বিশেষ সংবাদদাতা, শিলং: মেঘালয়ের শিলংয়ে খাসি ছাত্রদের কালো পতাকা মিছিল ঘিরে হিংসা। খাসি স্টুডেন্টস ইউনিয়নের ডাকা এই মিছিল ঘিরে বুধবার পরিস্থিতি অগ্নিগর্ভ হয়ে ওঠে। সংগঠনের সমর্থকরা স্বামী বিবেকানন্দ ও নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর মূর্তিও ভাঙচুর করেছে বলে অভিযোগ। এই ঘটনায় বৃহস্পতিবারও শিলংয়ের পরিস্থিতি ছিল থমথমে। শহরের সর্বত্র দোকানপাট ছিল বন্ধ। রাস্তাঘাট ছিল ফাঁকা।
এর রেশ পড়ে পার্শ্ববর্তী রাজ্য অসমেও। বুধবার অসমের একাধিক গাড়ির উপর হামলা চালায় সংগঠনের ছাত্ররা। এর জেরেই মেঘালয়ে যাওয়ার পথে খানাপাড়া ও জোরাবাটে অসমের যান চালকেরা রাস্তা অবরোধ করেন। অভিযোগ, বুধবারের মিছিল চলাকালীন অন্তত ৩১টি গাড়িতে ভাঙচুর চালানো হয়। কয়েকটি সরকারি গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয় এবং একাধিক যান চালক সহ পথযাত্রীদের মারধর করা হয়। এঘটনায় বুধবার গভীর রাতে কেএসইউ-র তিন শীর্ষ নেতাকে গ্রেফতার করে পুলিশ। তাঁদের পুলিশ হেপাজতের নির্দেশ দিয়েছে আদালত।
উল্লেখ্য, মেঘালয় রেসিডেন্টস সেফটি অ্যান্ড সিকিউরিটি অ্যাক্ট কার্যকর, মেঘালয় পাবলিক সার্ভিস কমিশন ও জেলা সিলেকশন কমিটির মাধ্যমে নিয়োগ ব্যবস্থায় সংস্কার এবং পরিযায়ী শ্রমিকদের উপর আরও কড়া নিয়ন্ত্রণ সহ পাঁচ দফা দাবিতে মিছিলের ডাক দিয়েছিল কেএসইউ। বুধবার সন্ধ্যায় শিলংয়ে মিছিল চলাকালীন পুলিশ ও সাধারণ মানুষকে লক্ষ্য করে পাথর নিক্ষেপ, ভাঙচুর এবং গাড়িচালক ও যাত্রীদের উপর হামলার অভিযোগ ওঠে।
খাসি হিলসের পুলিশ সুপার বিবেক সিয়েম জানিয়েছেন, ‘বুধবারের হিংসাত্মক ঘটনায় বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। শিলংয়ের বিভিন্ন এলাকায় পাথর নিক্ষেপ ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। সরকারি ও বেসরকারি গাড়ির উপর হামলা করা হয়েছে। রিলিফ অ্যান্ড রিহ্যাবিলিটেশন কলোনিতে স্বামী বিবেকানন্দ ও নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর আবক্ষ মূর্তিতেও ভাঙচুর চালানো হয়েছে। এই ঘটনার জেরে অসম-মেঘালয় সীমানায় ফের নতুন করে অশান্তি দেখা দিয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশ ও প্রশাসন কাজ করছে’।