


নিজস্ব প্রতিনিধি, আসানসোল: ভোট গণনার প্রথম রাউন্ডে বিজেপি লিড পেতেই গণনা কেন্দ্রের অদূরে পুলিশ, কেন্দ্রীয় বাহিনীর সামনে তৃণমূল কংগ্রেসের ক্যাম্প গুড়িয়ে দেয় বিজেপি কর্মী সমর্থকরা। সোমবার সকালে আসানসোল থেকে হিংসার ঘটনার সেই সূত্রপাত। তারপর বেলা যত বেড়েছে তৃণমূলকে প্রতিটি আসনে টক্কর দিয়ে এগিয়ে যেতে থাকে বিজেপি। পাশাপাশি হিংসার মাত্রাও বাড়তে থাকে। একের পর এক তৃণমূল কংগ্রেসের ক্যাম্প ও পার্টি অফিস ভাঙচুর হতে থাকে। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে বিজেপি প্রার্থীরা গণনা কেন্দ্র থেকে বেরিয়ে এসে কর্মীদের শান্ত থাকার বার্তা দেন।
রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী মলয় ঘটক বলেন, সুশাসনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল বিজেপি। লিড পেতেই এই অবস্থা, বাংলার মানুষ নিশ্চয় বুঝতে পারবে।
সোমবার সকালে উৎসবের মেজাজেই ভোট গণনা শুরু হয়। দু’দলের প্রার্থীরা উৎসাহ নিয়েই গণনা কেন্দ্রে যান। সকাল ৮টা থেকে গণনা শুরু হয়। সকাল ৯টা থেকেই বিভিন্ন আসনে বিজেপি প্রার্থীরা এগিয়ে যেতে থাকেন। শুরু থেকেই এগিয়ে থাকার খবর আসতেই গণনা কেন্দ্রের অদূরে থাকা তৃণমূল কংগ্রেসের ক্যাম্প অফিসে চড়াও হয় বিজেপির কর্মী সমর্থকরা। তৃণমূল কংগ্রেসের অভিযোগ, বিনা প্ররোচনায় লাঠি দিয়ে মারা হয়। একাধিক তৃণমূল কর্মী রক্তাক্ত হন, দু’জন কর্মীর পা ভেঙে দেওয়া হয়। তাঁদের আসানসোল জেলা হাসপাতালে পাঠানো হয়। তৃণমূলের মহিলা কর্মীরা .কোনো রকমে পার্টি অফিসে ঢুকে রক্ষা পান। একজন মহিলা পুলিশ কর্মীও আক্রান্ত হন। তৃণমূল কংগ্রেস অভিযোগ, পুলিশের সামনেই এই হামলা হয়। বেশ কিছুক্ষণ পর পুলিশ কমিশনার প্রণব কুমারের নেতৃত্ব পুলিশ সক্রিয় হয়। কেন্দ্রীয় বাহিনী বিজেপি কর্মীদের উপর লাঠি চার্জ করে। বিজেপি কর্মীদের ফিরিয়ে নিয়ে যায় জেলা নেতৃত্ব। ঘটনার রেশ দিনভর থেকে যায় জেলার অন্যত্র। কিছুক্ষণ পরেই খবর আসে, জামুড়িয়া থানার চুরুলিয়ায় তৃণমূল পার্টি অফিস ভাঙচুর করে আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয়েছে। তার কিছু পরেই জামুড়িয়ার খাস কেন্দায় তৃণমূল কংগ্রেসের পার্টি অফিসে ভাঙচুর হয়। জামুড়িয়ায় তৃণমূলের পুনিয়াটি ওয়ার্কশপের পার্টির অফিসও ভাঙচুর করা হয় বলে অভিযোগ।
অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতি সৃষ্টি হয় বারাবনি বিধানসভা এলাকায়। বারাবনির বিধানসভার পানুরিয়ায় তৃণমূল কংগ্রেসের শিবিরে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। ভাঙচুর করা হয় তৃণমূল পার্টি অফিস। বারাবনির তৃণমূল ব্লক সভাপতি অসিত সিংয়ের দাসকেয়ারির বাড়িতে দুষ্কৃতীরা ভাঙচুর চালায় বলে অভিযোগ। সালানপুর ব্লকের রূপনারায়ণপুরে তৃণমূল কংগ্রেস কার্যালয়ে ব্যাপক ভাঙচুর করা হয়। কার্যালয়ের সামনে থাকা বাইকগুলিও ভেঙে দেওয়া হয়।
অশান্তির আঁচ ছড়িয়ে পড়ে আসানসোল দক্ষিণ বিধানসভা এলাকাতেও। সেখানে বেশ কয়েকটি তৃণমূল কার্যালয়ে ভাঙচুর করা হয়। আসানসোল উত্তরের একাধিক কার্যালয় বিজেপি দখল করে নিয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন আসানসোল পুরসভার চেয়ারম্যান অমরনাথ চট্টোপাধ্যায়।
জেলাজুড়ে এই অশান্তির মাঝেই নিজের গণনা অসম্পূর্ণ রেখেই বেরিয়ে আসেন রানিগঞ্জের বিজেপির আইনজীবী প্রার্থী পার্থ ঘোষ। তিনি বলেন, বিজেপি এই ধরনের কোনো অশান্তি বরদাস্ত করে না। দল এর দায় নেবে না। আসানসোল দক্ষিণের বিজেপি প্রার্থী অগ্নিমিত্রা পল বলেন, তৃণমূল মানুষের উপর অত্যাচার করেছে। তাঁদের ক্ষোভ ঝরে পড়ছে। তবুও আমি বলব, আমরা তৃণমূল নই। আপনারা কোনো অশান্তি করবেন না।-নিজস্ব চিত্র