সংবাদদাতা, বোলপুর: ইউনেস্কোর ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ তকমাপ্রাপ্ত বিশ্বভারতীর ভুবনডাঙায় উচ্ছেদ নোটিস ঘিরে বাসিন্দারা চরম উদ্বিগ্ন। বুধবার বোলপুর পুরসভার ৭নম্বর ওয়ার্ডের উত্তরপাড়া ও বাঁধেরপাড় এলাকায় ৩২টি পরিবারকে ১৫দিনের মধ্যে এলাকা খালি করার নির্দেশ দিয়েছে বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষ। প্রায় পাঁচদশক ধরে ওই সমস্ত পরিবার সেখানে বসবাস করে আসছে। এই নোটিস পেয়ে তাঁরা আতঙ্ক ও অনিশ্চয়তায় দিন কাটাচ্ছেন।
স্থানীয়রা জানান, তাঁরা দীর্ঘদিন ধরে ওই এলাকায় ঘরবাড়ি তৈরি করে রয়েছেন। সন্তানদের মানুষ করেছেন। হঠাৎ উচ্ছেদের নোটিসে তাঁদের মাথার উপর ছাদ হারানোর আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বর্তমানে অনেকেরই নতুন জায়গা কিনে বাড়ি করার সামর্থ্য নেই। ফলে তাঁরা কী করবেন, বুঝতে পারছেন না।
বিশ্বভারতীর ভারপ্রাপ্ত জনসংযোগ আধিকারিক অতিগ ঘোষ বলেন, দীর্ঘদিন ধরে এসব জায়গা দখল হয়ে রয়েছে। তাই আইনি নোটিস দিয়ে ১৫দিনের মধ্যে জায়গা খালি করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এসমস্ত এলাকা থেকেই আবর্জনা ফেলে জলাশয় নষ্ট করা হচ্ছে। আশা করছি, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ওই জায়গা খালি করে দেওয়া হবে।
উল্লেখ্য, ভুবনডাঙার ঐতিহ্যবাহী বাঁধ ও জলাশয় বহু পুরনো ইতিহাস বহন করে। দীর্ঘ কয়েকবছর ধরে জলাশয়টি কচুরিপানায় ঢেকে ছিল। একসময় ইউজিসি থেকে সংস্কারের জন্য টাকা বরাদ্দ হলেও সেই টাকা ফেরত চলে যায়। প্রবীরকুমার ঘোষ উপাচার্য পদে দায়িত্ব নেওয়ার পর সীমিত টাকায় জলাশয় সংস্কার শুরু করে বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষ। তাদের দাবি, ভুবনডাঙার বাঁধের জমির দখলদারদের অনেকেই বিশ্বভারতীর প্রাক্তন কর্মীদের পরিবারের সদস্য। ওই এলাকা থেকে জলাশয়ে বর্জ্য ফেলায় পরিবেশ দূষণ বাড়ছে। একারণে বিশ্বভারতীকে জাতীয় পরিবেশ আদালতে মোটা অঙ্কের জরিমানার মুখেও পড়তে হয়েছে। সেকারণেই প্রায় ৩২টি পরিবারকে নোটিস দেওয়া হয়েছে।
ওই এলাকার বাসিন্দা গোপাল হাজরা, ধীরেন হাজরা বলেন, ৫০বছরের বেশি সময় ধরে আমরা এখানে থাকি। দিন আনি দিন খাই। এখন অন্য জায়গায় জমি কিনে বাড়ি করার মতো অবস্থা নেই। এর আগেও কয়েকবছর আগে নোটিস দেওয়া হয়েছিল। এখন কী করব, বুঝতে পারছি না। অঞ্জনা হাজরা ও শকুন্তলা হাজরা বলেন, এত কম সময়ের মধ্যে জায়গা ছাড়তে বলা হয়েছে। আরো কিছুটা সময় দিলে ভালো হতো। আমাদের আর্থিক অবস্থাও ভালো নয়। এখন কোথায় যাব, বুঝতে পারছি না।
স্থানীয় বিজেপি নেতা সনাতন দাঁ মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে আরো সময় দেওয়ার দাবি তুলেছেন। তিনি বলেন, এতবছর ধরে মানুষ সেখানে বসবাস করছে। ওই এলাকার মানুষের কথা এতদিন ভাবা হয়নি। হঠাৎ করে উচ্ছেদের নোটিস দিলে সমস্যা হবেই। স্থায়ী পুনর্বাসনের ব্যবস্থাও হওয়া উচিত ছিল। তৃণমূল কাউন্সিলার সুকান্ত হাজরা জানান, বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষের কাছে পাঁচ-ছ’মাস সময় চেয়ে আবেদন জানানো হবে। বিজেপির অভিযোগকে রাজনৈতিক বলে তিনি কটাক্ষ করেছেন। • এই সেই নোটিস। নিজস্ব চিত্র