নিজস্ব প্রতিনিধি কৃষ্ণনগর: চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় বিচারাধীন ভোটারদের নাম রেখেই তালিকা প্রকাশ করেছিল নির্বাচন কমিশন। শুধুমাত্র তালিকায় সেই সমস্ত ভোটারদের নামের পাশে ‘বিচারাধীন’ বলে লেখা ছিল। এতে আতঙ্কের মধ্যেও অনেকেই আশ্বস্ত হয়েছিলেন যে অন্তত ভোটার তালিকায় তাঁদের নাম রয়েছে। কিন্তু, এবার সেই ভোটার তালিকা থেকেই বিচারাধীন ভোটারদের নাম ‘তুলে’ দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ, তাঁদের আর নির্বাচন কমিশনের পোর্টালের ভোটার তালিকায় দেখা যাচ্ছে না। যার ফলে নদীয়া জেলায় ভোটার সংখ্যা কমে দাঁড়িয়েছে ৩৯ লক্ষে। বিষয়টি ইতিমধ্যেই প্রশাসনের নজরে এসেছে। নদীয়ার পাশাপাশি সমগ্র রাজ্যজুড়েই ভোটার তালিকা থেকে উধাও হয়ে গিয়েছে বিচারাধীন ভোটাররা। এতেই প্রশ্ন উঠছে আন্ডার অ্যাডজুডিকশন থাকা ভোটারদের ভবিষ্যৎ নিয়ে।
এদিকে নদীয়া জেলায় ভোটারদের নথিপত্র যাচাইয়ের কাজে নিযুক্ত বিচারকের সংখ্যা কিছুটা কমতে পারে বলে শোনা যাচ্ছে। কারণ পূর্ববর্তী যে সমস্ত বিচারক এতদিন বিচারাধীন ভোটারদের নিষ্পত্তির কাজ করছিলেন, তাঁদের মধ্যে কিছুজনকে অন্য জেলায় বদলি করা হচ্ছে। ফলে নির্দিষ্ট সময়ে বিচারাধীন ভোটারদের নিষ্পত্তির কাজ কতটা শেষ করা যাবে, তা নিয়েও আশঙ্কা দেখা গিয়েছে। কারণ, নদীয়া জেলায় আগে ২৬ জন বিচারক ছিলেন। চলতি সপ্তাহে ঝাড়খণ্ড, ওড়িশা থেকে আরও ২২ জন বিচারক এই কাজে যোগ দিতে নদীয়া জেলায় আসছেন। এবার আগের যে ২৬ জন বিচারক কাজ করছিলেন, তাঁদের মধ্যে অনেকেই মুর্শিদাবাদ ও মালদহ জেলায় বদলি হয়ে যাচ্ছেন। তার ফলে বিচারকদের সংখ্যায় ঘাটতির আশঙ্কা করা হচ্ছে।
কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, এসআইআর শুরুর আগে নদীয়া জেলায় ৪৪ লক্ষ ১৮ হাজার ভোটার ছিল। তারপর মৃত, স্থানান্তরিত ও অনুপস্থিতির কারণে খসড়া তালিকা থেকে ২ লক্ষ ১৬ হাজার ভোটারের নাম বাদ যায়। তারপর আড়াই মাস ধরে এসআইআরের শুনানি পর্ব চলে। ২৮ ফেব্রুয়ারি চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হয়। কিন্তু, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের কারণে সেই তালিকা পূর্ণাঙ্গ রূপ পায়নি। যদিও সেই তালিকায় আরও ৫৭ হাজার ভোটারের নাম বাদ যায়। সেই সময় ৪১ লক্ষ ৪৫ হাজার ভোটারের নাম সহকারে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হয়েছিল। সেই তালিকায় বিচারাধীন ভোটারদের নাম ছিল।
চূড়ান্ত তালিকায় নদীয়া জেলায় ২ লক্ষ ৬৭ হাজার ৯০৪ জন বিচারাধীন ভোটার ছিলেন। নদীয়া উত্তরের ৮টি বিধানসভায় ১ লক্ষ ২৭ হাজার ১০০ জন এবং নদীয়া দক্ষিণের ৯টি বিধানসভা ১ লক্ষ ৩৯ হাজার ভোটারকে বিচারাধীনের আওতায় রাখা হয়েছে। যার মধ্যে রানাঘাট মহকুমায় ৬৬ হাজার, কৃষ্ণনগর মহকুমায় ১ লক্ষ ১৩ হাজার, তেহট্ট মহকুমায় ৪০ হাজার এবং কল্যাণী মহকুমায় ৪৫ হাজার বিচারাধীন ভোটার রয়েছে। তাঁদের সকলের নামই চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত ছিল।
সেইমতো সুপ্রিম কোর্টের হস্তক্ষেপের জেরে বর্তমানে বিচারাধীন ভোটারদের নথি যাচাই করে নিষ্পত্তির কাজ করেছেন বিচারকরা। বিগত এক সপ্তাহ ধরে সেই কাজ চলছে। কিন্তু, সম্প্রতি দেখা যাচ্ছে, বিচারাধীন ভোটারদের নাম নির্বাচন কমিশনের পোর্টালের চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় নেই। স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে, সেই সমস্ত বিচারাধীন ভোটারদের ভোটাধিকারের ভবিষ্যৎ নিয়ে।
রাজনৈতিক মহলের দাবি, যাঁরা ইতিমধ্যেই ম্যাপড ভোটার তাঁদেরকেও নির্বাচন কমিশনের তরফে কাঠগড়ায় তোলা হয়েছে সন্দেহের ভিত্তিতে। বিচারাধীনের আওতায় রাখা হয়েছে কয়েক লক্ষ ভোটারকে। এই পরিস্থিতিতে ভোটার তালিকা থেকে নাম মুছে দেওয়া নিয়ে বিতর্ক দেখা গিয়েছে। কারণ খাতায় কলমে তাঁদের অধিকাংশই ম্যাপড ভোটার। তাই চূড়ান্ত ভোটার তালিকা থেকে বিচারাধীন ভোটারদের নাম তুলে দেওয়ার যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।