নিজস্ব প্রতিনিধি, নন্দীগ্রাম: রবিবার সন্ধ্যায় নন্দীগ্রামে ধন্যবাদজ্ঞাপন সভা শেষ করে হলদিয়ায় প্রশাসনিক বৈঠকে হাজির হলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সন্ধ্যা ৭টা নাগাদ মুখ্যমন্ত্রী হলদিয়া ভবনে ওই মিটিংয়ে পৌঁছান। এই প্রথম হলদিয়ায় রাজ্যের কোনো মুখ্যমন্ত্রী প্রশাসনিক বৈঠক করলেন। এই বৈঠক ঘিরে আঁটোসাঁটো নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিল। বৈঠকে জেলাশাসক নিরঞ্জন কুমার, পুলিশ সুপার অংশুমান সাহা ছাড়াও শ্রম, কৃষি, পিএইচই, পিডব্লুডি, স্বাস্থ্য, সেচ সহ সব বিভাগের জেলার আধিকারিক এবং ইঞ্জিনিয়াররা উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে নন্দীগ্রামে এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাঙ্কের(এডিবি) আর্থিক সহায়তায় পানীয় জল প্রকল্প, নন্দীগ্রাম-দেশপ্রাণ রেল প্রকল্পে জমিজট ইস্যু সহ বেশ কয়েকটি সমস্যা নিয়ে আলোচনা হয়।
২০২১সালে নন্দীগ্রাম বিধানসভায় তৃণমূল কংগ্রেস হেরে যাওয়ার পর জমি আন্দোলনের ভূমিতে রাজ্যের উন্নয়নমূলক কাজকর্ম স্তব্ধ হয়ে পড়েছিল। রবিবার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ধন্যবাদজ্ঞাপন সভায় এনিয়ে সরব হন। এক হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে নন্দীগ্রামে বাড়ি বাড়ি পরিস্রুত পানীয় জলের কাজ ২০১৮-’১৯সাল থেকে ধুঁকছে। ২০২২সালের মধ্যে ওই প্রজেক্ট সম্পূর্ণ হওয়ার কথা ছিল। অথচ, ২০২৬ সালের মে মাসে এসেও সেই প্রকল্প সম্পূর্ণ হয়নি। শুধুমাত্র ওই স্কিমের জন্য প্রজেক্ট ইমপ্লিমেন্টেশন ইউনিট(পিআইইউ) গঠন করা হয়েছে। সেই ইউনিটের সুপারিনটেন্ডিং ইঞ্জিনিয়ারও এদিনের মিটিংয়ে উপস্থিত ছিলেন। যুদ্ধকালীন তৎপরতায় ওই কাজ শেষ করে বাড়ি বাড়ি জল দিতে হবে বলে এদিন মুখ্যমন্ত্রী জানিয়ে দেন।
এছাড়া, নন্দীগ্রাম রেল প্রকল্প অনেকটাও এগিয়েও যেভাবে অসম্পূর্ণ অবস্থায় রয়েছে তানিয়ে অনেকেই আফশোস করছেন। স্রেফ রাজনীতির জাঁতাকলে কীভাবে একটা উন্নয়নের কাজ ধাক্কা খেতে পারে এই প্রকল্প তার সেরা উদাহরণ। প্রজেক্টের কাজ প্রায় ৭৫ শতাংশ হয়ে যাওয়ার পরও জমিদাতাদের একাংশের আপত্তির জেরে সেই স্কিমের কাজ বারবার ধাক্কা খেয়েছে। এই জমিদাতাদের পিছনে তৃণমূল কংগ্রেসের একাংশের উসকানি ছিল বলে অভিযোগ।
নন্দীগ্রামে সিবিএসই মাধ্যমে সরকারি ইংরেজি মাধ্যম স্কুলের জন্য চার কোটি টাকা বরাদ্দ হয়। কিন্তু, জায়গা পাওয়া যায়নি এই অজুহাতে সেই স্কুল গড়ে ওঠেনি। মাল্টি সেক্টরাল ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্টের(এমএসডিপি) ওই তহবিলের প্রথম কিস্তির টাকা জেলা থেকে ফিরেও যায়। বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর নন্দীগ্রাম-১ব্লকের গোকুলনগরে সেই সরকারি ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল তৈরির তোড়জোড় শুরু হয়েছে। এরসঙ্গে নন্দীগ্রাম-হলদিয়া সংযোগকারী হলদি নদীর উপর ব্রিজ তৈরি নিয়েও প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। শনিবার হলদিয়ার মহকুমা শাসক নন্দীগ্রাম-১ব্লকের বাসুলিচকে এনিয়ে ভিজিটে যান।
শুভেন্দুবাবু বলেন, সামনে উপনির্বাচন আছে। সেই ভোটে ফলতার মতো ব্যবধান করতে হবে। এই সভার পরই নন্দীগ্রাম-১ ও ২ব্লকে উন্নয়নের পরিকল্পনা নিয়ে হলদিয়ায় মিটিং আছে। এখন কথা কম, কাজ বেশি। আগামী ১০জুনের মধ্যে নন্দীগ্রাম-২ব্লকে যাব। কারণ, এবার বিধানসভা ভোটে নন্দীগ্রাম-২ব্লক দারুণ পারফরম্যান্স করেছে।
এদিন নন্দীগ্রামের সভায় কাঁথির সাংসদ সৌমেন্দু অধিকারী, এগরার বিধায়ক দিব্যেন্দু অধিকারী, চণ্ডীপুরের বিধায়ক পীযূষকান্তি দাস, পাঁশকুড়া পশ্চিমের বিধায়ক সিন্টু সেনাপতি, পটাশপুরের বিধায়ক তপন মাইতি, কাঁথি দক্ষিণের বিধায়ক অরূপকুমার দাস, ভগবানপুরের বিধায়ক শান্তনু প্রামাণিক, রামনগরের বিধায়ক চন্দ্রশেখর মণ্ডল, নন্দকুমারের বিধায়ক নির্মল খাঁড়া সহ আরও অনেকে উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও দলের জেলা সভাপতি মলয় সিনহা, জেলা সাধারণ সম্পাদক মেঘনাদ পাল, বামদেব গুছাইত সহ আরও অনেকে উপস্থিত ছিলেন।