নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: ভোটের আগে ধর্মীয় মেরুকরণ আবার জোরদারভাবে রাজ্যে শুরু হয়ে গেলেও খোদ বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব মনে করছে এই পন্থা শেষ কথা নয়। বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব মনে করছে রাজ্য সরকার কিংবা শাসক দলের দ্যর্থতা ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে লাগাতার আন্দোলনই সুফল দিতে পারবে। এক শীর্ষ নেতা স্বীকার করেন যে, বাংলায় দলের সক্রিয়তা আরও বাড়াতে হবে । উত্তরবঙ্গে কিংবা দক্ষিণবঙ্গের কিছু এলাকায় ২০২১ সালের বিধানসভা ভোটের সময় দলের যে শক্তিশালী সংগঠন ও জনপ্রিয়তা ছিল, সেই প্রবণতা যতটা সম্প্রসারিত হওয়ার কথা ছিল সেটা হয়নি। বরং সাংগঠনিক শ্লথতা এবং দলের আগ্রাসী প্রচারে ভাটা পড়ায় কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব যথেষ্ট চিন্তিত। দুর্বলতাগুলি এখনই চিহ্নিত করতে চায় কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব।
বিজেপি অন্য রাজ্যে উন্নয়নের জন্য হাজার হাজার কোটি টাকার প্রকল্প উপহার দেয়। অথচ বাংলায় ভোট এলেই মেরুকরণের রাজনীতি করে। এমন অভিযোগ বরাবরের। যদিও তা অস্বীকার করে দলের এক শীর্ষ কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব দাবি করেছেন, সব রাজ্যেই কিংবা কেন্দ্রীয় স্তরে কিছু নেতা হয়ত এরকম আচরণ করতেই পারেন। কিন্তু শীর্ষ নেতৃত্বের কাউকে দেখা গিয়েছে কখনও এভাবে বিভাজনের রাজনীতি করতে? যারা ওসব করে তারা দলের প্রধান চালিকাশক্তি নয়। কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, নিছক মেরুকরণের রাজনীতি করে জয়ী হওয়া যায় না। বিজেপির রাজনীতির অভিমুখ কখনও সেটা নয়। কিন্তু সংখ্যালঘু তোষণের রাজনীতির বিরোধিতা করবেই। সেটা নীতিগত কারণে।
বিজেপি কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব এখনও নিশ্চিত নয় যে, বংলায় ২০২৬ সালে আদতে কোন ফলাফল অপেক্ষা করে আছে। বস্তুত ২০২১ সালের আগে যতটা বিজেপি কেন্দ্রীয় নেতৃত্বকে আত্মবিশ্বাসী মনে হয়েছিল সেই নিশ্চিন্ত আত্মবিশ্বাসের সামান্য হলেও অভাব ঘটেছে। দলের বঙ্গশাখার সামগ্রিক পারফরম্যান্সে খুশি নয় কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। আরও জোরদার ঐক্যের সঙ্গে ঝাঁপাতে হবে বলে তারা মনে করছে। সাধারণত বিজেপি নেতৃত্ব এতদিন ধরে বলে এসেছেন, বাংলায় আমরা জিতবই। এখন সেই নেতৃত্বের মুখেই সতর্ক অবস্থান শোনা যাচ্ছে। তাঁরা বলছেন, জেতার জন্যই তো ভোটে লড়াই করছি। পরাজয়ের জন্য কেউ কি নির্বাচনে লড়াই করে?