Bartaman Logo
৭ অক্টোবর, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

ওয়েভার স্কিমে কোষাগারে আসবে ২০০ কোটি টাকা, আশায় হাওড়ার পুরকর্তারা

বকেয়া সম্পত্তি করের অঙ্ক পৌঁছে গিয়েছে প্রায় ৪৮০ কোটি টাকায়। সেই বিপুল বকেয়ার মধ্যে এবার প্রায় ২০০ কোটি টাকা পুরসভার ঘরে ঢোকার সম্ভাবনা তৈরি হল

ওয়েভার স্কিমে কোষাগারে আসবে ২০০ কোটি টাকা, আশায় হাওড়ার পুরকর্তারা
  • ৭ অক্টোবর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: বকেয়া সম্পত্তি করের অঙ্ক পৌঁছে গিয়েছে প্রায় ৪৮০ কোটি টাকায়। সেই বিপুল বকেয়ার মধ্যে এবার প্রায় ২০০ কোটি টাকা  পুরসভার ঘরে ঢোকার সম্ভাবনা তৈরি হল। দীর্ঘদিনের সম্পত্তি কর মেটাতে আগেই বড়োসড়ো ছাড়ের কথা ঘোষণা করেছিল হাওড়া পুরসভা। জানানো হয়েছিল, নতুন ওয়েভার স্কিমে বকেয়া সম্পত্তি করের উপর জমে থাকা সুদ, ফাইন ও পেনাল্টি সম্পূর্ণ মকুব করা হবে। মঙ্গলবার এই স্কিমের চূড়ান্ত সময়সীমা জানিয়ে দিল পুরসভা। এর ফলে শহরের প্রায় ১ লক্ষ ৯০ হাজার করদাতা সরাসরি উপকৃত হবেন বলে মনে করা হচ্ছে।

Advertisement

পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, শুধু বাড়তি টাকা মকুব নয়, আবাসিক বাড়ি ও ফ্ল্যাটের মালিকদের জন্য রয়েছে আরও সুবিধা। যোগ্য আবাসিককে সম্পত্তির মূল বা বেসিক প্রপার্টি ট্যাক্সের উপর অতিরিক্ত ১০ শতাংশ রিবেট দেওয়া হবে। অর্থাৎ দীর্ঘদিন কর বকেয়া থাকার কারণে মূল করের সঙ্গে সুদ ও জরিমানার বোঝা বেড়ে যাওয়ায় অনেকের কাছে কর মেটানো কঠিন হয়ে উঠেছিল, সেই বাড়তি অংশ পুরোপুরি মকুব করা হচ্ছে। ফলে এককালীন টাকা দিয়ে পুরানো করের হিসাব চুকিয়ে ফেলার সুযোগ পাবেন করদাতারা। এদিন হাওড়া পুরসভায় এই বিশেষ ইনসেনটিভ স্কিমের কথা ঘোষণা করেন পুর ও নগরোন্নয়ন দপ্তরের প্রতিমন্ত্রী উমেশ রাই। প্রতিমন্ত্রী বলেন, হাওড়ার মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি ছিল এমন একটি ওয়েভার স্কিম চালু করার। বহু বছর ধরে সম্পত্তি কর বকেয়া পড়ে রয়েছে। কোনো কোনো সম্পত্তির ক্ষেত্রে সেই বকেয়া ২০-২৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত পৌঁছেছে। মুখ্যমন্ত্রীকে বিষয়টি জানানো হয়েছিল। তাঁর অনুমোদন এবং মন্ত্রিসভার ছাড়পত্রের পরেই এই স্কিম চালু করা হল। পুরসভার লক্ষ্য, ছাড়ের সুবিধা দিয়ে করদাতাদের বকেয়া মেটাতে উৎসাহিত করা। কারণ, বর্তমানে প্রায় ৪৮০ কোটি টাকা সম্পত্তি কর বকেয়া থাকায় পুরসভার রাজস্ব আদায়ে তার প্রভাব পড়ছে। নতুন প্রকল্পে প্রায় ২০০ কোটি টাকা পর্যন্ত বকেয়া আদায় হতে পারে বলে আশাবাদী পুরসভা।
পুরসভা জানিয়েছে, এই সুবিধা পেতে করদাতাদের আলাদা করে আবেদন করার প্রয়োজন নেই। প্রপার্টি ট্যাক্স পোর্টালে অ্যাসেসমেন্ট নম্বর দিলেই সংশ্লিষ্ট সম্পত্তির বকেয়া করের হিসাব দেখা যাবে। কত টাকা সুদ, ফাইন ও পেনাল্টি মকুব হচ্ছে এবং ১০ শতাংশ রিবেটের পর কত টাকা জমা দিতে হবে, তাও সেখানেই জানা যাবে। অনলাইনে টাকা দেওয়ার পাশাপাশি পুরসভার দপ্তরে গিয়েও এককালীন কর মেটানোর ব্যবস্থা থাকছে। অনলাইনে সমস্যা হলে হাওড়া ময়দানে পুরসভার মূল দপ্তরে হেল্প ডেস্ক থেকেও সহায়তা নেওয়া যাবে। ২০২৫-’২৬ অর্থবর্ষের চতুর্থ ত্রৈমাসিক পর্যন্ত বকেয়া থাকা করদাতারা শর্তসাপেক্ষে এই সুবিধা পাবেন। তবে সুযোগটি অনির্দিষ্টকালের জন্য নয়। ওয়েভার স্কিমের সুবিধা নেওয়ার শেষ সময়সীমা আগামী বছরের ৩১ মার্চ পর্যন্ত।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ