নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: বাড়ছে ডেঙ্গুর উদ্বেগ। এ বছর ‘হটস্পট’কলকাতা পুরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ড। কলকাতা পুরসভার এই ওয়ার্ডেই ইতিমধ্যেই ৫৪ জনের ডেঙ্গু হয়েছে। গত সোমবার, সচেতনতা প্রচারে এসে একথা জানান রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। সকলকে এলাকা পরিষ্কার রাখতে বলেন। যত্রতত্র আবর্জনা ফেলতেও মানা করেন তিনি। তবুও সাধারণ মানুষের হুঁশ ফিরল কোথায়? আজ, বুধবারও যত্রতত্র পড়ে রয়েছে আবর্জনা। রাস্তায় জমে রয়েছে জলও।
এলাকার সাধারণ মানুষের অভিযোগ, এই জমা জলের সমস্যা দীর্ঘদিনের। আগের সরকারও এনিয়ে কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি। স্থানীয় এক বাসিন্দা জানান, বছরের ঠিক এই সময়ে, অর্থাৎ সেপ্টেম্বর-অক্টোবর মাসে একটু বৃষ্টি হলেই একহাঁটু জল জমে যায়। কিছু সময় জল তাড়াতাড়ি নেমে গেলেও, অধিকাংশ ক্ষেত্রে তা নামতে দুই-তিন দিন সময় লেগে যায়। এর ফলে মশার দাপট ও ডেঙ্গুর আতঙ্ক আরও বেড়ে যায়। সরকারের কাছে স্থায়ী সমাধান দাবি করে বাসিন্দারা জানান, যে রাস্তাগুলিতে জল জমে সেগুলি দ্রুত উঁচু করা প্রয়োজন।
তবে সকালে নিয়ম করে কর্পোরেশনের তরফে পরিষ্কার করা হয় এলাকা। জানিয়েছেন স্থানীয় এক বাসিন্দা। এ ছাড়াও তিনি বলেন, ‘এলাকার কিছু মানুষ তবুও যেখানে-সেখানে ময়লা ফেলেন। নিষেধ করা হলে দু-এক দিন তা বন্ধ থাকে। তারপরই আবার একই কাজ করেন।’ সোমবার তীব্র ক্ষোভপ্রকাশ করে অগ্নিমিত্রা বলেন, ‘কেন যেখানে-সেখানে ময়লা ফেলছেন? এতে ডেঙ্গুর প্রকোপ আরও বাড়তে পারে।’ সাধারণ মানুষকে সতর্ক করে তিনি বলেন, ‘আপনারা তো শিক্ষিত মানুষ। কেন এমন করছেন?’
স্থানীয় এক বাসিন্দার অভিযোগ, অনেকেই বাইরে থেকে এসে এখানে ভাড়া থাকেন এবং বারণ করা সত্ত্বেও বারবার যেখানে-সেখানে আবর্জনা ফেলে চলে যান। তবে অন্য এক বাসিন্দা আশা প্রকাশ করে বলেন, ‘রাজ্যে নতুন সরকার এসেছে সবেমাত্র কয়েক মাস হলো। আমরা আশাবাদী এই সরকার নিশ্চয়ই উপযুক্ত ব্যবস্থা নেবে।’