Bartaman Logo
৪ জুলাই, ২০২৬

ফের হিংসা মণিপুরে, কুকি স্ত্রীর সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে খুন মেইতেই যুবক

হাতজোড় করে প্রাণ ভিক্ষা চেয়েও রেহাই মিলল না। ফের নৃশংস হত্যার সাক্ষী থাকল জাতি হিংসা বিধ্বস্ত মণিপুর।

ফের হিংসা মণিপুরে, কুকি স্ত্রীর সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে খুন মেইতেই যুবক
  • ২৩ জানুয়ারি, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

বিশেষ সংবাদাতা, ইম্ফল:  হাতজোড় করে প্রাণ ভিক্ষা চেয়েও রেহাই মিলল না। ফের নৃশংস হত্যার সাক্ষী থাকল জাতি হিংসা বিধ্বস্ত মণিপুর। ক্যামেরার সামনেই গর্জে উঠল জঙ্গিদের একে সিরিজের অ্যাসল্ট রাইফেল। মাটিতে লুটিয়ে পড়লেন মায়াংলামবাম ঋষিকান্ত সিং নামে আঠাশ বছরের এক যুবক। নির্মম সেই হত্যার ভিডিও সমাজমাধ্যমে ভাইরাল। সেখানে লেখা, ‘নো পিস, নো পপুলার গভর্নমেন্ট।’ শব্দবিহীন হাড়হিম করা ভিডিওতে দেখা গিয়েছে, রাতের অন্ধকারে পাহাড়ি এলাকায় হাঁটু মুড়ে বসে ওই যুবক। করজোড়ে জীবন ভিক্ষা চাইছেন তিনি। আচমকাই আলোর ঝলকানি। সঙ্গে সঙ্গে মুখ থুবড়ে পড়েন ওই যুবক।

Advertisement

বুধবার গভীর রাতে রাজধানী ইম্ফল থেকে ৬৫ কিলোমিটার দূরে চুড়াচাঁদপুর জেলায় এই ঘটনাটি ঘটেছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, অপহরণ করে ঋষিকান্তকে খুন করা হয়েছে। তাঁর স্ত্রী সি হাওকিপ কুকি সম্প্রদায়ের। উপত্যকার কাকচিং খুনৌয়ের বাসিন্দা ঋষিকান্ত নেপালে কাজ করতেন। ছুটিতে বাড়ি ফিরেছিলেন। স্ত্রীর সঙ্গে দেখা করতে কুকি ন্যাশনাল অর্গানাইজেশন (কেএনও) এবং তুইবং জেলা সদর দপ্তরের কাছ থেকে অনুমতিও নিয়েছিলেন ঋষিকান্ত। যদিও কেএনও সরাসরি এধরনের কোনো অনুমতির কথা অস্বীকার করেছে। বৃহস্পতিবার সংগঠনের তরফে এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ঋষিকান্তের আসার বিষয়ে কোনও আগাম খবর তাদের কাছে ছিল না। এই ঘটনার সঙ্গে সংগঠনের কোনও সম্পর্ক নেই। বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, ভিন সম্প্রদায়ের সঙ্গে বিবাহিতদের বিরুদ্ধে এমন পদক্ষেপ সংগঠনের নীতির পরিপন্থী।

উল্লেখ্য, কেএনও ‘সাসপেনশন অব অপারেশনস’ (এসওও) চুক্তির আওতায় থাকা কুকি জঙ্গি গোষ্ঠীগুলোর একটি শাখা সংগঠন। এদিকে, ইউনাইটেড কুকি ন্যাশনাল আর্মির বিরুদ্ধে অভিযোগের আঙুল উঠেছে। যদিও ওই সংগঠন অভিযোগ খারিজ করে দিয়েছে। পুলিস সুপার জানিয়েছেন, ভাইরাল ভিডিও থেকেই এই হত্যার খবর পায় পুলিস। বুধবার গভীর রাতে দেহ উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়।  ইতিমধ্যেই তদন্ত শুরু হয়েছে।

প্রসঙ্গত, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ২৪ ঘন্টা আগেই মনিপুরবাসীকে রাজ্য প্রতিষ্ঠা দিবস উপলক্ষে শুভেচ্ছা জানিয়েছিলেন। প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন, আগামীদিনে মণিপুর অবিচলভাবে উন্নয়নের পথে এগিয়ে যাক। প্রধানমন্ত্রীর বার্তার পরই ফের অশান্ত মণিপুর। স্থানীয়দের দাবি, অশান্তি ও ভয়ের পরিবেশ তৈরি করতেই এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে জঙ্গিরা।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ