


মৃত্যুঞ্জয় কর্মকার, হবিবপুর: বিধায়কের এলাকা উন্নয়ন তহবিলের টাকা খরচ করা তো দূরের কথা, এলাকাতেই দেখা যায়নি হবিবপুরের বিদায়ী এমএলএ জোয়েল মুর্মুকে। গত পাঁচবছরে কোনো উন্নয়নমূলক কাজ হয়নি বলে তৃণমূলের দাবি। রাস্তা, কমিউনিটি হল, আলো সহ কিছু কাজ করলেও অধিকাংশ কাজ করতে দেওয়া হয়নি বলে রাজ্য প্রশাসন ও তৃণমূলের উপর দায় চাপিয়েছেন জোয়েল। এবারও বিদায়ী বিধায়ককে প্রার্থী করেছে বিজেপি। গত পাঁচবছর উল্লেখযোগ্য উন্নয়নমূলক কাজ না করলেও ভোটের প্রচারে গিয়ে বিকাশের কথা বলছেন বিজেপি প্রার্থী। অসমাপ্ত কাজ সম্পূর্ণ করার আশ্বাস দিচ্ছেন। যা নিয়ে কটাক্ষ করতে ছাড়েনি জোড়াফুল।
এসটি আসন সংরক্ষিত হবিবপুর বিধানসভায় দুটি ব্লক- হবিবপুর ও বামনগোলা। হবিবপুর ব্লকে ১১ টি গ্রাম পঞ্চায়েত। বামনগোলায় ৬ টি। তৃণমূলের দাবি, গত বিধানসভা ভোটে হবিবপুরে তারা হেরে গেলেও রাজ্য সরকারের নানা উন্নয়নমূলক কাজ হয়েছে। কিন্তু বিজেপি বিধায়ক কোনো কাজ করেননি। নানা প্রতিশ্রুতি দিয়েও বিদায়ী বিধায়ক কোনো কাজ করতে পারেননি বলে জোড়াফুলের অভিযোগ।
বামনগোলার চাঁদপুর, গোবিন্দপুর, মহেশপুরের মানুষের আক্ষেপ, গত বিধানসভা ভোটের পর থেকে বিজেপি বিধায়ককে এলাকায় দেখতে পাওয়া যায়নি। চাঁদপুর এলাকা পুনর্ভবা, হাঁড়িয়া নদীর জলে প্রতিবছর প্লাবিত হয়। বর্ষায় চরম ভোগান্তিতে পড়েন এলাকার সাধারণ মানুষ। বিদায়ী বিধায়ক সেখানে কোনো কাজ করেনি বলে দাবি এলাকাবাসীর।
চাঁদপুরের ভগীরথ মণ্ডলের কথায়, বিজেপি বিধায়ক এলাকায় কোনোদিন আসেননি। মানুষের অসুবিধা, সমস্যা বুঝবেন কী করে? গ্রামে কয়েকটি বাঁধ, কালভার্ট প্রয়োজন ছিল। বিধায়ক করেননি।
বিদায়ী বিধায়ক তথা এবারের বিজেপি প্রার্থী জোয়েল বলেন, তৃণমূল চক্রান্ত করে স্থানীয় প্রশাসনকে কাজে লাগিয়ে কাজ করতে দেয়নি। তা সত্ত্বেও যতটা সম্ভব কাজ করেছি। কিছু কাজ আটকে আছে। ভোটের পরে তা হবে।
যদিও বিজেপি বিধায়ক কোনো কাজ করেননি বলে দাবি তৃণমূলের জেলা সাধারণ সম্পাদক চুনিয়া মুর্মুর। বলেছেন, সারাবছর মানুষের সুখ, দুঃখে তৃণমূল নেতারা পাশে থাকেন। এলাকায় তৃণমূলের বিধায়ক ক্ষমতায় এলে উন্নয়নের দিক থেকে হবিবপুর বিধানসভা অনেক এগিয়ে যাবে।