মার্কেট ভ্যালু্ মাত্র ৫৪ লক্ষ টাকা। পর্তুগালের দ্বিতীয় ডিভিশন ক্লাবে এটাই ভোজিনহার রোজগার। বিশাল কাইথ কিংবা গুরপ্রীত সিং সান্ধুর পেমেন্ট শুনলে মনে হবে পাহাড়ের পাশে টিলা। দু’বছরে সায়ন ব্যানার্জিকেও ভোজিনহার চেয়ে বেশি টাকায় সই করিয়েছে মোহন বাগান। ইস্ট বেঙ্গলে জেসিন টিকে যা দর হেঁকেছেন তাতে চোখ কপালে উঠবে ভোজিনহার। অথচ বিশ্বকাপের এক সন্ধ্যাই বদলে দিয়েছে কেপ ভার্দের গোলরক্ষকের জীবন। স্পেন ম্যাচের পর ইনস্টাগ্রামে তাঁর ফলোয়ার্সের সংখ্যা ৫০ হাজার থেকে ৩০ লাখ! ভোজিনহার ভোজবাজি একেই বলে। বিশ্বকাপের আগে মেসি, রোনাল্ডো, রড্রি, নেইমারদের নিয়ে খরচ হয়েছে লক্ষ লক্ষ নিউজপ্রিন্ট। ভোজিনহার নামই শোনেননি অনেকে। বয়স ৪০। পর্তুগালের দ্বিতীয় ডিভিশনে খেলা গোলরক্ষককে কে পাত্তা দেয়। অথচ সেই ভোজিনহাই এখন চর্চার কেন্দ্রে। কেপ ভার্দের রূপকথার নায়ক। রড্রি, পেড্রি, ইয়ামাল— না, গোটা স্প্যানিশ আর্মাডা চেষ্টা করেও টলাতে পারেনি তাঁকে। ভোজিনহার গ্লাভস শুধু গোল বাঁচায়নি। রক্ষা করেছে ৫ লাখের কেপ ভার্দেকেও। স্পেনকে রোখার রাতে গোটা দেশের চোখে জল। ভোজিনহার চোখ চিকচিকে। গ্যালারিতে বসে ছেলের লড়াই দেখতে চেয়েছিলেন মা। অত টাকা কোথায়! তাছাড়া মার্কিন মুলুকে ভিসার জব্বর কড়াকড়ি। ম্যাচের পর হতাশ গোলরক্ষকের মন্তব্য, ‘মাকে আনতে পারিনি। ছোটোবেলায় আগলে রাখতেন দাদু, দিদা। এমন মুহূর্তে তাঁরাও নেই। মানসিক কষ্টে চোখে জল এসেছিল।’



