেই কিং সহ ১৮ জাতের আম ফলিয়ে তাক লাগালেন ওয়াসিম
  • ১০ জুন, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, লালবাগ: কথায় আছে, শখের দাম লাখ টাকা। আর এই শখের বশেই বেশ কয়েক লক্ষ টাকা ব্যয় করে আমবাগান বানিয়েছেন ভগবানগোলা থানার বর্ষাতিগোলার বাসিন্দা ওয়াসিম রাজা। তবে ওয়াসিম সাহেবের বাগানে হিমসাগর, চম্পা, বিমলি, সারাঙ্গা বা রানিপসন্দ প্রভৃতি কোনো দেশি প্রজাতির আম গাছ নেই। রয়েছে মিয়াজাকি, ব্রুনেই কিং, চিয়ানমাই, রেড আইভরির মতো মোট ১৮ প্রজাতির বিদেশি আমের গাছ। স্বাভাবিকভাবেই বর্ষাতিগোলার ওয়াসিম রাজার আমবাগান ভগবানগোলা সহ পার্শ্ববর্তী এলাকার বাসিন্দাদের কাঢছেও দর্শনীয় স্থান হয়ে উঠেছে। প্রতিদিন সকাল বিকেল উৎসুক পুরুষ ও মহিলারা ভিড় জমাচ্ছেন এই  আমবাগানে।  

Advertisement

ওয়াসিম রাজা পেশায় সরকারি ঠিকাদার। সমাজ মাধ্যমে বিদেশি আম সংক্রান্ত বিভিন্ন ভিডিও দেখে মনের বাগান গড়ে তোলার ইচ্ছে জাগে তাঁর। মনের মধ্যে থাকা সুপ্ত ইচ্ছের তাগিদেই শখের বাগান গড়ার সিদ্ধান্ত নেন। তিন বছর আগে বর্ষাতিগোলায় দুই বিঘা জমিতে বাগান তৈরির কাজ শুরু হয়। একে একে বাগানে রোপণ করা হয় মিয়াজাকি, ব্যানানা, সিয়াং থং বা সাই থং, ব্রুনেই কিং, রেড আইভরি, আর টু ই টু, রেড পালমার, চিয়াং মাই, কাটিমন, হাড়িভাঙা সহ মোট ১৮ প্রজাতির বিদেশি আম। গতবছর থেকে প্রতিটি আমগাছ ফলন দিতে শুরু করেছে। চলতি বছর প্রচুর ফলন হয়েছে। আমের ভারে ঝুলে পড়েছে গাছের ডাল। ওয়াসিম রাজাকে পেশাগত কারণে বেশিরভাগ দিন বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে বেড়াতে হয়। তা সত্ত্বেও সময় পেলেই শখের বাগানে চলে আসেন তিনি। নিজের হাতে লাগানো সন্তানসম আমগাছগুলির সঙ্গে বেশ কিছু সময় কাটান। 
গতবছর ভগবানগোলা-১ ব্লক প্রশাসন আয়োজিত আম উৎসবে ওয়াসিম সাহেবের বাগানের আম প্রশংসিত হয়েছিল। দু’দিন ব্যাপী আম উৎসবে রকমারি বিদেশি প্রজাতির আম চাক্ষুষ করতে ভগবানগোলার পাশাপাশি জেলার বিভিন্ন প্রান্তের মানুষ ভিড় জমিয়েছিলেন। ওয়াসিম রাজা বলেন, স্রেফ শখের বশেই এই আমবাগান গড়েছি। শুরুতে কলকাতা থেকে চারা নিয়ে এসেছিলাম। কিন্তু সেইগুলির গুণগত মাণ ভালো ছিল না। কাজেই পরের বছর এক আন্তর্জাতিক সংস্থার মাধ্যমে বাংলাদেশ থেকে চারা এনে রোপণ করা হয়। চলতি বছর আমের ভারে গাছগুলি নুইয়ে পড়েছে। প্রথম দিকে স্বামীর এই শখের বাগান তৈরিতে সায় ছিল না স্ত্রী সারিকা খাতুনের। তবে এখন তিনি স্বামীকে এই ব্যাপারে উৎসাহ দেন। 
সারিকা খাতুন বলেন, পেটের খিদের পাশাপাশি মানুষের মনের খিদেও তো থাকে। স্বামীর পাশাপাশি আমিও বাগানকে ভালোবেসে ফেলেছি। মাঝে মধ্যে আমিও বাগান দেখতে চলে যাই।  ওয়াসিম রাজা তাক লাগালেন। -নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ