


নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: যুদ্ধের সাতদিনেই আন্তর্জাতিক বাজারে অশোধিত তেলের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে ৯ শতাংশ। গ্যাসের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে প্রায় ৫০ শতাংশ। তেল আমদানি বেড়ে গেলেও বিগত বছরে ভারতের বৈদেশিক বাণিজ্য ঘাটতিও কমেছিল। মূল্যবৃদ্ধি ক্রমেই সরকারি কাগজে কলমে কমেছে বলেই দাবি করা হয়েছে নীতি নির্ধারণ কমিটির প্রতি বৈঠক কিংবা সাম্প্রতিক অর্থনৈতিক সমীক্ষায়। কিন্তু এই স্বস্তির দিন কতদিন থাকবে সেটা নিয়ে ভারত সরকারই এখন চিন্তিত। অর্থমন্ত্রকের ইকনমিক রিভিউ রিপোর্টে বলা হয়েছে, যদি পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ এক মাস ধরেও চলে, তাহলেই বড়োসড়ো বিরূপ প্রভাব আসতে চলেছে। যার অন্যতম বড় ধাক্কা হল মূল্যবৃদ্ধি। আর এক মাস যুদ্ধ চলার জন্য অপেক্ষা করতে হবে না। রান্নার গ্যাসের আকস্মিক এক ধাক্কায় ৬০ টাকা বৃদ্ধিই প্রমাণ করছে যে সাধারণ মানুষের ঘরেই আঁচ লাগতে শুরু করেছে। এমনকি রান্নার গ্যাস সাপ্লাইয়ের সংকটও শিয়রে।
এরপর আন্তর্জাতিক বাজারে অশোধিত তেলের দাম যে আরও বাড়তে চলেছে, তা নিয়ে সংশয় নেই। এমনকি বিশ্বের তাবৎ আর্থিক সমীক্ষক সংস্থার আশঙ্কা, অশোধিত তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ১৫০ ডলার হতে চলেছে। মনে রাখা দরকার, দিন কয়েক আগেই আন্তর্জাতিক বাজার থেকে ব্যারেল প্রতি ৬৫ ডলার খরচ করে তেল কিনে ঘরোয়া বাজারে ১০০ টাকার বেশি দরে তেল বেঁচেছে কেন্দ্র। আর অশোধিত তেল ১৫০ ডলার দরে কিনতে হলে, আম জনতাকে কত টাকায় পেট্রোল-ডিজেল কিনতে হবে? ইকনমিক রিভিউ রিপোর্টে আশঙ্কা করা হয়েছে, মূল্যবৃদ্ধির হার বাড়ার শঙ্কা থেকেই যাচ্ছে। একইসঙ্গে ডলারের নিরিখে টাকার দর প্রতিদিনই রেকর্ড গড়ছে। যেহেতু পেট্রোপণ্য কেনা-বেচা হয় মূলত ডলারে, তাই এই মূল্যও বাড়বে। ইকনমিক রিভিউ অনুযায়ী, রপ্তানি বণিজ্যে ধাক্কা লাগার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। কারণ পশ্চিম এশিয়ার বিস্তীর্ণ অংশের সমুদ্রপথ রুদ্ধ হয়ে আছে। যুদ্ধের কারণে মিসাইল, টর্পোডো হানার আশঙ্কায় মার্চেন্ট শিপিং কোম্পানিগুলি সমুদ্রে পণ্য পরিবহণ বন্ধ রেখেছে। আর যদি এক-দু’মাস ধরে এই অবস্থা চলতে থাকে, তাহলে আমদানি রপ্তানি বাণিজ্যের ভারসাম্য তো বড়োসড়ো ধাক্কা খাবেই, তার সঙ্গে আবার বহু পণ্যের সংকটও হবে। সেক্ষেত্রে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি পাবে।