


অগ্নিভ ভৌমিক, কৃষ্ণনগর: ২০১৬ সালে নদীয়া জেলায় লোকসভা নির্বাচন হয়েছিল ৩৯ লক্ষ ভোটার নিয়ে। তারপর বিগত এক দশকে পাঁচ লক্ষ ভোটার বেড়েছিল নদীয়া জেলায়। কিন্তু এসআইআরে তিন দফায় প্রায় ৪ লক্ষ ৮৮ হাজার ভোটারের নাম বাদ পড়েছে। যার ফলে নদীয়া জেলায় বর্তমানে বৈধ ভোটারের সংখ্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে কমবেশি ৩৯ লক্ষ ৩১ হাজার ৩১৯ জন। যা সেই ২০১৬ সালের ভোটার সংখ্যার কাছাকাছি। ট্রাইবুনালের আবেদনে নেওয়া শুরু হয়েছে। সরকারি অফিসগুলোতে মানুষের ভিড় উপচে পড়ছে। জানা গিয়েছে, বুধবার পর্যন্ত নদীয়া জেলায় ট্রাইবুনালে আবেদনের সংখ্যা ৩০ হাজার ছুঁয়েছে। যদিও শেষ পর্যন্ত এই আবেদনকারীদের নাম ভোটার তালিকায় উঠবে কি না, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে।
জানা গিয়েছে, এসআইআরের আগে নদীয়া জেলায় ভোটার সংখ্যা ছিল ৪১ লক্ষ ১৮ হাজার ৮৩৮। ডিসেম্বর মাসে এসআইআরের খসড়া তালিকায় মৃত, স্থানান্তরিত ইত্যাদি কারণে ২ লক্ষ ১৬ হাজার ৫৭৭ নাম বাদ গিয়েছিল। তারপর দীর্ঘ দু’ মাস ধরে এসআইআরের শুনানি পর্ব চলে। ফেব্রুয়ারি মাসের শেষের দিকে চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় আরও ৬২ হাজার ৩১৬ জন ভোটারের নাম বাদ পড়ে। তারপর নদীয়া জেলার ২ লক্ষ ৬৭ হাজার ৯৪০ জন ভোটারকে নির্বাচন কমিশনের তরফ থেকে বিচারাধীন হিসেবে দেখানো হয়। বিগত একমাস ধরে বিচারকরা সেই সমস্ত ভোটারদের নথিপত্র যাচাই করে। সম্প্রতি তাতে দেখা গিয়েছে নদীয়া জেলায় ২ লক্ষ ৮ হাজার ৬২৬ জন বিচারাধীন ভোটারের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ প্রায় ৭৮ শতাংশ বিচারাধীন ভোটারের নাম বাদ পড়েছে। সবমিলিয়ে নদীয়া জেলায় ৪ লক্ষ ৮৭ হাজার ৫১৯ জন ভোটারের নাম তালিকাতে নেই।
এতে দেখা যাচ্ছে, নদীয়া জেলার বেশি কিছু বিধানসভায় ভোটারের সংখ্যা ৩০ থেকে ৪০ হাজার কমে গিয়েছে। যেমন রানাঘাট উত্তর পূর্ব বিধানসভাতেই খসড়া, চূড়ান্ত এবং সাপ্লিমেন্টারি তালিকা মিলিয়ে প্রায় ৪২ হাজার ভোটার কমে গিয়েছে। একইভবে কল্যাণী বিধানসভায় ৩৩ হাজার ভোটার কমে গিয়েছে। নাকাশিপাড়া বিধানসভায় ৩৫ হাজার এবং কৃষ্ণগঞ্জ বিধানসভায় ৩০ হাজার ভোটারের নাম বাদ গিয়েছে। রাজনৈতিক মহলের দাবি, ভোটার তালিকায় বিপুল সংখ্যক ভোটার কমে যাওয়ার এই পরিসংখ্যান নির্বাচনের ফলাফলে প্রভাব ফেলবে।
তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হল, নাম বাদ যাওয়া বিচারাধীন বহু ভোটারের কাছে এখনও স্পষ্ট নয়, কেন তাঁদের নাম বাদ পড়েছে। কারণ এমনও দেখা যাচ্ছে, ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় নাম থাকা ভোটারও বাদ পড়েছেন। এমনকী কমিশন নির্ধারিত পাসপোর্ট, স্কুল সার্টিফিকেট, জাতিগত শংসাপত্র জমা করার পরেও নাম বাদ গিয়েছে বহু ভোটারের। কৃষ্ণনগরের তথ্য সংস্কৃতি দপ্তরে ট্রাইবুনালে আবেদন করে বাড়ি ফিরছিলেন ফিরোজ শেখ। তিনি বলেন, কেন নাম বাদ গেল বুঝতে পারছি না। নথিপত্র জমা করেছিলাম। কিন্তু নাম বাদ দিয়েছে। ট্রাইবুনালে আবেদন করেছি। জানি না নাম উঠবে কি না।
কৃষ্ণনগর সাংগঠনিক জেলার তৃণমূলের যুব সভাপতি অয়ন দত্ত বলেন, যে আশঙ্কা আমাদের মুখ্যমন্ত্রী ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় করছিলেন, বাস্তবে তাই হচ্ছে। ক্ষমতায় আসার জন্য ঘুরপথে ওরা ভোটারদের নাম তালিকা থেকে বাদ দিয়েছে। নির্বাচন কমিশন বিজেপির এজেন্ট হিসেবে কাজ করেছে। কিন্তু তারপরেও ওরা রথে এসেছে উল্টো রথে বাড়ি ফিরবে।
রানাঘাট উত্তর পশ্চিম বিধানসভার বিজেপি প্রার্থী পার্থসারথি চট্টোপাধ্যায় বলেন, নাম বাদ যাওয়ার জন্য দায়ী মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এটা নদীয়াবাসী জেনে গিয়েছে। ভারতবর্ষে অনেক জায়গায় এসআইআর হচ্ছে। কিন্তু এইরকম কোথাও হয়নি।