


মুম্বই: ক্রিকেট কেরিয়ারের শেষটা সুখের হয়নি বহু তারকারই। কপিল থেকে সৌরভ, তাঁদের উপর অবসরের সিদ্ধান্ত কার্যত জোর করেই চাপিয়ে দেওয়া হয়েছিল। বাদ যাননি ক্রিকেটের ভগবানও। হ্যাঁ, ঠিকই ধরেছেন। শচীন তেন্ডুলকরকেও কার্যত অবসর নিতে বাধ্য করেছিলেন নির্বাচকরা। দেরিতে হলেও সেই সত্যটা সামনে এল। আর সেই কাজটা করলেন খোদ তৎকালীন নির্বাচক প্রধান সন্দীপ পাতিল।
শচীন তেন্ডুলকরকে বাদ দেওয়ার ভাবনা? হ্যাঁ, ২০১২ সালে জাতীয় নির্বাচকরা এমনই ভেবেছিলেন। আর তা শুনে স্তম্ভিত হয়ে পড়েন খোদ মাস্টার ব্লাস্টার। সেই সম্পর্কে এক সাক্ষাৎকারে পাতিল বলেন, ‘আমি ওর কাছে জানতে চাই, তোমার পরিকল্পনা কী? স্তম্ভিত শচীনের পালটা প্রশ্ন ছিল, কেন?’ এরপর পাতিল তাঁকে বলেন, ‘নির্বাচক কমিটি তোমার বদলি খুঁজছে।’ এই কথা শুনে অবাক হয়ে যান শচীন। জানতে চান? ‘তুমি কি সিরিয়াস?’ পাতিল ‘হ্যাঁ’ বলেন। তা শুনে তেন্ডুলকরের চোখে-মুখে ফুটে ওঠে অবিশ্বাস। পাতিল তখন বোঝান যে, নির্বাচকদের ক্ষমতা নেই তাঁকে বাদ দেওয়ার বা অবসর নিতে বলার। সন্দীপের কথায়, ‘নির্বচকরা কাউকে বাদ দিতে পারেন। কিন্তু কারও কেরিয়ারে ইতি টেনে দেওয়ার ক্ষমতা নেই। আমরা তাই শচীনের পরিকল্পনা জানতে চেয়েছিলাম। ও বলেছিল যে, খেলা চালিয়ে যেতে চাইছে।’
দেওয়াল লিখন স্পষ্ট হতেই পরের বছর আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিদায় জানান শচীন। ২০১৩ সালে শেষ টেস্ট ম্যাচটি খেলেন ঘরের মাঠ ওয়াংখেড়েতে। পাতিলের আক্ষেপ, ‘ক্রিকেটপ্রেমীরা আমার সময়কালে শচীনের অবসর গ্রহণকে ভালোভাবে নেননি। তাই ক্ষুব্ধ ছিলেন। কিন্তু এটাও দেখতে হবে যে, আমার সময়ে মহম্মদ সামি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে এসেছে। যশপ্রীত বুমরাহও এসেছে। রবিচন্দ্রন অশ্বিন, রবীন্দ্র জাদেজা, অজিঙ্কা রাহানেও ভারতীয় দলে খেলেছে। দুঃখের বিষয় হল, কেউ সে সব কথা বলে না। শুধু শচীনের অবসর নিয়েই আলোচনা হয়।’