সংবাদদাতা, বোলপুর: ২০১৬ সালে পরিকল্পনা নেওয়া হলেও দীর্ঘদিন নানা জটিলতা ও আইনি প্রক্রিয়ায় থমকে ছিল বিশ্বভারতীর রিং রোড প্রকল্প। অবশেষে এক দশকের প্রতীক্ষা কাটিয়ে সেই প্রকল্প এখন বাস্তবায়নের শেষ পর্যায়ে পৌঁছেছে। শান্তিনিকেতনের রতনপল্লি এলাকাকে ঘিরে তৈরি হওয়া এই রিং রোডের কাজ আগামী তিন মাসের মধ্যেই শেষ হয়ে যাবে বলে জানিয়েছে বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষ।
বিশ্বভারতীর ভারপ্রাপ্ত জনসংযোগ আধিকারিক অতিগ ঘোষ বলেন, এই রাস্তা চালু হলে শান্তিনিকেতনের অভ্যন্তরীণ যান চলাচল অনেকটাই নিয়ন্ত্রিত ও সহজ হবে। বিশেষ করে পর্যটনের মরশুমে রতনপল্লি এলাকায় কমবে যানজট। নতুন রিং রোড চালু হলে বিকল্প রাস্তা তৈরি হওয়ায় সেই চাপ কমবে বলেই মনে করা হচ্ছে। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়া, অধ্যাপক, আশ্রমিক ও স্থানীয় বাসিন্দাদের দৈনন্দিন যাতায়াতেও অনেক সুবিধা হবে।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গিয়েছে, নতুন এই রাস্তা শুরু হয়েছে জীবক মেডিকেল সংলগ্ন দোকান ও পোস্ট অফিসের পাশের এলাকা থেকে। সেখান থেকে রতনপল্লির পিছন দিক ঘুরে ডেলিব্রেড রোড অতিক্রম করে রতন কুটিরের পিছন দিক হয়ে শেষ পর্যন্ত শান্তিনিকেতন রোডের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে এই রাস্তা। পুরো রাস্তা বৃত্তাকারভাবে তৈরি হওয়ায় এর নাম দেওয়া হয়েছে ‘রিং রোড’।
জানা গিয়েছে, এই প্রকল্প বাস্তবায়নের পথে সবচেয়ে বড় বাধা ছিল রাস্তার ধারে থাকা একাধিক অবৈধ দখল ও নির্মাণ। ইতিমধ্যেই সেসব জায়গা চিহ্নিত করে উচ্ছেদের কাজ শুরু হয়েছে। বিশ্বভারতীর সম্পত্তি দপ্তরের আধিকারিকরা বিষয়টি তদারকি করছেন। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের বক্তব্য, আদালতের নির্দেশ ও প্রশাসনিক নিয়ম মেনেই এই উচ্ছেদ প্রক্রিয়া চালানো হচ্ছে।
এদিকে, উচ্ছেদ অভিযান ঘিরে এলাকায় কিছুটা ক্ষোভের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দার অভিযোগ, কোনো আগাম নোটিস ছাড়াই উচ্ছেদ করা হচ্ছে, ফলে সমস্যায় পড়ছেন ছোট ব্যবসায়ী ও কিছু পরিবার। যদিও বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষের দাবি, উন্নয়নমূলক প্রকল্প দ্রুত শেষ করতেই নিয়ম মেনে এই পদক্ষেপ করা হচ্ছে।
বিশ্বভারতীর আশ্রমিক ও প্রাক্তনীদের একাংশের মতে, রবীন্দ্রনাথের ভাবনা ও শান্তিনিকেতনের ঐতিহ্য বজায় রেখেই আধুনিক পরিকাঠামোর উন্নয়ন এখন প্রয়োজনীয় হয়ে উঠেছে। তাঁদের বিশ্বাস, রিং রোড চালু হলে শান্তিনিকেতনের যোগাযোগ ব্যবস্থায় গতি আসবে।