


সংবাদদাতা, বোলপুর: চল্লিশ ডিগ্রির গণ্ডি পেরিয়েছে তাপমাত্রা। তীব্র দাবদাহে পুড়ছে বীরভূমের বোলপুর -শান্তিনিকেতন। তার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে বিধানসভা নির্বাচনের আবহ। ফলে এই সময় যে পর্যটকের ভিড় থাকার কথা, সেখানে এখন হাতে গোনা কিছু মানুষকে দেখা যাচ্ছে। পর্যটক কমে যাওয়ায় চরম সমস্যায় পড়েছেন হোটেল ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে ছোট দোকানদাররা। কয়েক মাস আগেও ছবিটা ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন। শীত থেকে বসন্ত পুরো সময় জুড়েই শান্তিনিকেতন ছিল পর্যটকে ঠাসা। পৌষ মেলা, দোল উৎসব কিংবা নববর্ষের সময় হোটেল-লজে জায়গা পাওয়া প্রায় অসম্ভব হয়ে উঠেছিল। কিন্তু এপ্রিলের শেষের দিকে এসে আচমকাই ভাটা পড়েছে পর্যটনে। স্থানীয়দের মতে, গরম ও ভোট এই দুই কারণই এই পরিস্থিতির জন্য দায়ী। এরই মধ্যে নির্বাচনের জন্য কয়েকদিন বন্ধ রাখা হয় রবীন্দ্রভবন। ফলে অনেক পর্যটকই হতাশ হয়ে ফিরে যান। রবিবার পুরুলিয়া থেকে আসা পর্যটক দোয়েল সেন ও পিংকু চক্রবর্তীরা বলেন, ভোট দিয়ে কয়েকদিনের ছুটি পেয়েছিলাম, তাই ঘুরতে এলাম। কিন্তু এখানে এসে দেখি গরম খুব বেশি, তার উপর রবীন্দ্রভবনও বন্ধ। তাই সব জায়গা ঘোরা হল না।
বিশ্বভারতীর ভারপ্রাপ্ত জনসংযোগ আধিকারিক অতিগ ঘোষ বলেন, নির্বাচনের কাজে রবীন্দ্রভবনের সব কর্মী ও আধিকারিকদের ডেকে নেওয়া হয়েছিল। তাই সাময়িকভাবে এই পরিষেবা বন্ধ রয়েছে। সাধারণত সপ্তাহান্তে শান্তিনিকেতনের আশ্রম চত্বর, সোনাঝুরি হাট, কোপাই ও কঙ্কালীতলার মতো জায়গাগুলিতে ভিড় উপচে পড়ে। কিন্তু এবার সেই চেনা ছবিও নেই। গরমের তীব্রতায় দিনের বেলা রাস্তাঘাট প্রায় ফাঁকা থাকে। বোলপুর শান্তিনিকেতন হোটেল ইউনিয়নের সভাপতি প্রসেনজিৎ চৌধুরি বলেন, এপ্রিলের শেষ থেকেই গরম বাড়ে। তখন এখানে পর্যটক একটু কমে। কিন্তু এবারে ভোটের জন্য পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়েছে। অনেক বুকিং বাতিল হয়েছে। আমরা চিন্তায় আছি।
স্থানীয় খাবার ব্যবসায়ী শ্যামল রায় বলেন, তীব্র গরম ও ভোটের কারণে এখন পর্যটক নেই বললেই চলে। দোকান খোলা রাখলেও বিক্রি হচ্ছে কম। একই সুর শোনা গেল সোনাঝুরি হাটের ব্যবসায়ী তন্ময় মিত্রর গলায়। তিনি বলেন, শনি-রবিবারে হাটে ভাল বেচাকেনা হয়। কিন্তু এখন গরম আর ভোটের জন্য ক্রেতা কমেছে। স্থানীয় টোটো চালকদের অবস্থাও তথৈবচ।