নয়াদিল্লি: নেপাল বিপর্যয়ের পাঁচ মাস আগেই ‘বিপদ ঘণ্টি’ বাজিয়েছিলেন গবেষকরা। তাঁদের সতর্কবার্তা ছিল, হুড়মুড়িয়ে গলছে হিমালয়ের হিমবাহগুলি। এর ফলে হিমবাহ হ্রদে আচমকা জলস্ফীতির ঝুঁকি বাড়ছে। বুধবারের প্রলয় সেই সতর্কবার্তাকেই সত্যি প্রমাণ করেছে। প্রয়োজনীয় গুরুত্ব ও পদক্ষেপের খামতি ভবিষ্যতে কোটি কোটি জীবন হেলায় শেষ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কাও কঠিন বাস্তব। বিশ্ব উষ্ণায়নের প্রভাব ঠিক কতটা গুরুতর? দেরাদুনে অবস্থিত ভারত সরকারের ওয়াদিয়া ইনস্টিটিউট অব হিমালয়ান জিওলজির এক গবেষক তার সহজ উদাহরণ তুলে ধরেছেন। তাঁর বক্তব্য, পাহাড়ের যে উচ্চতায় একটা সময় তুষারপাত হত, সেখানে এখন বৃষ্টি হতে দেখা যাচ্ছে। অতটা উঁচুতে তাপমাত্রা কী পরিমাণে বাড়ছে, এটা তারই প্রমাণ। আর এই উষ্ণতা বৃদ্ধির কারণেই হিমবাহগুলি প্রচণ্ড দ্রুত হারে গলে যাচ্ছে।
হিমবাহগুলিতে বিশ্ব উষ্ণায়নের ভয়ঙ্কর প্রভাব নিয়ে সতর্ক করেছিল কাঠমাণ্ডুর ‘দ্য ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর ইন্টিগ্রেটেড মাউন্টেন ডেভেলপমেন্ট’ (আইসিআইএমওডি)। প্রকাশ করেছিল জোড়া রিপোর্ট। হিমবাহগুলি দ্রুত ক্ষয়ে যাচ্ছে বলে উল্লেখ করা হয়েছিল সেখানে। কিন্তু ঠিক কতটা দ্রত? প্রতিষ্ঠানটির দাবি ছিল, ২০০০ সালের পর থেকে অধিকাংশ হিমবাহেরই ক্ষয়ের হার দ্বিগুণ হয়েছে। তাদের গবেষণাতেই সামনে আসে, ১৯৭৫ সাল থেকে হিমবাহে জমাট বেঁধে থাকা বরফের পুরুত্ব ২৭ মিটার পর্যন্ত কমে গিয়েছে। উল্লেখ্য, আইসিআইএমওডি হল একটি আন্তর্জাতিক নলেজ অ্যান্ড লার্নিং সেন্টার। এই প্রতিষ্ঠানের আঞ্চলিক সহযোগীদের তালিকায় রয়েছে ভারত, নেপাল, ভুটান ও চীন।
হিন্দুকুশ হিমালয় (এইচকেএইচ) অঞ্চল হল ‘এশিয়ার জলস্তম্ভ’। এখানের হিমবাহ গলা জলের উপর নির্ভরশীল প্রায় ২০০ কোটি মানুষ। পার্বত্য নদীগুলির নিম্নধারায় বসবাসকারী অগণতি জনতার জীবন ঘিরে সম্ভাব্য বিপদের আগাম আঁচ উঠে এসেছে আইসিআইএমওডি-এর ওই রিপোর্টে। তাদের রিপোর্টে দাবি, উষ্ণায়নের ধাক্কায় উচ্চ হিমালয় অঞ্চলের হিমবাহগুলি আকারে ১২ শতাংশ ছোট হয়েছে। এগুলির আনুমানিক বরফ ভাণ্ডার কমেছে ৯ শতাংশ। এই ক্ষয় হয়েছে মাত্র ৩০ বছরের ব্যবধানে— ১৯৯০ থেকে ২০২০ সালের মধ্যে। রিপোর্টে জানানো হয়েছে, এই অঞ্চলের ৩৮টি হিমবাহের মধ্যে মাত্র সাতটি বিশ্ব হিমবাহ পর্যবেক্ষণ পরিষেবা (ডব্লিউজিএমএস)-এর আন্তর্জাতিক মানদণ্ড পূরণ করেছে। কারাকোরাম, সিকিম, জান্সকার এবং ভুটানের মতো হিমবাহ-সমৃদ্ধ অঞ্চলগুলিতে নজরদারি অপর্যাপ্ত থাকায় তথ্যে উল্লেখযোগ্য ঘাটতি তৈরি হয়েছে। ফলে, হিমবাহ পরিবর্তনের গতি ও মাত্রা সম্পর্কে গবেষকদের ধারণা সীমিত হয়ে পড়েছে।