Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

‘হিংসা বরদাস্ত নয়, সব ধর্মের মানুষ নির্ভয়ে থাকুন’, বার্তা আসানসোলের বিধায়কে

দেড় দশক পর আসানসোলে ক্ষমতার বদল। শিল্পাঞ্চলের রাজনীতিতে ‘চাণক্য’ বলে পরিচিত মলয় ঘটককে পরাজিত করে আসানসোল উত্তর বিধানসভায় জিতেছেন বিজেপি প্রার্থী কৃষ্ণেন্দু মুখোপাধ্যায়। ফলে আসানসোলের উন্নয়নের রাশ অনেকাংশেই যেতে চলেছে কৃষ্ণেন্দুর হাতে।

‘হিংসা বরদাস্ত নয়, সব ধর্মের মানুষ নির্ভয়ে থাকুন’, বার্তা আসানসোলের বিধায়কে
  • ৬ মে, ২০২৬ ১৩:০৫
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, আসানসোল: দেড় দশক পর আসানসোলে ক্ষমতার বদল। শিল্পাঞ্চলের রাজনীতিতে ‘চাণক্য’ বলে পরিচিত মলয় ঘটককে পরাজিত করে আসানসোল উত্তর বিধানসভায় জিতেছেন বিজেপি প্রার্থী কৃষ্ণেন্দু মুখোপাধ্যায়। ফলে আসানসোলের উন্নয়নের রাশ অনেকাংশেই যেতে চলেছে কৃষ্ণেন্দুর হাতে। জেতার পরদিনই রামকৃষ্ণ মিশনের এই প্রাক্তনী আসানসোলের উন্নয়ন নিয়ে তাঁর ভাবনা তুলে ধরেছেন। 

Advertisement

মঙ্গলবার সকালে তিনি হাজির হন আসানসোল রামকৃষ্ণ মিশন আশ্রমে। এই আশ্রমের স্কুল থেকেই তাঁর পড়াশোনা। মন্দিরে প্রণাম করার পাশাপাশি মিশনের সম্পাদক স্বামী সৌমাত্মানন্দকে প্রণাম করে আশীর্বাদ নেন। তারপরই দলীয় কার্যালয়ে বসে জানান আসানসোল নিয়ে তাঁর পরিকল্পনার কথা। শিল্প শহর আসানসোলের এখন বড় সমস্যা মাদক। মুর্শিদাবাদ, মালদা থেকে বীরভূম হয়ে মাদক আসছে আসানসোলে। একাধিক মাদক চক্র সক্রিয়। তারাই সেই মাদক আসানসোলের নানা প্রান্তে সুকৌশলে ছড়িয়ে দিচ্ছে। যুব সম্প্রদায় সেই মাদক খেয়ে নিজেদের ভবিষ্যত অন্ধকার করে তুলছে। যুবকদের পাশাপাশি কিশোরী, যুবতীদের মধ্যেও এই নেশা বাড়ছে। কৃষ্ণেন্দু মুখোপাধ্যায় বলেন, ‘আসানসোলে মাদক কারবার বন্ধ করবই। কোনো মতেই যুব সম্প্রদায়কে আমরা নষ্ট হতে দিতে পারি না।’ 
আসানসোলকে ভাতৃত্বের শহরও বলা হয়। সেই শহরেই বস্তিন বাজারের দুর্গা মন্দির নিয়ে বিতর্কের অন্ত নেই। অভিযোগ ওঠে, একটি সম্প্রদায়কে তুষ্ট করতে মন্দিরে নিত্যপুজো বন্ধ রাখা হয়। দুর্গাপুজোর চারদিনই মাত্র মন্দিরে পুজো হয়। যদিও অন্যপক্ষের দাবি, বিষয়টি আদালতে বিচারাধীন। সোমবার বিজেপি জেতার পরই আসানসোলের বস্তিন বাজারে মন্দিরের দরজা খুলে পুজো করা হয়। বহু বিজেপি কর্মী সমর্থক সেখানে জমায়েত হন। এনিয়ে কৃষেন্দু মুখোপাধ্যায় বলেন, ‘একটি সম্প্রদায়কে তুষ্ট করার জন্য মন্দিরে পুজো বন্ধ রাখা হয়েছিল। সোমবার পুজো হয়েছে। প্রশাসনের অনুরোধে আমি সেখানে যাইনি। ১০ মে পর সেখানে গিয়ে পুজো করব।’ এনিয়ে প্রাক্তন মন্ত্রী মলয় ঘটক বলেন, ‘আমি যতটুকু জানি বিষয়টি বিচারাধীন।’ যদিও মন্দির ট্রাস্টের সদস্যদের দাবি, ‘আদালত বহুদিন আগেই পুজোর অনুমতি দিয়েছিল।’ 
একদিকে যখন বিজেপির জেতার পর মন্দিরে পুজো শুরু হয়েছে। মঙ্গলবারও সেই মন্দিরে বহু মানুষ ভিড় করেছেন। তেমনি বহু মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষ বিজেপির জয়ের পর দোকান খোলেননি। আসানসোলে মুসলিম সম্প্রদায়ের হাজার হাজার মানুষ রয়েছেন। তাঁদের বহু দোকান রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে কৃষেন্দু মুখোপাধ্যায় বলেন, ‘আমি স্পষ্টভাবে জানাচ্ছি আসানসোল সব সম্প্রদায়ের মানুষ স্বাভাবিক জীবন যাপন করবে। যাঁরা ব্যবসায়ী, দোকান করেন, তাঁরা দোকান করুন। কোনো সমস্যা হলে আমাকে বা আমাদের কার্যকর্তাদের জানান।’ 
বিজেপির জয়ের পরই আসানসোলে একের পর এক তৃণমূল কার্যালয় ভাঙচুর হয়েছে। বহু কার্যালয় দখল করে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। তৃণমূল নেতাকর্মীদের আক্রান্ত হওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে আসানসোল দক্ষিণ থানার আইসিকে ক্লোজ করে দায়িত্বে আনা হয়েছে শিল্পাঞ্চলের দুঁদে অফিসার বিশ্বজিৎ মুখোপাধ্যায়কে। এই প্রসঙ্গে বিজেপির জয়ী প্রার্থী বলেন, ‘আমি সোমবার রাত তিনটে পর্যন্ত রাস্তায় ছিলাম। বহু তৃণমূল কাউন্সিলারের বাড়ি গিয়ে খোঁজ নিয়ে এসেছি। যারা এটা করছে তারা দুষ্কৃতী। পুলিশকে বলেছি কঠোর ব্যবস্থা নিতে। আমাদের আমলে হিংসা বরদাস্ত করা হবে না।’  কৃষ্ণেন্দু মুখোপাধ্যায়।

সম্পর্কিত সংবাদ